রবিবার | মার্চ ০৭, ২০২১ | ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭

আন্তর্জাতিক খবর

‘লাল কার্ড দেখানো’ ট্রাম্পের বিদায়

আল-আমিন হুসাইন

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০১৫ সালের আগেও যিনি কেবল টেলিভিশন কমেডিয়ান এবং ব্যবসায়ী হিসেবে মার্কিনিদের কাছে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু কে জানত তিনি রাতারাতি ভোল পাল্টে রাজনীতিক হবেন, খেলবেন অপরিণামদর্শী খেলা, দেখাবেন ভেলকি, তৈরি করবেন কলঙ্কময় ইতিহাস। অনিশ্চয়তা, মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা, দাম্ভিকতা, উত্তেজনা, অঘটন, বিজ্ঞানের ভুল ব্যাখ্যা দেয়া থেকে শুরু করে মিডিয়ার একহাত নেয়া সবকিছুই করে গেছেন অবলীলায়। সবকিছুই তাকে দিয়ে সম্ভব হয়েছে, কারণ ব্যক্তিটি যে ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক কথায় তাই ট্রাম্পকে অবিমৃষ্যকারী, অঘটনঘটনপটীয়সী তো বলাই যায়। নিভৃতচারী উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সঙ্গে যেন ‘বন্ধু তুমি, শত্রু তুমি’ খেলায় মেতেছিলেন তিনি, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী চীনের লাগাম টেনে ধরতে একের পর চেলেছেন দাবার গুঁটি। কিন্তু শেষটা যেন নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গের মতো ফিরে এসেছে তার দিকেই। মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের অস্তিত্ব ধরে রাখতে ইরানের ওপর আরোপ করেছেন একের পর এক অবরোধ, আবার ইসলামিক বিপ্লবের দেশটিকে যুদ্ধের মাঠে আনতে করেছেন নানা ফন্দিফিকির। বিপরীতে প্রক্সি সিকিউরিটি ও প্রক্সি ওয়ারের জন্য ইসরায়েলের হাত শক্ত করেছেন অনেকটা প্রকাশ্যেই।

গত চার বছরে ট্রাম্পের অসংখ্য এমন কর্মকাণ্ড ফলাও করে প্রচারিত হয়েছে গণমাধ্যমে। মিডিয়ার শিরোনাম হয়ে ছিলেন পুরো সময়টাই। তবে মিডিয়ায় অন্যতম হিসেবে বেশি আলোচনায় ছিলেন সম্ভবত প্রকাশিত সংবাদকে ফেক নিউজের ট্যাগ লাগানোর কারণে। গণমাধ্যমের সঙ্গে যেন ট্রাম্পের সাপে-নেউলে সম্পর্ক। কোনো সংবাদ তার বিরুদ্ধে গেলেই সেটিকে ফেক নিউজ বলে চাউর করতে মোটেই ভাবতেন না তিনি। সবকিছুই ছাপিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাই পরাজয় না মেনে জালিয়াতির অভিযোগ তোলেন। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেও লাভ হলো না। ফলে আঙুর ফল টকের মতো নির্বাচনের জালিয়াতির বচন আউড়িয়ে হোয়াইট হাউজ ছাড়লেন ট্রাম্প। এমন স্বভাবজাত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পরিচয়ের চেয়ে গত চার বছর গণমাধ্যমে তাই ব্যক্তি ডোনাল্ড ট্রাম্পই বেশি মুখ্য হয়ে উঠেছিলেন। এ পুরো সময়টাতে ট্রাম্প গোয়েবলসীয় কায়দায় গণমাধ্যমের খবরকে কীভাবে ফেক নিউজ আখ্যা দিয়েছেন, সত্যকে কীভাবে মিথ্যায় পরিণত করার চেষ্টা করেছেন এসবই এ লেখার মূল বিষয়।

এ আলোচনার শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় প্রেসিডেন্ট, আমেরিকার ফাউন্ডিং ফাদার ও আমেরিকার ‘ডিক্লারেশন অব ইনডিপেন্ডেন্স’-এর প্রধান প্রণেতা থমাস জেফারসনের একটি উক্তি দেয়া যেতে পারে। ১৭৮৭ সালে থমাস তার এক বন্ধুকে লেখা চিঠিতে বলেছিলেন, ‘if he had to choose between a government without newspapers or newspapers without a government, I should not hesitate a moment to prefer the latter. যার অর্থ হলো ‘আমাকে যদি সংবাদপত্রবিহীন সরকার বা সরকারবিহীন সংবাদপত্র—এ দুইয়ের মধ্যে একটি বেছে নিতে বলা হয়, তাহলে আমি পরেরটিই অর্থাত্ সরকারবিহীন সংবাদপত্রকেই বেছে নেব। গণমাধ্যমের প্রতি অগাধ বিশ্বাস থাকা জেফারসন সে সময় তার বন্ধুকে চিঠিতে আরো লিখেছিলেন, ‘জনগণই হচ্ছে শাসকদের সেন্সর। সংবাদপত্রে সরকারের ভুলত্রুটি সবচেয়ে ভালোভাবে ধরা পড়ে। আর সরকার চাইলে সে ভুল সহজেই শোধরাতে পারে।’

জেফারসন তার সেই বক্তব্যে গণমাধ্যমকে সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে সহায়ক হিসেবে দেখেছিলেন। তবে সেই তিনিও প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পর আর গণমাধ্যমকে বন্ধু ভাবতে পারেননি। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তার সুর ছিল, ‘সংবাদপত্রে প্রকাশিত কোনো কিছুই আর বিশ্বাস করা যায় না। কারণ সংবাদপত্রে ছাপা হওয়া মাত্রই সত্য আর সত্য থাকে না।’ ক্ষমতার সহজজাত প্রবণতাই হয়তো এমন, যে নিজের বিরুদ্ধে গেলেই সেটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়। সেই আমেরিকারই সদ্য বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একইভাবে গণমাধ্যমের খবরকে ফেক বা মিথ্যা বলার ক্ষেত্রে সবার চেয়ে এগিয়ে ছিলেন।

নিজের স্বার্থের বিরুদ্ধে গেলেই সেই সংবাদকে তিনি টুইট করে ফেক নিউজ বা ভুয়া খবর বলে আখ্যা দিয়েছেন। গত চার বছরে কত শতবার এমন টুইট করেছেন তার ইয়ত্তা নেই। তবে সর্বশেষ ট্রাম্পের রক্ষা হয়নি। টুইটার কর্তৃপক্ষ তার ক্রমাগত মিথ্যাচারের লাগাম টেনে ধরতে শেষ পর্যন্ত তার টুইটার বন্ধ করে দেয়।

তার এ ফেক নিউজ শব্দটি চাউর করার ক্যাম্পেইনটি শুরু হয়েছিল মূলত ২০১৫ সাল থেকে তার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার মধ্য দিয়ে, যা শেষ অবধি অব্যাহত ছিল। সেই সময় থেকে ওভাল অফিস ছেড়ে যাওয়া পর্যন্ত ট্রাম্প কীভাবে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ তথা গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে লেগে ছিলেন সেটিই এ লেখার মূল বিষয়। 

ট্রাম্প মূলত লাগাতারভাবে গণমাধ্যমের সমালোচনায় পঞ্চমুখ ছিলেন। কারণ তিনি হয়তো হিটলারের প্রচারমন্ত্রী যোসেফ গোয়েবলসের মতো বিশ্বাস করতেন একটি মিথ্যাকে বারবার প্রচারের মধ্য দিয়ে সেটিকে সত্য বলে প্রমাণ করা যায়। ট্রাম্পের এ ফর্মুলা কিছুটা কাজও দিয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলিপ মেরিল কলেজ অব জার্নালিজমের ডিন লুসি ডালগিলিস মনে করেন, ট্রাম্প গত চার বছরে প্রকাশ্যে যেভাবে গণমাধ্যমে সমালোচনা করেছেন, তাতে একক ব্যক্তি হিসেবে মিডিয়ার জন্য তিনি অপরিমিত ক্ষতি করে গেছেন। মিডিয়াকে ফেক, লায়ার, এনিমি, ডিজঅনেস্ট এমন শব্দে সম্বোধন করে তিনি গণতন্ত্রের এই সহযোগী মাধ্যমের অখণ্ডতা এবং সততাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছেন। 

মার্কিন প্রেস ফ্রিডম ট্র্যাকারের তথ্যের বরাত দিয়ে প্রেস গেজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর থেকেই গত চার বছরে কেবল টুইটারের মাধ্যমেই ট্রাম্প মিডিয়ার নাম উল্লেখ করে, স্বভাবজাত বিভিন্ন কুিসত বিশেষণ ব্যবহার করে ২ হাজার ৫২০ বার টুইট করেছেন। এছাড়া মিডিয়াবিরোধী টুইটের কোনো হিসাবই নেই। বিশেষ করে দ্বিতীয়বারের নির্বাচনী ক্যাম্পেইন ও নভেল করোনাভাইরাস নিয়ে মিডিয়ার ওপর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে অগণিত টুইট করেছেন তিনি। এসব মিডিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি টার্গেটে ছিল সিএনএন। মার্কিন গণমাধ্যমটি ট্রাম্পের টুইট আক্রমণের শিকার হয়েছেন ২৫১ বার। এর পরই রয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। গণমাধ্যমটির বিরুদ্ধে ট্রাম্প টুইট করেছেন ২৪১ বার। এমনকি প্রকাশিত সংবাদ ও মতামতকে মিথ্যা আখ্যা দিয়ে সিএনএন, নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্টের মতো প্রভাবশালী গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক সংস্থা কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টের অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর কোর্টনি র‌্যাডসের মতে, একটি গণমাধ্যমকে তার বিশ্বস্ততা তৈরি করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সেটিকে ধ্বংস করা যায় নিমিষেই। এটি শুধু একক ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য নয়। বরং রাজনৈতিক নেতারাই ফেক নিউজের একটি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করে দিচ্ছেন। অনেক দেশে সংবাদ আইনের বিভিন্ন ধারার মারপ্যাঁচে ফেলা হচ্ছে। তবে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমের জন্য যে ক্ষতি হয়ে গেল, সেটি পুনরুদ্ধারে অনেক দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হবে। 

বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কেবল গণমাধ্যমের সমালোচনা, কুত্সা করেই ক্ষান্ত হননি। ক্ষমতার চার বছরে গণমাধ্যমের তথ্যের অবাধ প্রবাহও বন্ধ করেছেন। সাধারণত হোয়াইট হাউজের নিয়মিত ব্রিফিং গণমাধ্যমের জন্য প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানানোর অন্যতম সুযোগ। কিন্তু ক্ষমতার পুরো সময়টাতে ট্রাম্প এ ব্রিফিং কমিয়ে দিয়েছেন। প্রেস ফ্রিডম ট্র্যাকারের তথ্য অনুযায়ী, ওবামা প্রশাসনের আমলে আট বছরে ১ হাজার ১০০টি প্রেস ব্রিফিং হয়েছিল। যেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে এটির সংখ্যা ছিল ৩০০টি। মূলত ২০১৮ সাল থেকে ব্রিফিংয়ের সংখ্যা কমাতে শুরু করেন ট্রাম্প। আর ২০১৯ সালে এসে এটিতে এক রকম ভাটাই পড়ে। আর ব্রিফিংয়ের সংখ্যা কমানোর কারণেই সাংবাদিকরা হোয়াইট হাউজের বিভিন্ন উত্স থেকে অফ দ্য রেকর্ডে তথ্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন। যেটিকে ফেক নিউজ আখ্যা দেয়া ট্রাম্পের জন্য আরো সহজ করে তোলে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, প্রশাসনের তথ্যের প্রকাশ রোধ করার অংশ হিসেবে ট্রাম্প এ ব্রিফিং কমিয়ে আনেন।

এছাড়া গণমাধ্যমের প্রতি ট্রাম্পের এমন আগ্রাসী মনোভাব দেশটিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলার ঘটনাও বাড়াতে উত্সাহ দিয়েছে বলে মনে করা হয়। দেশটিতে সংগঠিত হওয়া ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনের সময় দেশটির ৯০০ সংবাদকর্মী হামলার সম্মুখীন হয়। ২০১৭ সালের তুলনায় ২০২০ সালে এসে দেশটির গণমাধ্যম কর্মীদের আগ্রাসী ঘটনার সংখ্যা ১২ গুণ বৃদ্ধি পায়। আর শারীরিকভাবে নির্যাতনের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় আট গুণ।

গণমাধ্যমের প্রতি ট্রাম্পের এমন আগ্রাসী মনোভাব কেবল দেশটিতে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ট্রাম্পের এমন মনোভাব তুরস্ক, চীন, মিসর, ইরান, ফিলিপাইন ও রাশিয়ার মতো দেশগুলোর নেতাদেরও উত্সাহী করেছে। যার ফলাফল দেখা যায়, ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও কারাবাসের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টের (সিপিজে) তথ্য বলছে, ২০২০ সালে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ২৭৪ জন সাংবাদিককে কারাবাস করতে হয়েছে। এর মধ্যে কেবল মিসরেই ৩৪ জন সাংবাদিককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসির সরকার ট্রাম্পের আদলে প্রকাশিত সংবাদকে ‘ফলস নিউজ’ আখ্যা দিয়ে এসব সাংবাদিককে কারাগারে পাঠান। 

গণমাধ্যমের প্রতি ট্রাম্পের যে ক্ষোভ, সেটি প্রত্যক্ষ-পরোক্ষাভাবে বিভিন্ন সময় প্রকাশও পেয়েছে। এরই অংশ হিসেবে একবার তো রসিকতার ছলে গণমাধ্যমকে রীতিমতো লাল কার্ড দেখাতেও ভোলেননি তিনি। ঘটনাটি ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ের। ওই সময় ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে হোয়াইট হাউজে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। উদ্দেশ্য কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা। ট্রাম্পের আমন্ত্রণে সে সময় খালি হাতে যাননি ফিফা সভাপতি। সঙ্গে নিয়ে যান ট্রাম্পের জন্য জার্সি, লাল ও হলুদ কার্ড। আর সেই উপহার পেয়ে সরাসরি উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের লাল কার্ড দেখানোর সুযোগ হাতছাড়া করেননি ট্রাম্প। বিষয়টি ট্রাম্পের স্বভাবজাত মজা হলেও বাস্তবতাও কিন্তু একই। তার শাসনামলের পুরো সময়টাতে মিডিয়াকে তিনি বরাবরই জনগণ ও সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টায় লিপ্ত ছিলেন।

তবে গণমাধ্যমকে শত্রু ভাবা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বরাবরই প্রতিবাদ জানিয়েছে সেদেশের সংবাদমাধ্যম। ট্রাম্পের বিষোদ্গারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে দেশটির ‘দ্য বোস্টন গ্লোব’ পত্রিকা ‘হ্যাশট্যাগ এনিমিঅবনান’ ডাক দেয়। সেখানেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, গণমাধ্যম একযোগে ট্রাম্পের এ গণমাধ্যমের বিরুদ্ধাচরণের বিপক্ষে সম্পাদকীয় লিখবে।

গণমাধ্যমের প্রতি ট্রাম্পের এমন বিদ্বেষ ও নিজের বিরুদ্ধের সংবাদকে ফেক নিউজ ট্যাগ দেয়ার কারণে ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে বোস্টন গ্লোব, ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানসহ যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় ও জাতীয় প্রায় ৩৫০টি সংবাদমাধ্যম একযোগে বিভিন্ন শিরোনামে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল। সেই ট্রাম্প পরাজয় নামের লাল কার্ড পেয়ে এখন বিশ্বের শীর্ষ ক্ষমতাধর ব্যক্তির উপাধি হারিয়ে হোয়াইট হাউজ ছাড়লেন। 

তবে রাজনীতিতে ট্রাম্পের আগমন এলেন, দেখলেন, জয় করলেন এমন হলেও বিদায়টা মোটেই মসৃণ হয়নি। মার্কিন ইতিহাস, রাজনীতি এবং বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ তৈরি করেছেন তিনি। দেশে রাজনৈতিক বিভক্তির নেপথ্যে কুশীলবের ভূমিকা পালন করেছেন। নভেল করোনাভাইরাসে বিধ্বস্ত অর্থনীতি রেখে যাওয়ার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী সরকারের দৃষ্টিতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে কীভাবে রোধ করা যায়, তার পথও সম্ভবত ট্রাম্প দেখিয়ে গেলেন। বাইডেন প্রশাসনের তাই অন্যতম গুরুদায়িত্ব হবে গণমাধ্যমে ভূমিকা, স্বাধীনতাকে বাড়ানো। তবে ট্রাম্প না থাকলেও

দেশে দেশে যেভাবে ট্রাম্পের ফর্মুলা ব্যবহারকারী নেতার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, দেশটিতেও যেভাবে ট্রাম্পের উগ্র সমর্থক তৈরি হয়েছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে বৈশ্বিক গণমাধ্যমের ওপর খড়গহস্ত চালানো নেতার অভাব পড়বে না। তাই ট্রাম্প জমানা শেষ হলেও ট্রাম্পিজম বা ট্রাম্পের মতবাদ, আদর্শ যে সহসাই শেষ হচ্ছে না সেটি সহজেই অনুমেয়। তবে সেসব কথা থাক। গণমাধ্যমকে লাল কার্ড দেখানো ট্রাম্প যে নিজেই জনগণের ভোট নামক ‘লাল কার্ড’ পেয়ে বিদায় নিলেন, সংবাদমাধ্যমের জন্য সেটি কিছুটা হলেও যে স্বস্তি এনেছে, এটা জেনে তো হাঁফ ছাড়াই যায়। কি যায় না?

লেখক: সংবাদকর্মী

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন