সোমবার | মার্চ ০১, ২০২১ | ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭

প্রথম পাতা

করোনায় সরকারের ব্যয় হ্রাস ৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্ব্বর) করোনার প্রভাবে মোট সরকারি ব্যয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দশমিক ৫৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বাজেট ২০২০-২১: প্রথম প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি আয়-ব্যয়ের গতিধারা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জাতীয় সংসদে উপস্থাপনকালে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল।

অর্থমন্ত্রী বলেন, গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশের মোট আমদানি ব্যয় ছিল ৫৪ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের তুলনায় দশমিক ৫৬ শতাংশ কম। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে আমদানি ব্যয় ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১২ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। মূলত মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি কিছুটা কম হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাসের প্রেক্ষাপটে আমদানি ব্যয় হ্রাস পেয়েছে। তবে সরকারের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আসায় অচিরেই আমদানি বিশেষত মূলধন যন্ত্রপাতি আমদানিতে গতি ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রবাসী আয়ে ৪৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী আয় বিগত অর্থবছরের একই সময়ে বৃদ্ধি পেয়েছিল ১৬ দশমিক ৮১ শতাংশ। সরকার কর্তৃক শতাংশ হারে প্রণোদনা প্রদান রেমিট্যান্স প্রেরণ প্রক্রিয়া সহজীকরণের কারণে প্রবাস আয় বিপুলভাবে বেড়েছে। আগামীতে খাতে প্রবৃদ্ধির চলমান ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন অর্থমন্ত্রী।

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে মোট ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ১৭ দশমিক ৯১ শতাংশ। এর মধ্যে পরিচালনসহ অন্যান্য ব্যয় লাখ ৬২ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকা যা মোট জিডিপির ১১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ব্যয় লাখ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা, যা জিডিপির দশমিক ৪৭ শতাংশ। প্রথম প্রান্তিকে মোট ব্যয় হয়েছে ৬২ হাজার ৯১৪ কোটি টাকা বা বাজেটের ১১ দশমিক শূন্য শতাংশ। এর মধ্যে পরিচালনসহ অন্যান্য ব্যয় ৫০ হাজার ২৭০ কোটি টাকা বা বাজেটের প্রায় ১৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ। সার্বিকভাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় মোট ব্যয় দশমিক ৫৭ শতাংশ কমেছে। এছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি ব্যয় ২৬ দশমিক ২৬ শতাংশ পরিচালনসহ অন্যান্য ব্যয় দশমিক ২৮ শতাংশ কমেছে।

কভিড-১৯ মহামারীজনিত বৈশ্বিক বিপর্যয়ের কারণে বাংলাদেশের উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের ধারা কিছুটা শ্লথ হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। জিডিপি প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রেকর্ড দশমিক ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা কমে দশমিক ২৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মাথাপিছু জাতীয় আয় বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে হাজার ৬৪ ডলারে। ২০১৯ সালে দারিদ্র্য অতিদারিদ্র্যের হার কমে যথাক্রমে ২০ দশমিক ১০ দশমিক শতাংশে নেমে এসেছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা খুব শিগগির অনুন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হব। নভেল করোনাভাইরাসের ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর যুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ বিচক্ষণ নেতৃত্বে বাংলাদেশ যথেষ্ট সাফল্য দেখিয়েছে। কভিড মোকাবেলায় সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপ প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের ফলে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন