শুক্রবার | ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২১ | ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭

পণ্যবাজার

করোনাকালে উৎপাদন হ্রাস

ভারতীয় চায়ের বাজারে নতুন সংকট বাড়তি দাম

বণিক বার্তা ডেস্ক

নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারী ভারতীয় চা শিল্পকে টালমাটাল পরিস্থিতিতে ফেলেছে। মহামারী লকডাউনের কারণে শ্রমিক সংকট থেকে ২০২০ সালে দেশটিতে কমেছে চা উৎপাদন। এর বিপরীতে চাহিদা না কমায় ভারতের বাজারে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে পানীয় পণ্যটির দাম। মূল্যবৃদ্ধির জের ধরে শ্লথ হয়ে এসেছে রফতানি চাহিদাও। সব মিলিয়ে গভীর সংকটের মুখে পড়েছে রফতানিমুখী শিল্প। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি বছর ভারতের চা শিল্পকে বাড়তি দামের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে, যা দেশটি থেকে পানীয় পণ্যটির রফতানি কমার পেছনে প্রভাবক হতে পারে। খবর বিজনেস লাইন ইকোনমিক টাইমস।

গত বছরের ২৪ মার্চ ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এক ঘোষণায় করোনা সংক্রমণ এড়াতে ভারতজুড়ে লকডাউন শুরু হয়। লকডাউনে দেশটির প্রায় ১৩০ কোটি মানুষ কার্যত ঘরবন্দি হয়ে পড়ে। সংকটে পড়ে চা শিল্প। শ্রমিকরা ঘরবন্দি থাকায় অসংখ্য বাগান কারখানার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। কমতে থাকে চা উৎপাদন, পরিমাণের হিসাবে যা প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি কেজি। অবস্থা এতটাই শোচনীয় হয় যে কলকাতার নিলামের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দার্জিলিং চায়ের সরবরাহ শূন্যে নেমে আসে।

টি বোর্ড অব ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, করোনা মহামারী লকডাউনের কারণে গত বছর ভারতে চা উৎপাদন ১০ শতাংশ কমে গেছে। দেশটিতে চা উৎপাদনের দুটো কেন্দ্র রয়েছে। আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরাসহ উত্তরাঞ্চল অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি চা উৎপাদন হয়। অন্যদিকে তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, কেরালাসহ দক্ষিণাঞ্চল। করোনায় ভারতের উত্তরাঞ্চলের বাগানগুলোয় চা উৎপাদন ১২ শতাংশ সংকুচিত এসেছে। তবে অভ্যন্তরীণ চাহিদা অপরিবর্তিত থাকায় বাড়তে শুরু করে চায়ের দাম।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে ভারতের বাজারে চায়ের দাম চাঙ্গা হতে শুরু করে। এর পর থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত পানীয় পণ্যটির গড় দাম ৩১ শতাংশ বা কেজিপ্রতি ৪৪ রুপি (স্থানীয় মুদ্রা) বেড়েছে বলে জানিয়েছে টি বোর্ড অব ইন্ডিয়া। এর মধ্যে উত্তর ভারতের নিলামগুলোয় চায়ের গড় দাম বেড়েছে ৩৩ শতাংশ। কেজিতে ৫০ রুপি। আর দক্ষিণ ভারতের নিলামে পানীয় পণ্যটির গড় দাম বেড়েছে ২৯ শতাংশ। কেজিপ্রতি ৩০ রুপি। ২০১৪ সালের পর বর্তমানে ভারতের বাজারে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে চা।

ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ চা উৎপাদনকারী রফতানিকারক দেশ। পানীয় পণ্যটির বৈশ্বিক রফতানি বাণিজ্যের ১২ দশমিক শতাংশ দেশটি এককভাবে জোগান দেয়। আগেই বলা হয়েছে, ভারতের বাজারে চায়ের দাম বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ করোনাকালে উৎপাদন সীমিত হয়ে আসা। তবে এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। ভারতের বাজারে ক্রমশ চাঙ্গা হয়ে উঠেছে চায়ের দাম। কিন্তু পানীয় পণ্যটির বৈশ্বিক রফতানি বাজারে ভারতের অন্যতম প্রতিযোগী দেশ কেনিয়ায় কমতির দিকে রয়েছে দাম। স্বাভাবিকভাবে যেখানে কমে পাবেন, সেখান থেকেই পণ্য কিনবেন আমদানিকারকরা। এর জের ধরে বৈশ্বিক রফতানি বাজারে আগে যারা ভারতীয় চা কিনতেন, তারাও এখন কেনিয়ার প্রতি ঝুঁকতে শুরু করেছেন। পরিস্থিতি ভারতীয় চা শিল্পে নতুন সংকটের জন্ম দিয়েছে।

তো গেল গত বছরের বাজার পরিস্থিতি। এখন প্রশ্ন হলো নতুন বছরে ভারতীয় চা শিল্প কোন পথে হাঁটবে? টি বোর্ড অব ইন্ডিয়া বলছে, করোনাকালে ভারতীয় চা শিল্প প্রায় ১০ কোটি কেজির বিশাল এক ঘাটতির মুখে পড়েছে। ঘাটতি মোকাবেলা করতে অনেক সময় লেগে যাবে। উৎপাদন মহামারী-পূর্ববর্তী অবস্থানে ফিরিয়ে নিতেও সময় লাগবে। ফলে ভারতের বাজারে সহসাই দাম কমছে না চায়ের, যা ভারতীয় চা রফতানিতে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ দীর্ঘমেয়াদে বহাল রাখতে পারে। ২০২১ সালের বড় একটা সময়জুড়ে বাড়তি দাম রফতানি শ্লথতার সংকটের ভেতর দিয়ে যেতে হতে পারে ভারতীয় চা শিল্পকে। আর এমন সংকটময় পরিস্থিতি চায়ের বৈশ্বিক রফতানি বাজারে ভারতকে বিদ্যমান প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে দিতে পারে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন