শুক্রবার | ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২১ | ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

অনিয়ন্ত্রিত মহামারী, বেকারত্ব সর্বোচ্চে

যুক্তরাষ্ট্রকে যেখানে রেখে হোয়াইট হাউজ ছাড়ছেন ট্রাম্প

বণিক বার্তা ডেস্ক

রাজনৈতিকভাবে বিভাজিত এবং অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় আজ হোয়াইট হাউজ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বিতীয় দফায় অভিশংসনের আলোচনা যখন চলছে, তারই মধ্যে খুবই লজ্জাজনকভাবে ওয়াশিংটন ছাড়তে হচ্ছে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টকে। নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগেই ফ্লোরিডার পাম বিচের মার- লাগো ক্লাবে পৌঁছে যাবেন ট্রাম্প। 

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অনেকগুলো কাজেই প্রথম হয়েছেন ট্রাম্প, অবশ্য বেশির ভাগই লজ্জাজনক। যেমন ১৮৬৯ সালে অ্যান্ড্রু জনসনের পর ট্রাম্প প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যিনি তার উত্তরসূরির শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন না। গতকালই ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন বাইডেন তার স্ত্রী জিল বাইডেন। অবশ্য বিষয় সম্পর্কে অবগত কয়েকটি সূত্র বলছে, আগের বিদায়ী প্রেসিডেন্টদের মতো নতুন প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানাবেন না ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজের কাছেই ব্লেয়ার হাউজে উঠেছেন বাইডেন দম্পতি। ৯৪ বছর বয়সী জিমি কার্টার বাদে জীবিত সব সাবেক প্রেসিডেন্টই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে সমর্থকদের লজ্জাজনক হামলার পর ওয়াশিংটনের পাওয়ার সার্কেলে একাকী হয়ে পড়েছেন ট্রাম্প। রাজনৈতিকভাবে দেশটিকে তিনি যে গভীরভাবে বিভাজিত করেছেন, তার সমর্থকদের ওই আগ্রাসী হামলায় তা ফুটে উঠেছে। ট্রাম্প যদিও বারবার দাবি করছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি সেরা জায়গায় নিয়ে গিয়েছেন কিন্তু সাম্প্রতিক উপাত্তগুলো তার পক্ষে যাচ্ছে না। তিনি যখন ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন, তার তুলনায় দেশটির বেকারত্ব হার এক-তৃতীয়াংশ বেড়েছে। আজ ট্রাম্প যখন হোয়াইট হাউজ ছাড়বেন তখন যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মৃতের সংখ্যা চার লাখ ছাড়াবে।

সোমবার প্রকাশিত গ্যালপের জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের অনুমোদন হার ৩৪ শতাংশ। জনপ্রিয়তায় পতনের দিক থেকে তিনি সাবেক দুই প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার জর্জ ডব্লিউ বুশের সঙ্গে অবস্থান করছেন। সীমান্তে দেয়াল এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মতো বেশকিছু জনপ্রিয় পদক্ষেপ নিলেও ক্যাপিটল হিলে সহিংসতা এবং পাঁচজনের মৃত্যুতে তার ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপে বলা হচ্ছে, অর্ধেকের বেশি রিপাবলিকানসহ তিন-চতুর্থাংশ মার্কিন মনে করে ওই হামলার জন্য ট্রাম্পের দায় রয়েছে।

বাইডেনের অভিষেককে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনজুড়ে কড়া সেনা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রহরা। বিপরীতে ট্রাম্পের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সমর্থকও অস্ত্র মহড়া দিচ্ছে, যা মার্কিন ইতিহাসে বিরল ঘটনা।

ট্রাম্প যখন তার মেয়াদের শেষ দিনগুলোয় নির্বাচনী ফলাফল পাল্টে দিতে সব শক্তি ব্যয় করছিলেন, তখন যুক্তরাষ্ট্রে করোনা সংক্রমণ মৃত্যুর সংখ্যা ফুলেফেঁপে উঠেছে। বরাবরই নিজেকে ভালো ব্যবস্থাপক হিসেবে দাবি করে এসেছেন ট্রাম্প। কিন্তু করোনা সংকট মোকাবেলায় আগাগোড়া ব্যর্থতা ওই দাবিকে বাতিল করে দিয়েছে। নভেল করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার তার সরকারের সফলতা দাবি করলেও তা বিতরণে প্রশাসনিক ব্যর্থতার মাধ্যমে সেই পুরনো বৃত্তেই বাধা পড়ে রয়েছেন। ব্লুমবার্গ ভ্যাকসিন ট্র্যাকার বলছে, গত বছরের শেষের দিকে ১০ কোটি ডোজ টিকা সরবরাহ করা হবেট্রাম্প প্রশাসন অঙ্গীকার করলেও গত সোমবার নাগাদ মাত্র কোটি ৪০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়েছে।

অথচ ট্রাম্পের মেয়াদের সেরা সময়ে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা শ্রমবাজার দাবি করার সুযোগ এসেছিল যুক্তরাষ্ট্রের সামনে। মার্কিন বেকারত্ব হার ৫০ বছরের সর্বনিম্নে নেমে এসেছিল। কিন্তু মহামারীর ধাক্কায় সব ওলটপালট হয়ে গেছে। এক বছর আগের তুলনায় বেকারত্ব হার দ্বিগুণ বেড়েছে। তিনি যখন ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন, তার চেয়ে তো বেশিই। বর্তমানে এক কোটির বেশি আমেরিকান বেকার। মহামারী তার করাল থাবা বহাল রাখায় নিয়মিতই চাকরি হারাচ্ছেন অনেকে। জানুয়ারি শেষ হওয়া সপ্তাহে রাজ্যের বেকারত্ব সুবিধার জন্য আবেদন করেছেন প্রায় ১০ লাখ মার্কিন। প্রায় এক বছরের মহামারীতে দেশের অধিকাংশ মানুষের নিত্য খাবারের সংস্থান করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সেনসাস ব্যুরো পরিচালিত এক জরিপে বলা হয়, অন্তত কিছু সময়ের জন্য টেবিলে পর্যাপ্ত অন্নসংস্থান করতে পারেনি প্রায় তিন কোটি মার্কিন। 

সব মিলিয়ে এটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে কেন ট্রাম্পের পক্ষে জয়ী হওয়া কঠিন ছিল। একই সঙ্গে বিষয়টিও পরিষ্কার, বাইডেন প্রশাসনের জন্যও করোনা মোকাবেলা এবং অর্থনীতি চাঙ্গা করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক বিভাজন প্রশমন করাও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তো থাকছেই।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন