রবিবার | মার্চ ০৭, ২০২১ | ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭

দেশের খবর

নান্দাইলে কর্মসৃজন প্রকল্প

শ্রমিকের পরিবর্তে ব্যবহার হচ্ছে যন্ত্র

মুহাম্মদ আলমগীর কবীর, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় ৪০ দিনব্যাপী কর্মসৃজন প্রকল্পে শ্রমিকের পরিবর্তে খননযন্ত্র (এক্সক্যাভেটর) ব্যবহার করছেন জনপ্রতিনিধিরা। এতে কাজ না পেয়ে বঞ্চিত হচ্ছেন হতদরিদ্র মানুষ। অনেক ইউনিয়নে কাজ না করেও প্রকল্পের টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো কাজ হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করতে না পারায় জনপ্রতিনিধিরা কাজে গতি আনতে এখন এক্সক্যাভেটর দিয়ে মাটি কেটে রাস্তায় দিচ্ছেন। এতে যে উদ্দেশ্যে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল তা পূরণ হবে না।

অন্যদিকে জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, কর্মসৃজন প্রকল্পে শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ধরা হয়েছে ২০০ টাকা। টাকার বিনিময়ে অনেক শ্রমিক এখন আর কাজ করতে চান না। তাই বাধ্য হয়েই এক্সক্যাভেটর দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। তবে যেসব এলাকায় শ্রমিক পাওয়া গেছে, সেসব এলাকায় যন্ত্রের ব্যবহার করা হয়নি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসৃজন কর্মসূচির আওতায় প্রথম পর্যায়ে নান্দাইল উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ৯৭টি প্রকল্পে হাজার ৯৬৫ জন শ্রমিকের বিপরীতে কোটি ৯৭ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কাগজে-কলমে ৩০ ডিসেম্বর প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত সব ইউনিয়নেই কাজ চলমান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই উপজেলায় কর্মসংস্থান কর্মসূচি প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজে কোনো নিয়মনীতি মানছেন না প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। কাগজ-কলমে কাজ শুরু হলেও মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে বিপরীত চিত্র। সংশ্লিষ্ট একাধিক জনপ্রতিনিধি নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরুই করেননি। পরবর্তী সময় বাড়ানোর ফলে এরই মধ্যে নিজ নিজ প্রকল্পের সভাপতিরা দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে শ্রমিকের বদলে ভেকু দিয়ে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করছেন। প্রতিদিন ২০০ টাকা মজুরি হিসাবে কাগজপত্রে শ্রমিকের নাম থাকলেও বাস্তবে শ্রমিকের বিপরীতে ভেকু দিয়ে প্রকল্পের কাজ করানো হচ্ছে। -১২ জানুয়ারি পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্প এলাকা ঘুরে এমন অনিয়ম দেখা গেছে। অধিকাংশ প্রকল্পেই কোনো সাইনবোর্ড না টাঙিয়ে তথ্য গোপন করা হয়েছে। বেশির ভাগ প্রকল্পে শ্রমিকের দেখা পাওয়া যায়নি।

মুশুল্লী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. ইকবাল ফারুক মিয়া প্রকল্পে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি কাটার কথা স্বীকার করে বলেন, শ্রমিকের প্রয়োজন নেই, আমার প্রকল্পে মাটি পড়েছে; সেটিই বড় কথা। তবে শ্রমিকের বিপরীতে খননযন্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি চেয়ারম্যান সাহেবই বলতে পারবেন।

ব্যাপারে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কয়েকজন জনপ্রতিনিধি জানান, কর্মসূচি সরকার গরিব মানুষের জন্য চালু করেছে। গরিব মানুষের মজুরির টাকা আত্মসাৎ করা উচিত নয়।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান কবীর জানান, অতিদরিদ্রদের এজন্য প্রকল্প চালু করেছে সরকার। অথচ সে প্রকল্পে দরিদ্ররা কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না। বর্তমানে শ্রমিকদের হাতে কাজ নেই। অনেকেই বেকার বসে আছেন। তাই জনপ্রতিনিধিরা চাইলেই শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে কাজ করাতে পারতেন।

মুশুল্লী ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেকার উদ্দিন ভূইয়া বিপ্লব বলেন, শ্রমিক না পাওয়ায় কয়েকটি প্রকল্পে খননযন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। বাকি প্রকল্পগুলোয় শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। আর দৈনন্দিন ২০০ টাকা রোজে আজকাল কোনো শ্রমিক পাওয়া যায় না।

বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল আলীমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এরশাদ উদ্দিন জানান, আমি প্রকল্পগুলো সরেজমিন দেখছি, অনিয়মের সত্যতা পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে ময়মনসিংহের অন্যান্য উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রকল্পগুলোর মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কাজ চলমান রয়েছে। যদিও কাগজপত্রে দেখানো হয়েছে কাজ শেষ, শ্রমিকরাও তাদের মজুরি পেয়েছেন।

ত্রিশাল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন,আমরা কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ পেয়েছিলাম। ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্পে অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে খননযন্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি অস্বীকার করেন।

ময়মনসিংহ জেলা ত্রাণ পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সানোয়ার হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, শ্রমিকের পরিবর্তে ভেকু দিয়ে কাজ করানোর সুযোগ নেই। ব্যাপারে আমার কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব।

তিনি জানান, প্রকল্পের মেয়াদ ৩০ ডিসেম্বর শেষ হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়নি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন