সোমবার | মার্চ ০১, ২০২১ | ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭

প্রথম পাতা

প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন

২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার নতুন দুই প্রণোদনা প্যাকেজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনা মহামারীর প্রভাব মোকাবেলায় দেশের কুুটির, ক্ষুদ্র মাঝারি শিল্প খাতে গতি সঞ্চার, গ্রামীণ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং অতিদরিদ্র বয়স্ক বিধবাদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নতুন দুটি প্রণোদনা কর্মসূচি অনুমোদন করেছেন। কর্মসূচি দুটিতে মোট বরাদ্দ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। দ্রুতই প্যাকেজ বাস্তবায়ন করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন অনুমোদিত প্রথম প্যাকেজটির আকার হাজার ৫০০ কোটি টাকা। প্যাকেজের আওতায় ক্ষুদ্র, কুটির মাঝারি শিল্প খাত এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য গৃহীত কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন মেয়াদে অর্থ প্রদান করা হবে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র মাঝারি শিল্প (এসএমই) ফাউন্ডেশনকে ৩০০ কোটি টাকা, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র কুটির শিল্প সংস্থাকে (বিসিক) ১০০ কোটি টাকা জয়িতা ফাউন্ডেশনকে ৫০ কোটি টাকা দেয়া হবে।

এছাড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করতে এনজিও ফাউন্ডেশনকে ৫০ কোটি টাকা, সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনকে ৩০০ কোটি টাকা, পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনকে ৩০০ কোটি টাকা, ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনকে ১০০ কোটি টাকা বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডকে ৩০০ কোটি টাকা প্রদান করা হবে। অনুমোদিত দ্বিতীয় প্যাকেজের আওতায় হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশের ১৫০টি উপজেলায় দরিদ্র সব বয়স্ক এবং বিধবা স্বামী পরিত্যক্তা নারীকে ভাতার আওতায় আনা হবে।

জানা গেছে, নতুন অনুমোদিত দুটিসহ মোট ২৩টি প্রণোদনা প্যাকেজের অনুমোদন করেছে সরকার। এসব প্যাকেজের আর্থিক পরিমাণ লাখ ২৪ হাজার ৫৩ কোটি টাকা। এটি দেশের মোট জিডিপির প্রায় দশমিক ৪৪ শতাংশ।

উল্লেখ্য, করোনা মোকাবেলায় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রণোদনা প্যাকেজের বিভিন্ন দিক নিয়ে অর্থ বিভাগ সম্প্রতি তিনটি মতবিনিময় সভা আয়োজন করে। এসব সভা থেকে প্রাপ্ত মতামত নিয়ে প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সভাগুলোয় ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা, ব্যবসায়ী নেতারা, ব্যাংক, উন্নয়ন-সহযোগী দেশ সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন খাতের অংশীজন উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভাগুলোতে করোনা মোকাবেলায় গ্রামীণ অর্থনীতিকে বেগবান করার লক্ষ্যে ব্যাংক ব্যবস্থার পাশাপাশি কুটির, ক্ষুদ্র মাঝারি শিল্প খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি আধাসরকারি সংস্থা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণ কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানো, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নে আরো পদক্ষেপ নেয়া এবং দারিদ্র্য হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অব্যাহত রাখতে পল্লী এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং অতিদরিদ্র অসহায় পরিবারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণের জন্য সুপারিশ করা হয়।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন