রবিবার | মে ০৯, ২০২১ | ২৬ বৈশাখ ১৪২৮

শিল্প বাণিজ্য

হিলি স্থলবন্দর

এইচএস কোড জটিলতায় আবারো চাল আমদানি বন্ধ

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, হিলি

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিতে দেড় বছর পর সম্প্রতি চাল আমদানি শুরু হয়। দেশের বাজারে চালের মূল্য স্বাভাবিক রাখতে ভারত থেকে চাল আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। তবে শুরুর চারদিনের মাথায় আবারো বন্দর দিয়ে চাল আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। আমদানীকৃত চালের এইচএস কোড নিয়ে জটিলতার কারণ দেখিয়ে চারদিন ধরে ভারত চাল রফতানি বন্ধ রেখেছে। এতে করে দেশে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতের অভ্যন্তরে কয়েক হাজার টন চাল আটকা পড়েছে।

হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশীয় কৃষকের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে চাল আমদানিতে ৬২ দশমিক শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। ফলে চাল আমদানিতে পড়তা না থাকায় ২০১৯ সালের ৩০ মে থেকে বন্দর দিয়ে চাল আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। তবে সম্প্রতি চালের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী রুখতে আমদানি শুল্ক দুই দফা কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনে সরকার। এরপর বন্দর দিয়ে চাল আমদানি শুরু হয়।

ভারত থেকে চাল আমদানির অনুমতির পর জানুয়ারি বন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হয়। ওইদিন বন্দর দিয়ে তিনটি ট্রাকে ১১২ টন চাল আমদানি হয়। এর পরের দিন ১০ জানুয়ারি ২০টি ট্রাকে ৮২৮ টন চাল আমদানি করা হয়। একইভাবে ১১ জানুয়ারি আটটি ট্রাকে ৩২৯ টন ১২ জানুয়ারি ২৩টি ট্রাকে ৮৮৪ টন চাল আমদানি হয়। কিন্তু এরপর এইচএস কোড নিয়ে জটিলতা দেখিয়ে গত বুধবার থেকে কোনো চাল আমদানি হয়নি। গতকাল বিকাল ৩টা পর্যন্তও বন্দর দিয়ে কোনো চাল আমদানি হয়নি।

হিলি স্থলবন্দরের চালের কার্য সম্পাদনকারী আমদানিকারক মনোনীত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট রাশেদুল ইসলাম বলেন, চাল আমদানির অনুমতি পাওয়ার পর চারদিন বন্দর দিয়ে চাল আমদানি হয়েছে। এর পর থেকে চালের এইচএস কোড নিয়ে জটিলতা দেখিয়ে বন্দর দিয়ে চাল আমদানি বন্ধ রেখেছে ভারত। ভারতীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এখন বলছে, এইচএস কোড পণ্যের নাম ঠিক করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে চাল আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশে চালের এইচএস কোড রয়েছে নন-বাসমতী হাস্কিং ব্রাউন রাইস। সেটি তারা গ্রহণ করছে না। তারা চাইছে শুধু নন-বাসমতী রাইস। এখন মন্ত্রণালয় থেকে চাল আমদানির অনুমতিপত্রে চালের যে এইচএস কোড দেয়া রয়েছে এর বাইরে তো আমাদের যাওয়ার ক্ষমতা নেই। অজুহাত দেখিয়ে চারদিন ধরে ভারত চাল রফতানি বন্ধ রেখেছে। আজও (গতকাল) বন্দর দিয়ে কোনো চাল রফতানি করেনি। এতে করে আমাদের অনেক আমদানিকারকের কয়েক হাজার টন চাল দেশে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতের অভ্যন্তরে আটকা পড়ে আছে।

চাল আমদানিকারক মামুনুর রশীদ বলেন, হিলি স্থলবন্দরের বিভিন্ন আমদানিকারক প্রায় ৬০ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি পায়। জানুয়ারি থেকে আমদানি শুরুর পর থেকে দেশের বাজারে চালের মূল্য কমতে শুরু করেছিল। এবারে ভারত চাল রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে এইচএস কোডের জটিলতা দেখিয়ে। এতে করে বন্দর দিয়ে চাল আমদানি বন্ধ রয়েছে। কারণে ভারতের অভ্যন্তরে বেশ কয়েকজন আমদানিকারকের কয়েক হাজার টন চাল দেশে প্রবেশের অপেক্ষায় ট্রাক বোঝাই অবস্থায় রয়েছে। এতে করে আমাদের আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ বলেন, সরকারিভাবে চাল আমদানির জন্য যে এইচএস কোড দেয়া হয়েছে, তাতে চারদিন চাল রফতানি করলেও বর্তমানে ভারত বলছে এইচএস কোড ভুল হয়েছে। তারা এখন এলসি সংশোধন করে এইচএস কোড পরিবর্তন করে দিতে বলছে। এখন নতুন করে ব্যাংক থেকে আগের করা এলসিগুলো সংশোধন করে এইচএস কোড পরিবর্তন করে দেয়া হলে তারপর বন্দর দিয়ে আবারো চাল আমদানি শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা (ভারতীয় ব্যবসায়ীরা)

বিষয়ে হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা রিপন রায় বলেন, চারদিন চাল আমদানি হলেও এর পর থেকে আজ পর্যন্ত বন্দর দিয়ে আর চাল আমদানি হয়নি। আমরা যতটুকু শুনেছি, ভারতে ওদের নাকি কি সমস্যা হয়েছে। কারণে তারাই চাল রফতানি করছে না। আর যেহেতু বিষয়টি ভারতীয়, তাই আমাদের কিছু করার নেই। কিন্তু আমাদের তরফ থেকে কোনো ধরনের সমস্যা নেই। আর যদি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কোনো এইচএস কোড পরিবর্তন করে, সেক্ষেত্রে সেটি পেয়ে যাব আমরা।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন