শুক্রবার | ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২১ | ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭

প্রথম পাতা

প্রান্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন

আসছে ১০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রান্তিক পর্যায়ের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ আসছে। প্যাকেজের আওতায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের শতাংশ সুদে ঋণ সহায়তা দেয়া হবে। ঋণ বিতরণ হবে ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান (এমএফআই) বা এনজিওর মাধ্যমে। গতকাল এক ওয়েবিনারে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম তথ্য জানান।

করোনাকালে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ভূমিকা শীর্ষক ওই ওয়েবিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিনিয়র সচিব। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, ১০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ দিতে যাচ্ছি। এরই মধ্যে অর্থমন্ত্রী অনুমোদন করেছেন। আজ (বৃহস্পতিবার) এটি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হচ্ছে। গত অক্টোবরে এটা নিয়ে একটি নীতিমালা তৈরি করতে বলা হয়েছিল।

এর আগে ২০ হাজার কোটি টাকার যে প্রণোদনা দেয়া হয়েছিল সেটার ডিসবার্সমেন্টটা ভালো ছিল না মন্তব্য করে তিনি বলেন, অনেক চাপ প্রয়োগ করেছি, কিন্তু ব্যাংকগুলোর মধ্যে একটা অনীহা ছিল। আরেকটা পরিস্থিতি তারা ফেস করেছে। সেটা হলো তাদের কাছে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার তথ্য ছিল না। এসএমই সেক্টরের গ্রাহকদের সঙ্গে তাদের পরিচিতিটা কম। গত তিন মাসে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংক, এসএমই ফাউন্ডেশন, পিকেএসএফের সঙ্গে প্রচুর আলোচনা করেছি। বড় এমএফআই (ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থা), ক্ষুদ্র এমএফআইগুলোর সঙ্গেও আমরা বসেছি। অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটা টিম করে দিয়েছিলাম। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল, ডিসেম্বরের মধ্যে এটি (প্রণোদনা প্যাকেজ) কেবিনেটে পাঠাব। ডিসেম্বরের মধ্যে অর্থ বিভাগ তাদের মতামত দিয়ে এটিকে অনুমোদন করে দেয়। এখন বাংলাদেশ ব্যাংক ১০ হাজার কোটি টাকা ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি দেবে, সেখানে সরকার সাবসিডি দেবে। এমন একটি প্রস্তাব পাঠাচ্ছি। গ্রাহক পর্যায়ে এটার ইন্টারেস্ট রেট হবে শতাংশ।

প্রণোদনা দেয়ার ক্ষেত্রে পিকেএসএফ সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা খুব জরুরি হবে জানিয়ে সিনিয়র সচিব বলেন, এখানে আমরা টার্গেট করেছি এমএফআইগুলোকেই। তাদের মাধ্যমেই টাকাটা যাবে। কারণ এমএফআই চেনে এসব ক্লায়েন্ট কারা। তাদের যোগাযোগটা ভালো, ব্যাংকের চেয়ে বেশি যোগাযোগ তাদের। আশা করছি, খুব দ্রুত এটা অনুমোদন হবে এবং বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

প্রসঙ্গত, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকার এখন পর্যন্ত বিভিন্ন খাতের জন্য লাখ ২১ হাজার ৩৫৩ কোটি টাকার ২১টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। সেই প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় সিএমএসএমই খাতে চলতি মূলধন দেয়ার জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ এপ্রিল শুরু হওয়া প্যাকেজ থেকে গত ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০ হাজার ৯০০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। ঋণ বিতরণে দেশে ব্যাংকগুলোকে কয়েক দফা তাগাদা দেয়ার পরও এতে গতি আনা সম্ভাব হয়নি।

এর পরই প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ঋণ দেয়ার উদ্যোগ নেয় সরকার। এমএফআইগুলোও এনজিও হিসেবে পরিচিত। তবে সব এনজিও ঋণ দিতে পারবে না। শুধু ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (এমআরএ) থেকে নিবন্ধন পাওয়া এনজিওগুলোই ঋণ দিতে পারবে। এমআরএ থেকে সনদ নেয়া এনজিও এখন ৭০০টি।

ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, পিকেএসএফ করোনাকালে অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবে কাজ করে চলেছে। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সবাই সম্মিলিতভাবে এভাবে কাজ না করলে করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশ সফল হতে পারত না। পিকেএসএফ দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য কাজ করে চলেছে এবং দারিদ্র্য বিমোচন হচ্ছে। আগে দারিদ্র্যের হার ৪১ শতাংশ ছিল, এখন সেটা ২০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। অতিদারিদ্র্যও প্রায় ১০ শতাংশের কাছাকাছি নেমে এসেছে। পিকেএসএফের মতো প্রান্তিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ করা এবং সরকারের নানামুখী উদ্যোগের কারণে এটা সম্ভব হয়েছে।

পিকেএসএফের চেয়ারম্যান . কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, সরকার পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিতরণের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এর মধ্যে ২৫০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। আরো ২৫০ কোটি টাকা আমরা পাচ্ছি দু-একদিনের মধ্যে। সেটাও বিতরণ করা হবে। আমাদের সহযোগী সংগঠন যারা আমাদের সঙ্গে ছিল, তারা স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য মানুষকে সচেতন করেছে। তারা মাস্ক স্যানিটাইজার বিতরণ করেছে। আমরা তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি করেছি।

ওয়েবিনারে পিকেএসএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের করোনাকালে তাদের কার্যক্রমের বিশদ উপস্থাপনা প্রদান করেন। তিনি জানান, করোনাকালে মাঠ পর্যায়ে দশমিক কোটি গ্রাহকের ঋণের কিস্তি আদায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে সহযোগী সংস্থাগুলোও নিজস্ব তহবিল থেকে প্রায় ৩০ কোটি টাকার বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে কোটি টাকা অনুদানও দিয়েছে পিকেএসএফ। সহযোগী সংস্থাগুলো জুলাই-ডিসেম্বর ২০২০ সময়ে মাঠ পর্যায়ে প্রায় ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বিতরণ করেছে। ছয় মাসে পিকেএসএফ নতুন অর্থ প্রবাহ করেছে প্রায় হাজার ২০০ কোটি টাকা। এতে পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহসহ সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা যুক্ত ছিলেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন