বৃহস্পতিবার | জানুয়ারি ২১, ২০২১ | ৮ মাঘ ১৪২৭

আন্তর্জাতিক খবর

ইন্দোনেশিয়ায় প্রাচীনতম প্রাণির গুহাচিত্রের সন্ধান

বণিক বার্তা অনলাইন

মানুষ প্রথম কবে ছবি এঁকেছিল- এমন প্রশ্নের উত্তর হয়তো কখনোই মিলবে না। তবে এখন পর্যন্ত যতো গুহাচিত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে সেগুলোর মধ্যে নিশ্চিতভাবে নির্ধারিত সর্বপ্রাচীনটির বয়স কমপক্ষে ২৮ হাজার বছর। এবার ইন্দোনেশিয়ার একটি গুহায় হাতে আঁকা একটি প্রাণির গুহাচিত্র পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। ধারণা করা হচ্ছে, চিত্রটি প্রায় ৪৫ হাজার ৫০০ বছর আগে আঁকা হয়েছিল।

ছবিটি ঘন রক্তিম গৈরিক বর্ণের রঞ্জক দিয়ে আঁকা। জীবন্ত শূকরের চিত্রটি দিয়ে কোনো দৃশ্য বর্ণনার চেষ্টা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপে লিং টিডঙে নামের একটি গুহার দেয়ালে চিত্রটির সন্ধান পাওয়া যায়।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, গুহাচিত্রটি ওই এলাকায় প্রাচীনকালে মানুষের অস্থিত্বের প্রমাণ দেয়। 

এ নিয়ে সায়েন্স অ্যাডভান্সেস জার্নালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ পেয়েছে। সেই প্রতিবেদনের সহলেখক ম্যাক্সিম অবার্ট বিবিসিকে জানিয়েছেন, যারা এই ছবিটি এঁকেছিল তারা ছিল পরিপূর্ণ আধুনিক মানুষ। তারা ছিল ঠিক আমাদের মতোই। তাদের সবধরনের সক্ষমতাই ছিল এবং যে কোনো ধরনের ছবি আঁকায় ইচ্ছামতো উপকরণ ব্যবহার করতে পারতো।

প্রাচীন নিদর্শনের বয়স নির্ধারণে বিশেষজ্ঞ অবার্ট চিত্রকর্মটির উপরে ক্যালসিয়াম কার্বোনেটের (ক্যালসাইট) আস্তরণের উপস্থিতি পেয়েছেন। সেই ক্যালসাইটের নমুনা নিয়ে তারা ইউরেনিয়াম সিরিজ ‘আইসোটোপ ডেটিং’ ব্যবহার করে চিত্রটির বয়স নির্ধারণ করেছেন। এতে চিত্রটি অন্তত ৪৫ হাজার ৫০০ বছরের পুরনো বলে নিশ্চিত হয়েছেন তারা। তবে অবার্টের ধারণা, গুহাচিত্রটি আরো বেশি পুরনো। কারণ তারা শুধু উপরের আস্তরণটির বয়স নির্ধারণ করেছেন।

শূকরের ছবিটার পেছনের দুটি হাতের ছাপও রয়েছে। গবেষকরা বলছেন, সেসময় আঁকিয়েরা কোন তলে ছবি আঁকার আগে সেখানে হাত রেখে থুঁ-থুঁ ছেটানোর মতো করে রঙ ছিটিয়ে দিতেন। এই ছবিটির ছাপগুলো থেকে রঙের সাথে থাকা অবশিষ্ট লালা থেকে ডিএনএর নমুনা বের করা সম্ভব হবে বলে প্রত্যাশা করছে গবেষক দলটি।

ছবিটি বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো প্রাণির চিত্র হলেও এটিই মানুষের আঁকা প্রাচীন চিত্র নয়। দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রাপ্ত ডুডল আকারের একটি ‘হ্যাশট্যাগ’কেই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে পুরনো চিত্র মনে করা হয়, যা ৭৩ হাজার বছর আগের আঁকা বলে বিশ্বাস করা হয়।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন