বৃহস্পতিবার | জানুয়ারি ২১, ২০২১ | ৮ মাঘ ১৪২৭

দেশের খবর

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি

এক রাত পরেই জামিনে মুক্ত ২২ কর্মকর্তা

বণিক বার্তা অনলাইন

কয়লা খনি দুর্নীতি মামলায় বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক ছয় ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) ২২ জন জামিনে মুক্ত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে তারা জামিনে মুক্ত হয়ে জেলা কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন।

জামিনে মুক্ত হওয়া সাবেক ছয় এমডি হলেন আবদুল আজিজ খান, প্রকৌশলী খুরশীদুল হাসান, প্রকৌশলী কামরুজ্জামান, প্রকৌশলী আমিনুজ্জামান, প্রকৌশলী এসএম নুরুল আওরঙ্গজেব ও প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমেদ।

এর আগে গতকাল বুধবার দুপুরে তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান দিনাজপুরের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মাহমুদুল করিম। তবে বিকেলে আসামিপক্ষের আইনজীবী উচ্চ আদালতে তাদের জামিন আবেদন মামলা ‘পেন্ডিং থাকার’ কাগজপত্র দেখালে আদেশ পরিবর্তন করে জামিন বহাল রাখেন একই আদালতের বিচারক। সেই আদেশের কপি কারাগারে পৌঁছানোর আগেই তাদের হাজতে নেয়া হয়। সন্ধ্যা হওয়ার পর হাজত থেকে আসামি বের করার বিধান না থাকায় কারগারেই রাত কাটাতে হয় তাদের।

কয়লা সরবরাহ না পাওয়ায় ২০১৮ সালের জুলাইয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে কয়লা আত্মসাতের ঘটনাটি আলোচনায় আসে। পরে জানা যায়, ২০০৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়ে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭২৭ দশমিক ৯২ টন কয়লা চুরি হয় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে, যার আনুমানিক মূল্য ছিল ২৪৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

চুরির এ ঘটনা উদঘাটনের পর বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আনিসুর রহমান বাদী হয়ে ২০১৮ সালের ২৪ জুলাই ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে পার্বতীপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দুদকের তফসিলভুক্ত হওয়ায় পরে তা দুদক কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়। দুদক এ মামলার দায়িত্ব দেয় প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক সামসুল আলমকে। শুরুতেই মামলার এজাহারে ১৯ জনকে আসামি করা হলেও তদন্তে পাঁচজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া না যাওয়ায় তাদের মামলা থেকে বাদ দেয়ার সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে এ ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে নতুন করে নয়জনের অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে মামলায় তাদের নাম যোগ করা হয়। ২০১৯ সালের ২১ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক।

সে সময় আদালতে জমা দেয়া দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ২০০৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ২৪৩ কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার ৫০১ টাকার কয়লা খোলাবাজারে বিক্রির মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর সাবেক সাত এমডিসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এরপর দিন ১৬ অক্টোবর দুই এমডিসহ তিনজন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে ওই দিনই তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়। ২০১৯ সালের ১৬ অক্টোবর গ্রেফতারকৃত এবং বাকিরা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত ২০ জন আসামিকে জামিন দেন এবং তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর পর থেকে জামিনে আছেন তারা।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন