বুধবার | জানুয়ারি ২৭, ২০২১ | ১৩ মাঘ ১৪২৭

দেশের খবর

রংপুরে চারটি ব্রিজ নির্মাণ

বন্যা ও কভিডে বন্ধ থাকা কাজ পুনরায় চালু

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, রংপুর

নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কয়েক দফা বন্যার কারণে রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় চারটি ব্রিজ নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়ে যায় গত অক্টোবরে। দীর্ঘ চার মাস পর অবশেষে ব্রিজগুলো নির্মাণে পুনরায় কাজ শুরু হয়েছে। একসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চারটিসহ মোট পাঁচটি ব্রিজের নির্মাণকাজ চালু হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে নগরবাসী। তাই দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছে তারা।

সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল শাখা সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় অর্থায়নে রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড ইমপ্রুভমেন্ট অব ডিফারেন্ট রোডস ইন রংপুর প্রকল্পের অধীন কোটি ১৩ লাখ ৩১ হাজার ৭৭১ টাকা ব্যয়ে চারটি ব্রিজ নির্মাণে প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। প্রথম ব্রিজের অবস্থান সিটি করপোরেশনের ব্যস্ততম সড়ক করনজাই রোডের শ্যামাসুন্দরী খালের ওপর। নির্মাণাধীন ব্রিজের ব্যয় ধরা হয়েছে কোটি ৫৬ লাখ ৮২ হাজার ২৬৯ টাকা। কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বেলাল কনস্ট্রাকশন। দ্বিতীয় ব্রিজের অবস্থান নিউ ইঞ্জিনিয়ার পাড়া সড়কে শ্যামাসুন্দরী খালের ওপর। ব্রিজ নির্মাণে খরচ হবে কোটি ৬৫ লাখ ৪৯ হাজার ২৮০ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লালমনিরহাট জেলার হাকিম নুফা কনস্ট্রাকশন। তৃতীয় ব্রিজের অবস্থান মণ্ডলপাড়া সড়কে শ্যামাসুন্দরী খালের ওপর। ব্রিজটি নির্মাণে ব্যয় হবে কোটি ৩২ লাখ ১০ হাজার ৯৬ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিরাজগঞ্জ জেলার আলমগীর জাহান কনস্ট্রাকশন। চতুর্থ ব্রিজের অবস্থান মাহিগঞ্জ রথবাড়ী এলাকায় ইছামতী ক্যানেলের ওপর। এটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে কোটি ৫৮ লাখ ৯০ হাজার ১২৬ টাকা। কাজটি বাস্তবায়ন করছে রংপুরের আসিপিএল-ইউসি জেভি। একেকটি ব্রিজের দৈর্ঘ্য ৩৯ থেকে ৪৯ ফুট প্রস্থ ১৮ ফুট এবং ১০ থেকে ১২ টন ওজন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন চারটি ব্রিজ নির্মাণে কার্যাদেশ দেয়া হয় গত বছরের ২৯ জুলাই। কিন্তু নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রংপুরে কয়েক দফা বন্যার কারণে প্রায় চার মাস বন্ধ ছিল কাজ।

এদিকে ব্যস্ততম কোতোয়ালি থানা রোডে শ্যামাসুন্দরী খালের ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে আরেকটি ব্রিজ। সরকারি অর্থায়নে জলাবদ্ধতা নিরসন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে ব্রিজটি নির্মাণ করছে রংপুরের ঠিকাদার খায়রুল কবির রানা।

গতকাল সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নিউ ইঞ্জিনিয়ার পাড়ায় সবেমাত্র পুরনো ব্রিজটি ভেঙে জায়গা পরিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া থানা এলাকায় ব্রিজের স্থানে চলছে পাইলিংয়ের কাজ। এছাড়া অন্যান্য ব্রিজের কাজও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ফলে সড়কে চলাচলকারী যানবাহন এবং পথচারীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

রংপুর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আকবর হোসেন বলেন, কিছুদিন আগে সিটি করপোরেশন এলাকার কুকরুল ব্রিজের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় প্রায় এক বছর ভোগান্তি পোহাতে হয়। বর্তমানে নির্মাণাধীন পাঁচটি ব্রিজের অবস্থানই ব্যস্ততম রাস্তায়। তাই ভোগান্তিও বেশি হবে। তার পরও বৃহত্তর স্বার্থে সাময়িক দুর্ভোগ মেনে নিতে হবে। কিন্তু কাজের বিলম্ব যাতে না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, রংপুর এখন বিভাগীয় নগরী। এখানে প্রয়োজনে অনেক ভারী যানবাহন প্রবেশ করবে। তাই ব্রিজের কাজ যাতে নিম্নমানের না হয়, এজন্য কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়াতে হবে।

রংপুর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. এমদাদ হোসেন বলেন, ব্রিজ নির্মাণের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। আগামী ২১ জুনের মধ্যে ব্রিজের কাজ শেষ করতে হবে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের পুরনো জরাজীর্ণ ব্রিজগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নির্বাচন করে নতুন ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বর্তমানে ভারতীয় অর্থায়নে চারটি এবং সরকারি অর্থায়নে একটি ব্রিজের কাজ চলছে। পরে অন্য ব্রিজগুলোও সংস্কার করা হবে।

উল্লেখ্য, ১৮৬৯ সালের মে প্রতিষ্ঠিত হয় রংপুর পৌরসভা। ২০১২ সালের ২৮ জুন সিটি করপোরেশনে রূপান্তর হয়। ২০৫ দশমিক ৭০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্রিজ আছে ১২৫টি। এর অধিকাংশই দীর্ঘদিনের পুরনো।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন