মঙ্গলবার | জানুয়ারি ২৬, ২০২১ | ১৩ মাঘ ১৪২৭

পণ্যবাজার

ভারতে পেট্রলের চেয়ে বেশি ব্যবহার হয়েছে এলপিজি

বণিক বার্তা ডেস্ক

পেট্রল মূলত পরিবহন খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়। আর তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ব্যবহার হয় গৃহস্থালিতে, রান্নার কাজে। ২০২০ সালে ভারতের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এলপিজির সম্মিলিত ব্যবহার পেট্রল ব্যবহারকে ছাড়িয়ে গেছে। এর পেছনে করোনা মহামারীকে চিহ্নিত করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, লকডাউনে পরিবহন খাত স্থবির হয়ে পড়ায় পেট্রলের ব্যবহার কম হয়েছে। মানুষ ঘরবন্দি জীবন কাটানোয় বেড়েছে এলপিজির ব্যবহার। একই সঙ্গে রান্নার কাজে এলপিজির ব্যবহার বাড়াতে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের নানামুখী উদ্যোগ এতে ভূমিকা রেখেছে। খবর দ্য প্রিন্ট।

ভারতের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বিদায়ী বছরে দেশটিতে সব মিলিয়ে কোটি ৭২ লাখ ৭০ হাজার টন পেট্রল ব্যবহার হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে ভারতে জ্বালানি পণ্যটির ব্যবহার কমেছে দশমিক শতাংশ। এর বিপরীতে ২০২০ সালে ভারতে এলপিজি ব্যবহারে দশমিক শতাংশ প্রবৃদ্ধি বজায় ছিল। সময় ভারতজুড়ে সব মিলিয়ে কোটি ৭৪ লাখ ১০ হাজার টন এলপিজি ব্যবহার হয়েছে। অর্থাৎ গত বছর ভারতে পেট্রলের তুলনায় অতিরিক্ত লাখ ৪০ হাজার টন এলপিজি ব্যবহার হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটির ইতিহাসে প্রথমবার এলপিজির ব্যবহার পেট্রলের সম্মিলিত ব্যবহারের চেয়ে বেশি হয়েছে।

তবে বিদায়ী বছরে ভারতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়েছে ডিজেল। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে ভারতে সব মিলিয়ে ব্যবহার হয়েছে কোটি ১৯ লাখ ১০ হাজার টন ডিজেল। যদিও করোনা মহামারী লকডাউনের কারণে এক বছরের ব্যবধানে ভারতে জ্বালানি পণ্যটির ব্যবহার কমেছে ১৪ দশমিক শতাংশ। একই সময়ে ভারতে গ্যাসোলিনের ব্যবহার দশমিক শতাংশ কমে কোটি ৭২ লাখ ৭০ হাজার টনে নেমে এসেছে।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক বাণিজ্যিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এফজিইর বাজার বিশ্লেষক স্যাম সাং বলেন, জ্বালানি পণ্যের বার্ষিক ব্যবহারের তথ্য বিশ্লেষণ করলে ভারতের অর্থনীতির ওপর করোনার প্রভাব সুস্পষ্ট হয়। ২০২০ সালজুড়ে মহামারী লকডাউনে শিল্পোৎপাদন পরিবহন খাত কার্যত স্থবির থাকায় দেশটিতে পেট্রল-ডিজেলের ব্যবহার কমে এসেছে। উল্টো চিত্র দেখা গেছে গৃহস্থালি খাতে। ঘরবন্দি মানুষ রান্নাবান্নায় এলপিজির ব্যবহার বাড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, নিম্ন আয়ের মানুষের রান্নার কাজে এলপিজি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে ভারত সরকার। এজন্য এলপিজি সিলিন্ডারে ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে। বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে জ্বালানি পণ্যটির দর নির্ধারণ করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এসব উদ্যোগ দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির ব্যবহার বাড়াতে অন্যতম প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন