রবিবার | মে ০৯, ২০২১ | ২৬ বৈশাখ ১৪২৮

টেলিকম ও প্রযুক্তি

অ্যাপভিত্তিক অন্দরসজ্জা সেবার স্বপ্ন নিয়ে সেরাস্পেস

অনিন্দ্য সাইমুম ইমন

ধরুন আপনি একটি বাড়ি বানিয়েছেন কিংবা একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন। নতুন আবাসে যাওয়ার পর প্রথম যে প্রশ্ন মাথায় আসবে তা হলো জায়গাটা কীভাবে সাজানো হবে? বর্তমানে নতুন আবাস কিংবা কর্মস্থলের অন্দরসজ্জার কাজটি করার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তারা আপনার রুচি পছন্দ অনুযায়ী আপনার প্রিয় জায়গাটি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সাজিয়ে দেবে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি যদি হয় আঙুলের ছোঁয়ায়, আপনার হাতে মুঠোয়, তবে কেমন অনুভূতি হবে বলুন তো? এমনই এক সেবা আনছে সেরাস্পেস। অন্দরসজ্জার প্রতিষ্ঠানটি চালু করতে যাচ্ছে নিজস্ব অ্যাপ। এটি ব্যবহার করে আপনি অন্দরসজ্জার যাবতীয় খুঁটিনাটি পাবেন হাতের মুঠোয়।

দেশের অন্দরসজ্জা খাতে সেরাস্পেস নবীন প্রতিষ্ঠান। ২০১৯ সালে টেকভিত্তিক হোম ইমপ্রুভমেন্ট প্লাটফর্মটির যাত্রা শুরু। সেরাস্পেসের সহপ্রতিষ্ঠাতা সিইও সারজিনা মওদুদ শুরুর দিকের গল্প বলছিলেন, ২০১৭ সালে লন্ডনে পড়াশোনা শেষ করে পরিবারসহ ঢাকায় ফিরে আসি। ওই সময় নতুন বাসা সাজাতে গিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে পারি, দেশে অনেক ভালো ইন্টেরিয়র ডিজাইনার আছেন। তবে তাদের ব্যবহার করার মতো ভালোমানের প্লাটফর্ম হাতেগোনা। যারা কাজ করছেন তারাও জবাবদিহিতা, নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করার মতো বিষয়ে খুব একটা সচেতন নন। সবচেয়ে বড় কথা, গ্রাহক কী চাচ্ছেন আর ডিজাইনার কী দিতে পারেন দুইয়ের মধ্যে সমন্বয়ের জায়গাটা খুবই ঠুনকো।


এসব সমস্যার উপলব্ধি থেকেই সেরাস্পেসের চিন্তার সূচনা। যেটি বাস্তব রূপ পায় ২০১৯ সালে, সারজিনা মওদুদ নিজাম ফরিদ আহমেদের হাত ধরে। সারজিনা মওদুদ বলেন, আমার পড়াশোনা প্রকৌশল তথ্য-প্রযুক্তিতে। স্পষ্টতই বুঝতে পারছিলাম, আগামী দিনগুলোয় সব খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার অবশ্যম্ভাবী। তাই অন্দরসজ্জার মতো দেশে তুলনামূলক নতুন অপ্রচলিত একটি খাতে প্রযুক্তিনির্ভর কাজ শুরুর চেষ্টা ছিল।

অন্দরসজ্জা অভিজাত সেবা হিসেবে বেশি পরিচিত। অনেকেই ভাবেন শুধু ধনীরা অন্দরসজ্জায় মনোযোগ দেন। এতে খরচ হয় প্রচুর। সেরাস্পেস শুরু থেকেই ধারণা ভাঙতে চেষ্টা করেছে। নিজস্ব রুচি-পছন্দের সঙ্গে মিলিয়ে সব শ্রেণীর গ্রাহকদের জন্য বাজেটের মধ্যে থেকে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সেরাস্পেস অনলাইনে অন্দরসজ্জা বিষয়ে স্বল্পমেয়াদি পরামর্শ প্রদানের কাজ করছে। এতে গ্রাহকরা নকশা এর খুঁটিনাটি নিয়ে সহজে বুঝতে পারছেন। নিজেদের পরিকল্পনাগুলো নিজেরাই সুচারুভাবে সাজিয়ে নিতে পারছেন।

সেরাস্পেস প্রতিটি জায়গার সবচেয়ে কার্যকর পূর্ণাঙ্গ ব্যবহারে বিশ্বাসী। অন্দরসজ্জায় দেশীয় ঐতিহ্য সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দেয়ার চেষ্টা করে। তবে শুরুটা সাবলীল ছিল না। নতুন প্রতিষ্ঠান হিসেবে মানুষের কাছে পরিচিত হওয়া, দেশসেরা একটি টিম গঠন করা, ডিজাইনারদের বিশ্বাস অর্জন করার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছে সেরাস্পেস। প্রতিষ্ঠার বছর না পেরোতেই করোনার আঘাত এসেছে। করোনার কারণে প্রজেক্ট সাইটে কাজ পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হয়েছিল। সময় মাঠপর্যায়ে কাজ গুটিয়ে এনে অনলাইননির্ভর কাজে জোর দেয়া হয়েছে।

করোনাকালে সেরাস্পেস ডিজাইনার গ্রাহকদের অনলাইনে ইন্টেরিয়র ডিজাইন কনসালটেশন সেবা দিয়েছে। দেশে অন্দরসজ্জার প্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাসে আগে কখনো এমন সেবার কথা শোনা যায়নি। সারজিনা মওদুদ বলছিলেন, অনলাইন সেবা দারুণ সাড়া ফেলেছে। আগামীতেও এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে গ্রাহকের কাছে স্বল্প বাজেটের মধ্যে সর্বোচ্চ মানের অন্দরসজ্জার সেবা পৌঁছে দেয়াকে অগ্রাধিকার দেবে সেরাস্পেস।


বাংলাদেশের ঈর্ষণীয় অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার সঙ্গে সঙ্গে দেশে অন্দরসজ্জা খাতের কদর বাড়ছে। রয়েছে সম্ভাবনাময় বাজার। রয়েছেন সেরামানের ডিজাইনার আইডিয়া। শুধু প্রয়োজন বাজার চাহিদার সঙ্গে সেরা ডিজাইন ডিজাইনারের সেতুবন্ধ রচনা করা। গ্রাহকদের জন্য একটি ভরসার জায়গা তৈরি করা। আগামী দিনগুলোয় কাজটাই করতে চায় সেরাস্পেস বলছিলেন প্রতিষ্ঠানটির সিইও। তার মতে, লক্ষ্য অর্জনে অবশ্যই অগ্রাধিকার দিতে হবে প্রযুক্তিনির্ভর সেবাকে।

সেরাস্পেস এরই মধ্যে একটি ইন-হাউজ প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট কাস্টমার রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্ট (সিআরএম) টুলস ব্যবহার করছে, যা প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে প্রজেক্ট ডেলিভারিতে সরাসরি সহায়তা করছে। পরবর্তী সময়ে গ্রাহকদের জন্য সেবা উন্মুক্ত করতে আগ্রহী সেরাস্পেস। একই সঙ্গে সেরাস্পেস অ্যাপ তৈরির কাজটিও দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। শিগগিরই অ্যাপনির্ভর অন্দরসজ্জা সেবা হাতের মুঠোয় পাবেন গ্রাহকরা। অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকরা ডিজাইন সংক্রান্ত খুঁটিনাটি কাজগুলো সহজে করতে পারবেন। আঙুলের ছোঁয়ায় সংশ্লিষ্ট ডিজাইনারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারবেন। মুহূর্তের মধ্যে কাজের অগ্রগতি নিয়ে হালনাগাদ তথ্য পাবেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন