শনিবার | জানুয়ারি ২৩, ২০২১ | ১০ মাঘ ১৪২৭

দেশের খবর

পিরোজপুরের ৭ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়

অর্ধেকের কম জনবল নিয়ে চলছে কার্যক্রম

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, পিরোজপুর

তীব্র জনবল সংকট নিয়ে চলছে পিরোজপুরের সাতটি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের কার্যক্রম। এতে কাঙ্ক্ষিত সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন জেলার খামারিরা। যদিও জেলায় ব্রয়লার, লেয়ার, পোলট্রি, হাঁস-মুরগি গরুর খামার রয়েছে প্রায় দুই হাজারটি। এত বিপুলসংখ্যক খামারে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের।

পিরোজপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সাত উপজেলায় সাতজন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সাতজন ভেটেরিনারি সার্জন থাকার কথা। কিন্তু শুধু সদর উপজেলা ছাড়া অন্য কোনো উপজেলায় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নেই। এছাড়া ভেটেরিনারি সার্জন আছেন চারজন।

পিরোজপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন ভূঁইয়া জানান, পিরোজপুর সদরে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা একজন ভেটেরিনারি সার্জন থাকার কথা। কিন্তু আছেন শুধু প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা। নাজিরপুরে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ভেটেরিনারি সার্জনে দুটি পদই শূন্য। ইন্দুরকানীতে শুধু ভেটেরিনারি সার্জন আছেন। কাউখালীতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নেই, একজন ভেটেরিনারি সার্জন থাকলেও অক্টোবর থেকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণে আছেন। ভাণ্ডারিয়া, মঠবাড়িয়া নেছারাবাদে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নেই। নেছারাবাদ উপজেলার ভেটেরিনারি সার্জন ছয় মাসের প্রশিক্ষণে আছেন। অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাবেয়া খাতুন দীর্ঘদিন থেকে ঢাকায় প্রেশনে আছেন। তবে তার বেতন হয় পিরোজপুর থেকে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, আমি অফিসের বাইরে থাকলে অফিসে যদি কেউ আসে তার সঙ্গে কথা বলার (কর্মকর্তা পর্যায়ের) কেউ থাকে না।

পিরোজপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন ভূঁইয়া জানান, পিরোজপুরে (লেয়ার) ডিম উৎপাদনকারী মুরগির খামার রয়েছে হাজার ২০০টির মতো। এর মধ্যে রেজিস্ট্রার খামার ১৬৭টি। ব্রয়লার মুরগির খামার রয়েছে ৪৫০টি। সোনালি মুরগির খামার রয়েছে প্রায় ৩০০টি। হাঁসের খামার রয়েছে প্রায় ৮০টি। গবাদি পশুর খামার রয়েছে ৪৫০টি। এর মধ্যে রেজিস্ট্রার খামার রয়েছে ১০৮টি। জনবল সংকট থাকায় বিপুল সংখ্যক খামারে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, পিরোজপুর জেলায় বছরে ডিমের চাহিদা ১১ কোটি আর উৎপাদন হয় ২২ কোটি। বাড়তি ১১ কোটি ডিম যায় বাগেরহাট, ঢাকা, বরগুনায়। পিরোজপুরে যে ডিম উৎপাদন হয় তার বেশির ভাগ উৎপাদন হয় স্বরূপকাঠীতে, এরপর নাজিরপুর পিরোজপুর সদর উপজেলার অবস্থান। তবে নাজিরপুরে ডেইরির খামার বেশ ভালো।

পিরোজপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, মুরগির রোগ নির্ণয়ের জন্য স্বরূপকাঠী পিরোজপুরে মিনি ল্যাব করা দরকার। ল্যাব থাকলে রোগ নির্ণয় করে সঠিকভাবে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব। লোকবল বাড়ানো হলে খামারিদের আরো বেশি পরামর্শ হাঁস-মুরগি এবং গবাদি পশুর স্বল্প সময়ে চিকিৎসা দেয়া যাবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন