শনিবার | জানুয়ারি ২৩, ২০২১ | ১০ মাঘ ১৪২৭

প্রথম পাতা

প্রলয়ংকরী দুর্যোগ ঐতিহাসিক বিজয়

সাইফ বাপ্পী

স্বাধীনতার ৫০তম বর্ষে পদার্পণ করেছে বাংলাদেশ। এ উপলক্ষে বিজয়ের মাস জুড়েই স্বাধীনতা সংগ্রামের বিভিন্ন প্রেক্ষিত সম্পর্কে নানা আয়োজন থাকছে বণিক বার্তায়। প্রথম উপস্থাপনাটি ‘দ্য গ্রেট ভোলা সাইক্লোন’ নিয়ে—

১৯৭০ সালের ১১ নভেম্বর। পূর্ববঙ্গের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে মাঝারি মাত্রার এক ঘূর্ণিঝড় বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস প্রচার হচ্ছে রেডিওতে। দুর্যোগপ্রবণ এ অঞ্চলের বাসিন্দাদের কাছে ঘূর্ণিঝড় নতুন কিছু নয়। এ কারণে পূর্বাভাসটি যখন প্রচার হচ্ছিল, ওই সময় কেউই ভাবতে পারেনি উপকূলের বাসিন্দারা মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণক্ষয়ী ও প্রলয়ংকরী  ঘূর্ণিঝড়ের, যা ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই পেয়েছে ‘দ্য গ্রেট ভোলা সাইক্লোন’ নামে।

সেদিন আবহাওয়াবিদরা মহাবিপদের আঁচ পেয়েছিলেন অনেক পরে। এ কারণে বিকালের শেষ দিকে যখন আসন্ন মহাবিপদের বার্তা সংকেত দেয়া শুরু হলো ততক্ষণে দেরি হয়ে গিয়েছে অনেক। মধ্যরাতের মধ্যেই ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতিবেগের ঝড়ের প্রভাবে সৃষ্টি হয় ২০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস। মৃত্যু হয় আড়াই থেকে পাঁচ লাখ মানুষের। বঙ্গোপসাগরে ভেসে যায় গবাদিপশু, ফসল আর ঘরবাড়ি। যারা কোনোমতে বেঁচে গিয়েছিল, ধ্বংস হয়ে পড়েছিল তাদের জীবন-জীবিকার ব্যবস্থাও।

গত দুই শতাব্দীতে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ে নিহতদের মধ্যে ৪২ শতাংশই বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের। এর ওপর ষাটের দশকের পুরোটা সময়ই ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত দেখা গেছে অস্বাভাবিক রকমের বেশি। কিন্তু ক্ষয়ক্ষতির মাত্রায় সবচেয়ে এগিয়ে ছিল ভোলা সাইক্লোন। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ভোলা সাইক্লোনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল উপদ্রুত অঞ্চলের ৪৮ লাখ লোক। এর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দা ছিল ২০ লাখ। ১০ লাখ একর জমির ফসল এ সময় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় আরো ১০ লাখ একর জমির ফসল। হারিয়ে যায় ২ লাখ ৮০ হাজার গবাদিপশু ও আনুমানিক পাঁচ লাখ হাঁস-মুরগি। ক্ষতিগ্রস্ত হয় চার লাখ ঘরবাড়ি ও সাড়ে তিন হাজার স্কুল। একেবারে বিকল হয়ে পড়ে নয় হাজার সমুদ্রগামী ও ৯০ হাজার নদীতে চলাচলকারী নৌযান। এসব নৌযানের ৬৫ শতাংশই ছিল আবার মাছ ধরার।

উপকূলীয় অঞ্চলের জনগণের জীবন-জীবিকার ওপর এত বড় আঘাত সত্ত্বেও পাকিস্তানি সামরিক জান্তার টনক নড়েনি। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের প্রতিক্রিয়া ছিল বেশ অবাক করার মতো। তিনি এ সাইক্লোনের ক্ষয়ক্ষতি প্রত্যক্ষ করেছিলেন আকাশ থেকে। চীন থেকে এক সফর শেষ করে দেশে ফেরার পথে উপদ্রুত অঞ্চলের ওপর দিয়ে উড়ে এসেছিলেন মাত্রাতিরিক্ত বিয়ারপানে উন্মত্ত অবস্থায়। ফিরে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘অবস্থা দেখে তো তেমন খারাপ বলে মনে হলো না!’ 

প্রকৃতপক্ষে পাকিস্তান সরকার এ বিশাল ক্ষয়ক্ষতির তথ্য ওই সময় স্বীকারই করতে চায়নি। বরং বিভিন্ন মাধ্যমে উঠে আসা ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যানকে তারা আখ্যা দেয় বাঙালি রাজনীতিকদের অতিরঞ্জন হিসেবে। সাইক্লোনে নিহতদের জন্য সে সময় ইরানেও দিনব্যাপী শোক পালন করা হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তানে এ ধরনের কোনো উদ্যোগই নেয়া হয়নি।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রায় এক সপ্তাহ পরও ক্ষয়ক্ষতি বা দুর্যোগের ভয়াবহতা প্রশমন নিয়ে সরকারের এ উদাসী প্রতিক্রিয়া ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। পরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইয়াহিয়া দুর্যোগ-পরবর্তী কার্যক্রমে শ্লথতার জন্য ক্ষমা চেয়ে নেন। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেয়ারও আশ্বাস দেন তিনি। কিন্তু পূর্ব বাংলার জনগণের জন্য এটুকু মোটেও পর্যাপ্ত বা সময়োচিত ছিল না। তার এ বিলম্বিত আশ্বাস প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিগ্রস্তদের উপকারের বদলে পাকিস্তানি সামরিক এলিটদের দুর্নীতির পথকেই সুগম করেছিল বেশি।

পাকিস্তানি লেখক রাজা নাইম জানাচ্ছেন, ওই সময়ে ঘূর্ণিঝড়ের পর ইয়াহিয়া খান ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের স্থায়ী পুনর্বাসনের জন্য ৮৬ কোটি রুপির একটি প্রকল্প গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। 

প্রকল্পের দায়িত্ব দেয়া হয় সেনাবাহিনীকে। অথচ ওই সময় সবাই চাইছিলেন ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমের জন্য রাজনীতিবিদ, সমাজকর্মী, প্রকৌশলী, শিক্ষক, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন ধ্যানধারণার কৃষক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সবাইকে নিয়ে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হোক, যাতে সরকার ও সেনাবাহিনীরও প্রতিনিধিত্ব থাকবে। 

রাজা নাইমের ভাষ্যমতে, সরকার যদি সে সময় সত্যি সত্যিই এ প্রকল্পের সফলতা চাইত, তাহলে এটি বাস্তবায়নের জন্য সত্যিকারের জাতীয় পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হতো। কিন্তু এর পরিবর্তে তা রূপ নেয় দুর্নীতিগ্রস্ত নিছক ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে। সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যারে ভোলা সাইক্লোনের ৫০ বছর পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে লেখা এক নিবন্ধে এ কথা বলেন রাজা নাইম। 

ইয়াহিয়ার এ উদ্যোগ যে ক্ষতিগ্রস্তদের কোনো উপকারেই আসেনি তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে ভোলা সাইক্লোনের চার মাস পর ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চের দিকে পরিচালিত এক জরিপের তথ্যে। এতে দেখা যায়, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ছয় লাখ লোক তখনো আবাসন সংকটে ভুগছিল। ত্রাণের ওপর নির্ভর করে বেঁচে ছিল ১০ লাখ। 

সে সময় আন্তর্জাতিক মহলের ত্রাণ তত্পরতা ছিল পাকিস্তান সরকারের চেয়ে বহু গুণে বেশি। প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ সরবরাহের গুরুদায়িত্বটা ওই সময় আন্তর্জাতিক মহলই কাঁধে তুলে নিয়েছিল। ঢাকা বিমানবন্দরে ওই সময় ত্রাণ নিয়ে অবতরণকারী দুই শতাধিক ত্রাণবাহী উড়োজাহাজের মধ্যে পাকিস্তান থেকে আসা উড়োজাহাজ ছিল মাত্র একটি। 

বরাবরই পশ্চিমা শাসকরা ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মুখে পূর্ব পাকিস্তানের উপকূলীয় অঞ্চল এবং এর বাসিন্দাদের নাজুক ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানের বিষয়টিকে দেখেছে নিরাসক্ত ঔদাসীন্যের সঙ্গে। এ ঔদাসীন্যকে ঢাকতে এ অঞ্চলের দুর্যোগপ্রবণতাকে বারবার সামনে নিয়ে আসতেন তারা। 

সাংবাদিক সিডনি শ্যানবার্গ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গিকে বর্ণনা করেছিলেন এভাবে—‘পূর্ব পাকিস্তানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ অহরহই ঘটে। এসব দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কঠিন। আবার সম্পদও বেশ সীমিত। এ কারণে কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যেও অসহায়ত্বের ধুয়া তুলে দুর্যোগের ঘটনাগুলোকে উপেক্ষা করে অন্যখানে সম্পদ বিনিয়োগের একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে।’

জনগণ সম্পর্কে পাকিস্তানি শাসকদের এ দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে ওই সময় মোটামুটি সবাই ওয়াকিবহাল ছিল। কিন্তু তার পরও ভোলা সাইক্লোনের পর শাসকদের প্রতিক্রিয়া হতবাক করে তুলেছিল সবাইকে। প্রকৃতপক্ষে ভোলা সাইক্লোন পাকিস্তানি শাসনের নৈতিক অবসানই ঘটিয়ে দিয়েছিল পুরোপুরি। সে সময় পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে এক নাটকীয় মোড় এনে দেয় ঘটনাটি। স্বায়ত্তশাসন নয়, স্বাধীনতাই যে পূর্ব বাংলার বাসিন্দাদের টিকে থাকার একমাত্র উপায়, তা অনেকের কাছে পরিষ্কার হয়ে যায়। 

সত্তরের নির্বাচনটি ছিল পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক নির্বাচন। এটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল সে বছরের জুলাইয়ে। কিন্তু পূর্ব বাংলায় মারাত্মক বন্যার কারণে তা পিছিয়ে নেয়া হয় ৭ ডিসেম্বর। বহুল প্রতীক্ষিত এ নির্বাচনের মাত্র তিন সপ্তাহ আগেই আঘাত হানে ভোলা সাইক্লোন। অর্থাৎ সময়টি ছিল ত্রাণকার্যে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অবহেলাকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর আদর্শ সময়। 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে তত দিনে বড় এক রাজনৈতিক এজেন্ডা বানিয়ে দিয়েছে সাইক্লোন উপদ্রুত ষাটের দশক। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারেও খাদ্য ও ত্রাণসহায়তার প্রতিশ্রুতি জোর দিয়ে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সুরক্ষা দেয়ার বিষয়টিকে আগে থেকেই বেশ জোর দিয়ে প্রচার করছিল ন্যাপ (ভাসানী)। দুর্যোগের দুই মাস আগে সেপ্টেম্বরে প্রচারিত দলটির এক ঘোষণাপত্রে বলা হয়, ‘আঞ্চলিক বৈষম্য দূর ও প্রকৃতির ধ্বংসলীলা থেকে বাঙালিকে সুরক্ষা দিতে যদি কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া না হয়, তাহলে পূর্ব পাকিস্তান দেশের পশ্চিমাংশ থেকে আলাদা হয়ে যেতে এবং প্রয়োজনমাফিক নিজ ইচ্ছামতো যেকোনো দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।’

সে সময় পূর্ববঙ্গের এক ম্যাগাজিনের সম্পাদকীয়তে লেখা হয়, ‘এ ধরনের পরিস্থিতিতে জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী সরকারপ্রধানের ভোলায় নিজ ক্যাবিনেট সদস্যদের নিয়ে অবস্থান করার কথা। গোটা ত্রাণ কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করার কথা। এ কারণে রাজনৈতিক সরকার স্থাপনের বিষয়টিকে উচ্চাভিলাষী রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে উঠে আসা হঠাৎ কোনো বক্তব্য হিসেবে দেখা যাবে না। সাত কোটি মানুষের টিকে থাকার জন্যই এটি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এটি এখন এমন এক দাবি হয়ে উঠেছে, যার কোনো ধরনের ব্যাখ্যা বা ন্যায্যতা বর্ণনার প্রয়োজন পড়ে না। শাসকশ্রেণী যদি এখন আমাদের এ দাবিকে উপেক্ষা করে, তাহলে গণতান্ত্রিক সংগ্রামের পরবর্তী ধাপ নিজেই নিজেকে উন্মোচিত করবে। এ জাতির শান্তি ও মৈত্রী নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্রনায়কোচিত পদক্ষেপ নেয়ার এখনো সময় আছে। পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ তাদের মত প্রকাশ করতে পারছে কিনা, তার মধ্য দিয়েই এটি দৃশ্যমান হয়ে উঠবে। মৃতদের প্রাণ বিসর্জন ছিল আসলে এ মত প্রকাশের অধিকারের পক্ষেই ভোটদান। তাদের সে রায়কে সঙ্গে নিয়ে এখন জীবিতরাও কথা বলুক।’

ভোলা সাইক্লোনে ক্ষতিগ্রস্তদের রাজনৈতিক ‘চ্যাম্পিয়ন’ হয়ে উঠেছিলেন ৮৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে উপদ্রুত অঞ্চলে তিনিই প্রথম পা রাখেন। কথিত আছে, রেডিওতে যখন সাইক্লোনের ভয়াবহতার খবর প্রচার হচ্ছিল, ‘রেড মওলানা’ তখন অসুস্থ অবস্থায় শয্যাশায়ী। খবর শুনেই তড়াক করে লাফিয়ে ওঠেন তিনি। সেখান থেকে কষ্টকর এক যাত্রায় উপদ্রুত অঞ্চলে এসে পৌঁছেন তিনি। পরবর্তী সময়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি মওলানা ভাসানীর কণ্ঠে ছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর প্রতি জনতার তীব্র ভর্ত্সনারই অনুরণন, ‘ওরা কেউ আসেনি।’ সাইক্লোন বিধ্বস্ত এলাকা থেকে ফিরে ঢাকায় পল্টন ময়দানে এক বড় জনসমাবেশে বক্তৃতা দেন তিনি। এখানেই পাকিস্তান রাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে বিদায় সম্ভাষণ হিসেবে ‘আসসালামু আলাইকুম!’ বলে ঘোষণা দেন তিনি। সেদিন মওলানা ভাসানী তার বক্তব্য শেষ করেছিলেন ‘স্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান জিন্দাবাদ!’ বলে। শেষ পর্যন্ত সাইক্লোনে মৃতদের প্রতি সম্মান জানানোর উদ্দেশ্যে ভোটযুদ্ধ থেকে সরে দাঁড়ায় ন্যাপ (ভাসানী)। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় জয়লাভ করে। 

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তানে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির ১৬২টি আসনের মধ্যে ১৬০টিতেই জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ। প্রাদেশিক পরিষদের ৩০০ আসনের মধ্যে দলটি জয়লাভ করে ২৮৮টি আসনে। পশ্চিম পাকিস্তানের এলিট গোষ্ঠী এতটা নির্মম পরাজয়ের কথা স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি। ফলে শাসনক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানায় তারা। এরই ধারাবাহিকতায় পূর্ব বাংলার স্বাধিকারের দাবি রূপ নেয় পূর্ণ স্বাধীনতার আন্দোলনে। পাকিস্তানি শাসকরা এ আন্দোলনকে দমনের জন্য যতটাই খড়্গহস্ত হয়ে ওঠে, জনগণের মধ্যে স্বাধীনতার দাবিও ততটাই প্রবল হয়ে ওঠে। 

এ আন্দোলনকে দমন করতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে গণহত্যার এক দক্ষযজ্ঞ শুরু করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। গ্রেফতার করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। গ্রেফতার হওয়ার আগেই আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে যান তিনি। বিভিন্ন স্থানে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে থাকে সেনাবাহিনী ও ইপিআরের বাঙালি জওয়ানরা। ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক-পেশাজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষ এ প্রতিরোধ রূপ দেয় জনযুদ্ধে। দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র সংগ্রাম ও ৩০ লাখ মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে বাংলাদেশ।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন