শনিবার | জানুয়ারি ২৩, ২০২১ | ১০ মাঘ ১৪২৭

শেষ পাতা

আইএলও প্রতিবেদন

এশিয়া প্যাসিফিকে ন্যূনতম মজুরি সবচেয়ে কম বাংলাদেশে

নিজস্ব প্রতিবেদক

এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ন্যূনতম মজুরি সবচেয়ে কম বাংলাদেশে। শুধু তা- নয়, অঞ্চলের মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশেই ন্যূনতম মজুরি আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যসীমার সবচেয়ে নিচের স্তরের চেয়েও কম। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) এক প্রতিবেদনে তথ্য উঠে এসেছে।

আইএলও গ্লোবাল ওয়েজ রিপোর্ট ২০২০-২১ শীর্ষক প্রতিবেদনটি গতকাল প্রকাশ পেয়েছে। প্রতিবেদনে কভিড-১৯ মহামারীর প্রেক্ষাপটে মজুরি হারের গতিপ্রকৃতি এবং কভিডের আগের চার বছরে বিশ্বের ১৩৬টি দেশের মজুরি হারের পরিবর্তনের প্রবণতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

কভিড-১৯ পরিস্থিতি মজুরি কমিয়েছে এমন মত প্রকাশ করে আইএলও বলছে, মহামারী আঘাত হানার আগে থেকে বিশ্বব্যাপী শ্রমিকরা ন্যূনতম হারের চেয়ে কম মজুরি পেয়ে আসছিলেন। কিন্তু ২০২০ সালের প্রথম ছয় মাসে মজুরি বেড়েছে বা কমেছে আগের চেয়ে অনেক কম গতিতে। মহামারীর প্রভাবে নিকট ভবিষ্যতে দেশগুলোতে মজুরি আরো কমতে পারে বলে আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে আইএলওর নিজস্ব প্রতিবেদনের সর্বশেষ সংস্করণে।

আইএলও ডিরেক্টর জেনারেল গাই রাইডার বলেন, কভিড-১৯ বৈষম্য বাড়িয়ে তুলেছে। এটি দারিদ্র্য এবং সামাজিক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার মতো বিপর্যয়ের হুমকি দিচ্ছে। তাই আমাদের পুনরুদ্ধার কৌশল হতে হবে মানুষকেন্দ্রিক। আমাদের মজুরিসংক্রান্ত নীতিগুলো হতে হবে কর্মসংস্থান প্রতিষ্ঠানের টেকসইতা ভিত্তিক।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ২০২০-২১-এর আগের চার বছরে মজুরি হার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বৈশ্বিক প্রকৃত মজুরি দশমিক থেকে দশমিক শতাংশে ওঠানামা করেছে। উত্তর আমেরিকা এবং দক্ষিণ পশ্চিম ইউরোপে অনেক শ্লথগতিতে বাড়লেও এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রকৃত মজুরি বেড়েছে অনেক দ্রুতগতিতে।

আইএলওর কনভেনশনের ধারা অনুসরণে পর্যাপ্ত ন্যূনতম মজুরি সীমা নির্ধারণে সামাজিক সংলাপের পাশাপাশি শ্রমিক এবং তাদের পরিবারের আর্থিক বিষয়গুলোকে বিবেচনায় নিতে হবে। ২০১৯ সালে ক্রয়ক্ষমতা সমতার (পিপিপি) ভিত্তিতে যে বৈশ্বিক গড় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়, তা ছিল ৪৮৬ ডলারের সমান। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ন্যূনতম মজুরি গড় ৩৮১ ডলার (পিপিপি) এর মধ্যে সবচেয়ে কম মজুরি হার বাংলাদেশে ৪৮ ডলার (পিপিপি) অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ন্যূনতম মজুরি অস্ট্রেলিয়ায় হাজার ১৬৬ ডলার (পিপিপি)

প্রতিবেদনে দারিদ্র্যসীমার তিনটি স্তরের কথা বলা হয়েছে। সবচেয়ে নিজের স্তরটি হচ্ছে দশমিক ডলার (পিপিপি) এর ওপরের স্তর দশমিক ডলার (পিপিপি) এবং সবার ওপরেরটি দশমিক ডলার (পিপিপি) পর্যালোচনায় আইএলও দেখিয়েছে যে এশিয়া প্যাসিফিকে বাংলাদেশ একমাত্র দেশ, যাদের ন্যূনতম মজুরি আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যসীমার নিম্নস্তর পর্যন্তও পৌঁছতে পারেনি। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ক্ষেত্রে উচ্চ হার প্রযোজ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

এশিয়া প্যাসিফিকের কিছু দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম যে খাতে শিল্প বিবেচনায় নিয়ে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়। ২০২০ সাল পর্যন্ত ২৯টি দেশ আছে যাদের কৃষি এবং গৃহশ্রমকে সংবিধিবদ্ধ ন্যূনতম মজুরি থেকে বাইরে রাখা হয়েছে। ২৯টির মধ্যে বাংলাদেশসহ মোট সাতটি দেশ কৃষি এবং গৃহশ্রমকে সংবিধিবদ্ধ ন্যূনতম মজুরির বাইরে রেখেছে।

২০১০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে এশিয়া প্যাসিফিকের মোট ২২টি দেশে প্রকৃত ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কমেছে আটটি দেশে। যে দেশগুলোতে প্রকৃত ন্যূনতম মজুরি বেড়েছে, তার মধ্যে বার্ষিক গড় বৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি ছিল ভিয়েতনামে, ১১ দশমিক শতাংশ। কম্বোডিয়ায় হার ছিল দশমিক শতাংশ। প্রকৃত ন্যূনতম মজুরি সবচেয়ে বেশি কমেছে এমন দেশের মধ্যে আছে বাংলাদেশ শ্রীলংকা। 

প্রতিবেদনের অন্যতম প্রণেতা রোজিলা ভ্যাজকুয়েজ-আলভারেজ বলেন, পর্যাপ্ত ন্যূনতম মজুরি কম পরিমাণে মজুরি পাওয়া থেকে সুরক্ষা দিতে পারে পাশাপাশি বৈষম্য কমিয়ে আনতে পারে। কিন্তু ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিত করতে কার্যকর সমন্বিত নীতি প্যাকেজের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন