শনিবার | জানুয়ারি ১৬, ২০২১ | ৩ মাঘ ১৪২৭

প্রথম পাতা

শি জিনপিংকে নিয়ে মাও সেতুংয়ের ভয় পশ্চিমাদের!

সাইফ বাপ্পী

চীনের পিছিয়ে পড়া দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন এক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচি সম্পর্কে বলা হচ্ছে, স্থানীয়দের নানাবিধ দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের আয় বাড়ানো ও জীবন-জীবিকার মানোন্নয়নে এটি গ্রহণ করা হচ্ছে। এ কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য হলো দারিদ্র্যের সম্পূর্ণ বিমোচন। পশ্চিম জিনজিয়াংয়ের উইঘুর শিবিরগুলোয় শুরু হওয়া এ ‘ভোকেশনাল ট্রেনিং প্রোগ্রাম’ এরই মধ্যে বেশ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি এ কর্মসূচির আওতা বিস্তৃত করা হয়েছে তিব্বতসহ অন্যান্য পিছিয়ে পড়া ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেও। 

পশ্চিমা সংস্থা, গোষ্ঠী ও গণমাধ্যমগুলো বলছে, বিষয়টি যে শুধু বেইজিংয়ের চোখে ‘পিছিয়ে থাকা’ সংখ্যালঘু এলাকাগুলোর গ্রামীণ উদ্বৃত্ত কর্মশক্তিকে শিক্ষিত করে তোলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, তা জিনজিয়াং ও তিব্বতসহ অন্যান্য এলাকায় এ কর্মসূচি নিয়ে চীনা কর্তৃপক্ষের বক্তব্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। 

গোটা চীনের সবাইকে শি জিনপিং ‘একক একটি জাতিতে’ পরিণত করতে চাইছেন দাবি করে এসব সংস্থা ও গণমাধ্যম এ কর্মসূচিকে তুলনা করছে মাও সেতুংয়ের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সঙ্গে। 

মাও সেতুংয়ের নেতৃত্বে চীনে সাংস্কৃতিক বিপ্লব শুরু হয় ১৯৬৬ সালে। ওই কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল চীনা জনগণের মনমানসিকতা থেকে পুঁজিবাদী ও সামন্ততান্ত্রিক আচরণগুলোকে কমিউনিস্ট ধ্যানধারণা দিয়ে প্রতিস্থাপন করা। জনগণের আচার-আচরণ ও সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তনের জন্য গৃহীত কর্মসূচি নিয়েও সে সময় নানা ধরনের সমালোচনামূলক পর্যবেক্ষণ দিয়েছিল পশ্চিমা বিভিন্ন সংস্থা ও গণমাধ্যম। 

অন্যদিকে শি জিনপিংয়ের বর্তমান কর্মসূচিটি নিয়ে মার্কিন ও পশ্চিমা ভাবধারার সংস্থাগুলোর ভাষ্য হলো নতুন এ কর্মসূচির আওতায় দমন-পীড়নের মাধ্যমে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভাষা ও জীবনাচরণকে ম্যান্দারিন ভাষা (হান) ও জীবনাচরণ দিয়ে প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে চীনের সব জনগোষ্ঠীভুক্ত মানুষকে শুধুই ‘হান’ বানিয়ে তুলতে চাইছেন শি জিনপিং।

ভুক্তভোগীদের নির্বাসিত আত্মীয়দের বরাত দিয়ে এশিয়া টাইমসে প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ‘ভোকেশনাল ট্রেনিং প্রোগ্রামের’ জন্য উইঘুর জনগোষ্ঠীভুক্তদের জোরপূর্বক জিনজিয়াংয়ের বিভিন্ন শিবিরে এনে জড়ো করা হচ্ছে। অন্যদিকে চীনা বিভিন্ন নথিপত্রের সূত্র ও বক্তব্য তুলে ধরে ওয়াশিংটনভিত্তিক জেমসটাউন ফাউন্ডেশন রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস ইনস্টিটিউট বলছে, বেইজিংকে এখন অবশ্যই ‘অলস লোকদের জাগিয়ে তোলার’ নামে এ ‘কঠোর মিলিটারি গোছের ব্যবস্থাপনাভিত্তিক’ কর্মসূচি বন্ধ করতে হবে। 

নথিগুলোর ভাষ্যমতে, এ ধরনের প্রশিক্ষণভিত্তিক কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো ‘পশ্চাদমুখী চিন্তাভাবনা’ পরিহার করে ‘কর্মশৃঙ্খলা’ শিখতে বাধ্য করা। উইঘুরিদের চীনা ভাষার দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশটির আইনকানুন সংক্রান্ত জ্ঞানের উন্নয়ন ঘটানোও এর অন্যতম উদ্দেশ্য। 

কিছুদিন আগেও চীনে জাতিগত সহিষ্ণুতার চর্চা বেশ জোরালো ছিল। দেশটির ১৪০ কোটি জনসংখ্যার ৯২ শতাংশই সংখ্যাগরিষ্ঠ ‘হান’ জাতিগোষ্ঠীভুক্ত। বাকি ৮ শতাংশ গঠিত হয়েছে ৫৫টি সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠী নিয়ে। এ ৫৬টি জাতিগোষ্ঠীর প্রতিটিরই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি রয়েছে চীনে। 

শি জিনপিংয়ের সরকার বর্তমানে ‘ঝংহুয়া’ নামে যে প্যান-চাইনিজ জাতিসত্তার ধারণার প্রচার করছে, সেটিকে এখন জাতিগতভাবে বেশ অসহিষ্ণু বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি দেশটিতে হান বা ম্যান্দারিন ভাষাকে (যা আগে ‘হানয়ু’ নামে পরিচিত ছিল) ‘গুয়োইয়ু’ বা আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় ভাষা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ‘এক জাতিসত্তার দেশ’ নীতির বাস্তবায়ন করতে গিয়েই স্বায়ত্তশাসিত প্রদেশ জিনজিয়াংকে প্রথম লক্ষ্য বানিয়ে এসব উদ্যোগের বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে বলে অভিমত পশ্চিমা চীন পর্যবেক্ষকদের।

আড়াই কোটি মানুষের বাসস্থান জিনজিয়াংয়ে উইঘুর, কাজাখ, তাজিক ও তুর্কি গোষ্ঠীভুক্ত অন্যান্য জাতিসত্তার। ঐতিহ্যগতভাবেই বেইজিংয়ের কেন্দ্রীয় শাসনের সঙ্গে বিবাদে জড়ানোর ইতিহাস রয়েছে এ অঞ্চলের। ২০১৯ সালের জুলাইয়ে চীনের স্টেট কাউন্সিল ‘জিনজিয়াং সংক্রান্ত ঐতিহাসিক বিষয়াদি’ শীর্ষক এক শ্বেতপত্র প্রকাশ করে। এতে দাবি করা হয়, ‘দীর্ঘদিন ধরে চীনা ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল জিনজিয়াং। ওই অঞ্চলের উইঘুররা চীনের বাইরে থেকে অভিবাসন ও সংযোজনের মাধ্যমে এলাকাটি দখল করে নিয়েছিল।’

জিনজিয়াংয়ের মতো তিব্বতেও একই দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োগ ঘটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ও বিশেষজ্ঞদের। তাদের ভাষ্যমতে, বেইজিংয়ের নীতিমালা অনুযায়ী এ এলাকাকেও বৃহত্তর চীনা পরিবারের অংশ করে নিতে হবে। এজন্য ইয়াক ও অন্যান্য পশুপালনভিত্তিক এসব এলাকার মানুষের আধা-যাযাবর জীবনধারাকেও পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়েছে বেইজিং। 

আনুষ্ঠানিক নথির বরাত দিয়ে তারা বলছেন, ক্যাম্পগুলোর তিব্বতি শ্রমিকদের তাদের ‘পশ্চাদমুখী’ জীবনযাত্রার সংস্কারের পাশাপাশি আলাদা জাতিসত্তা হিসেবে টিকে থাকার ধ্যানধারণাও বাদ দিতে হবে বলে মনে করছে বেইজিং। একই সঙ্গে নতুন নীতির অংশ হিসেবে দুই ভাষাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে তাদের শুধু ‘গুয়োইয়ু’তেই শিক্ষা দেয়ার নিয়ম চালু করা হয়েছে। এ বিষয়ে জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির চীন বিশেষজ্ঞ জেমস মিলওয়ার্ড সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসে লিখেছেন, গ্রেপ্তার ও শিক্ষাদানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির মাধ্যমে উইঘুর ও তিব্বতি ভাষায় শিক্ষাদান চালু রাখার পক্ষপাতীদের দমন করা হচ্ছে। 

পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, দেশটির টিভি চ্যানেলগুলো থেকেও এখন হান ছাড়া অন্য সব চীনা ভাষার কার্যক্রম ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। বিষয়টিকে শি জিনপিংয়ের চীনের ‘এক ভাষা, এক জাতি ও এক সত্তার’ নীতির প্রদর্শন বলেও অভিমত দেয়া হচ্ছে।

তিব্বত ও উইঘুর ঐতিহ্যগতভাবেই চীনের অস্থিতিশীল অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতার মাধ্যমে বেইজিংয়ের শাসন থেকে বেরিয়ে আসার আন্দোলন চলছে অঞ্চল দুটিতে। এ কারণে এ দুই অঞ্চলেই এখন বল প্রয়োগের মাধ্যমে নিত্যনতুন নির্দেশনার বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, এজন্য কখনো কখনো বিভিন্ন শিবিরে অন্তরীণ করে রাখার পাশাপাশি চীনের অন্য এলাকায় স্থানান্তরের মতো পদক্ষেপও নেয়া হচ্ছে।

প্রতিবেদনগুলোর ভাষ্যমতে, এ নীতি এখন চীনের অন্যান্য এলাকায়ও প্রয়োগ শুরু হয়েছে। কিন্তু সবখানেই বিষয়টির বিরুদ্ধে নানা মাত্রায় প্রতিরোধও চলছে। সেপ্টেম্বরেই চীনের আরেক তথাকথিত স্বায়ত্তশাসিত এলাকা ইনার মঙ্গোলিয়ায় কয়েক লাখ মানুষ স্কুলে কয়েকটি ভাষায় শিক্ষাদানের মাধ্যম হিসেবে মঙ্গোলীয়র বদলে গুয়োইয়ুকে ব্যবহারের প্রতিবাদে বিক্ষোভে নেমে আসে। বিক্ষোভকারীরা শি জিনপিংয়ের বর্তমান কর্মসূচিকে ‘এক জাতিসত্তা’ তৈরির পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওই বিক্ষোভের একটি ছবি সে সময় সবার নজরে আসে। এতে লেখা ছিল, ‘মঙ্গোলীয় ভাষা শেখা মোঙ্গলদের অবিচ্ছেদ্য অধিকার’। 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই বিক্ষোভের পর ১৩০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে উত্তেজনা ছড়ানো ও পুলিশের বন্ধ করে দেয়া স্কুলগুলোয় জোরপূর্বক ঢুকে পড়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ওই অঞ্চল ও নিকটবর্তী কয়েকটি প্রদেশে এখন পর্যন্ত মঙ্গোলীয় ও কোরীয় ভাষায় শিক্ষাদান কিছুমাত্রায় হলেও চালু রয়েছে ঠিকই। কিন্তু নতুন একটি আইন বলছে, এসব এলাকার স্কুলগুলোয় আবশ্যিক তিনটি বিষয়—চীনা ভাষা ও সাহিত্য, নৈতিকতা ও আইন এবং ইতিহাস গুয়োইয়ু ভাষায় শিক্ষাদান চালু করতে হবে ২০২২ সালের মধ্যে। জিনজিয়াংয়ে বিষয় তিনটিতে ‘জাতীয় ভাষায়’ শিক্ষাদান শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালে। তিব্বতে শুরু হয় ২০১৮ সালে।

চীনে এখন যতই এক জাতীয়তার কথা বলা হোক না কেন, দেশটি আসলে ভাষাগত বৈচিত্র্যের দিক থেকে বেশ সমৃদ্ধ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চীনে বর্তমানে ৬০ লাখ মঙ্গোলীয় বসবাস করছে। তিব্বতের মূল ভূখণ্ড এবং কিংহাই, ইউনান, সিচুয়ান ও গানসুর মতো প্রতিবেশী প্রদেশগুলোয় বসবাস করছে ৬৫ লাখ তিব্বতি। অন্যদিকে উইঘুররা জিনজিয়াংয়ের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক বা ১২ লাখ। এছাড়া চীনে আড়াই লাখ কোরীয় জনগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করছে, যাদের বসবাস মূলত জিলিন, হেইলংজিয়াং ও লিয়াওনিংয়ের মতো উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোয় সীমাবদ্ধ। এরই বাইরেও ই, বাই, হানি, ঝুয়াং, দাইসহ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কয়েক লাখ সংখ্যালঘু বাস করছে দক্ষিণ ইউনানে।  

অন্যদিকে গুয়াংডং ও ফুজিয়ানের মতো দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোর কথ্য ভাষার সঙ্গে প্রমিত চীনার ফারাক রয়েছে বিস্তর। একই কথা হংকং ও ম্যাকাওয়ের মতো বিশেষ স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

এ বিষয়ে পশ্চিমা পর্যবেক্ষকরা বলছেন, জাতি ও ভাষাগত বৈচিত্র্যের দেশটিকে শি জিনপিং আদতেই এক জাতির দেশ বানিয়ে তুলতে পারবেন কিনা, সেটি সময় বলে দেবে। কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্ট—এ বিষয়ে তিনি তার পূর্বতন চীনা শাসকদের সবার নীতিকেই লঙ্ঘন করে চলেছেন। 

রাজতন্ত্রের সময়েও চীনা সম্রাটরা তাদের সীমান্তবর্তী এলাকা বা যেসব এলাকার ওপর মালিকানা দাবি করতেন, সেসব এলাকায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন খুব কমই। তিব্বত, জিনজিয়াং ও ইউনানের মতো অঞ্চলগুলো থেকে বার্ষিক বা কখনো কখনো অনিয়মিত উপঢৌকন আদায় করেই খুশি থাকতেন তারা। 

১৯১১-১২ সালে রাজতন্ত্র উচ্ছেদের পর দেশটির শাসকরা চেয়েছিলেন চীনকে কেন্দ্রীভূত, চিহ্নিত সীমান্তযুক্ত একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থার অধীনে নিয়ে আসতে। চীনা প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা সান ইয়াৎ সেন চীনকে দেখতে চেয়েছিলেন হান, মাঞ্চু, মোঙ্গল, তিব্বতি, উইঘুরিসহ বিভিন্ন জাতিসত্তার ঐক্য হিসেবে।

চীনে কমিউনিস্টরা ক্ষমতায় আসে ১৯৪৯ সালে। মাও সেতুংয়ের শাসনামলে প্রতিটি জাতিসত্তার জাতিগত অধিকারের স্বীকৃতি ও নিশ্চয়তা ছিল। ওই সময়ে দেশটিতে বেশ কয়েকটি অঞ্চল ছিল স্বায়ত্তশাসিত। এমনকি জেলা বা আরো স্থানীয় পর্যায়েও স্বায়ত্তশাসনের সুযোগ ছিল।

কিন্তু শি জিনপিংয়ের প্যান চাইনিজ ‘ঝংহুয়া’ নীতি এর সঙ্গে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। দেশটির সংখ্যালঘু জাতিসত্তাভিত্তিক অঞ্চলগুলোর সাম্প্রতিক বিক্ষোভগুলো বলছে, স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিরোধের মুখোমুখি হওয়া ছাড়া এটির বাস্তবায়নও অসম্ভব।

এর ফলে দেশটির জাতীয় ঐক্য ও স্থিতিশীলতাও হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে জানিয়ে পশ্চিমা মানবাধিকার সংস্থা ও সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করছে, সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভের পর ইনার মঙ্গোলিয়া গ্রেফতারকৃতের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশিত সংখ্যার চেয়েও অনেক বেশি। নিউইয়র্কভিত্তিক সাউদার্ন মঙ্গোলিয়া হিউম্যান রাইটস ইনফরমেশন সেন্টার বলছে, ওই ঘটনার পর ৮-১০ হাজার মঙ্গোলীয়কে কোনো না কোনো ধরনের পুলিশি হেফাজতে আনা হয়েছে। অন্যদিকে বিভিন্ন শিবিরে ধরে আনা উইঘুরিদের সংখ্যা এখনো অজ্ঞাত। 

স্যাটেলাইট ইমেজারির ভিত্তিতে বিবিসি দাবি করছে, এ সংখ্যা কয়েক লাখ হতে পারে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের হিসাবমতে, উইঘুর শিবিরগুলোয় বন্দির সংখ্যা ১০ লাখও হতে পারে। একইভাবে সম্প্রতি আটককৃত তিব্বতিদের প্রকৃত সংখ্যাও জানা যায়নি এখনো। 

মাও সেতুং এবং চীনকে সংস্কারের মাধ্যমে পুঁজিবাদের পথে নিয়ে যাওয়া তেং শিয়াও পিংয়ের পর সম্ভবত চীনের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নেতা হলেন শি জিনপিং। কিন্তু এর পরও তার চীনকে এক জাতির দেশে পরিণত করার পরিকল্পনাটিকে আগুন নিয়ে খেলারই নামান্তর বলে আখ্যা দিচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা। এ বিষয়ে জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির চীন বিশেষজ্ঞ জেমস মিলওয়ার্ডের ভাষ্য হলো, শি জিনপিংয়ের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার নিরর্থক স্বপ্নটি শুধু যে দেশটির জাতিগত বৈচিত্র্য নিয়ে ঐতিহ্যগত দৃষ্টিভঙ্গির খেলাপ, তা নয়। বরং তার এ একীভূতকরণ কার্যক্রম একই সঙ্গে সেই অস্থিতিশীলতার জন্ম দিচ্ছে, যা তার দল দীর্ঘদিন ধরেই এড়িয়ে চলতে চেয়েছে।

—(এশিয়া টাইমস অবলম্বনে)

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন