শনিবার | জানুয়ারি ১৬, ২০২১ | ৩ মাঘ ১৪২৭

দেশের খবর

বাগেরহাটে শিশু অপহরণ-হত্যা মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, বাগেরহাট

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে মা-বাবার কোল থেকে ঘুমন্ত তিনমাস বয়সী শিশু আব্দুল্লাহ অপহরণ ও হত্যা মামলায় তিন আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে প্রত্যেক আসামিকে ৪৫ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন।

আজ রবিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. নূরে আলম আসামিদের উপস্থিতিতে এই আদেশ দেন। 

দণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন, মোরেলগঞ্জ উপজেলার নিশান বাড়িয়া এলাকার মোয়াজ্জেম হোসেন হাওলাদারের ছেলে মো. হৃদয় ওরফে রাহাত হাওলাদার (২১), জসিম হাওলাদারের ছেলে মো. মহিউদ্দিন হাওলাদার (২২) এবং মো. আব্দুর রশিদ হাওলাদারের মো. ফয়জুল ইসলাম (২৯)। 

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১১ মার্চ ভোর রাতে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বিশারীঘাটা গ্রামে পিতা-মাতার শোয়ার ঘর থেকে ঘুমান্ত তিন মাস বয়সী শিশু আব্দুল্লাহকে চুরি করে দুর্বৃত্তরা।ওই দিনই শিশুটির পিতা মো. সিরাজুল ইসলাম সোহাগ বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি হয়ে মোরেলগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে চুরিরসময় নেয়া আব্দুল্লাহর-র পিতা সোহাগ হাওলাদের মুঠোফোন থেকে ফোন করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করেন দুর্বৃত্তরা।পরে আসামিদের চাওয়া অনুযায়ী সোহাগ ১০ লাখ টাকা দিলেও তারা শিশুটিকে ফেরত দেয়নি। ১৩ মার্চ মো. হৃদয় ওরফে রাহাত হাওলাদারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে হৃদয়ের কথিত মতে ১৭ মার্চ দুপুরে মোরেলগঞ্জ উপজেলার বিশারীঘাটা এলাকার একটি রাস্তার পাশে থাকা টয়েলেটের মধ্য থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে হৃদয়ের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আরও দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার রিপোর্টের ভিত্তিতে ২০২০ সালের ৯ মার্চ আদালতে চার্জ গঠন করা হয়। ২৫ জন সাক্ষির মধ্যে ২৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহন ও যুক্তি তর্ক শেষে আদালত এই রায় প্রদান করেন।

এই মামলার রাষ্ট্রীয় কৌসুলী রণজিৎ কুমার মন্ডল বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৭ ধারায় আসামিদের অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড এবং ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন আদালত। এছাড়া দন্ডবিধি ৩০২/৩৪ ধারার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড এবং ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন আদালত। আমরা এই রায়ে খুশি হয়েছি।

তবে মামলার বাদি শিশুটির বাবা সিরাজুল ইসলাম সোহাগ বলেন, আশা ছিল ফাঁসি হবে, তারপরও রায়ে খুশি। এই রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন