মঙ্গলবার | জানুয়ারি ১৯, ২০২১ | ৬ মাঘ ১৪২৭

খবর

চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সেক্টরের দক্ষ জনবল পাওয়া কঠিন: নসরুল হামিদ

বণিকবার্তা অনলাইন

দেশের বিদ্যুৎ সেক্টর পরিচালনার জন্য যে ধরনের লোকবল প্রয়োজন সে অনুযায়ী দেশের বিশ্ববিদ্যলয়গুলো শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে পারছে না বলে মন্তব্য করছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। আর এজন্য বিশ্ববিদ্যলয়গুলোতে যে ধরনের গবেষণা ল্যাব রয়েছে সেগুলো পর্যাপ্ত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, দেশে প্রতিবছর কিছু মেধাবী শিক্ষার্থী বের হচ্ছে, তাদের আমরা আকর্ষণীয় সুযোগ সুবিধা দিয়ে ধরে রাখতে পারছি না। তারা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। ফলে বাইরে থেকে প্রকৌশলী কিংবা বিদেশী কোম্পানিগুলোর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
গতকাল শনিবার বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সেন্টার ফর এনার্জি স্ট্যাডিস’ বিভাগ আয়োজিত ওয়েবিনারে এ কথা বলেন তিনি। ‘ফরম্যুলেশন অব এনার্জি পলিসি : দ্য নিড অব দ্য টাইম’ শীর্ষক এ ওয়েবিনারে জ্বালানি নীতিমালা নিয়ে মূলত আলোচনা হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে এখন ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্ট হয়েছে। আরো বড় বিদ্যুৎ প্রকল্প উৎপাদনে আসছে। কিন্তু এগুলো চালানোর মতো লোকবল আমরা তৈরি করতে পারছি না। 

জ্বালানি নীতিমালার বিষয়ে নসরুল হামিদ বলেন, এনার্জি পলিসি এখনি করবো কিনা? বা ওপেন মার্কেট পলিসি করবো, সেটি নিয়ে আরও ভাবতে হবে। কেননা কভিড আমাদের নানামুখী শিক্ষা দিয়েছে ফলে। এখন এক ধরনের পলিসি করলে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট পুণরায় তৈরি হলে এই পলিসি কতটুকু ফলপ্রসু হবে সেটা নিয়েও সরকার ভাবছে।

বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক সৎয প্রসাদ মজুমদার-এর সভাপতিত্বে ও সেন্টার ফর এনার্জি পলিসি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ফারসিম এম মোহাম্মাদী সঞ্চলনায় ওয়েবিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

ওয়েবিনারে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ম তামিম ওয়েবিনারে জ্বালানি নীতিমালা সম্পর্কিত এবং দেশের জ্বালানি সেক্টর নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

এনার্জি পলিসি নিয়ে তিনি বলেন, একটা দেশের উন্নয়নে বিদ্যুৎ-গ্যাসের পলিসি গুরুৎবপূর্ণ, যেটি করা হয়েছে। এনার্জি পলিসিও প্রয়োজন তবে সেটি এক বাক্যে কিংবা এক পৃষ্ঠায় হতে পারে। এনার্জি পলিসি দেশের জ্বালানি সেক্টরের সার্বিক অবস্থা এবং সক্ষমতার ওপর তৈরি করতে হবে।

বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এজাজ আহমেদ একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করে বিভিন্ন দেশের এনার্জি নীতিমালা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতিতে এনার্জি পলিসি কতটুকু গুরুৎব বহন করে সে বিষয়ে নানা ধরনের তথ্য তুলে ধরেন।

এনার্জি পলিসি কথা বলতে গিয়ে বিইআরসি সদস্য মকবুল ইলাহি চৌধুরী (গ্যাস) বলেন, ৯৬ সালে দেশে এনার্জি পলিসি করা হয়েছিল মূলত প্রাইভেট সেক্টরকে অগ্রাধিকার দেয়ার জন্য। তিনি বলেন, এনার্জি পলিসি শুধু একটি দেশের অর্থনীতি নয়, একটি দেশের এনার্জি সিকিউরিটির বিষয়ে গুরুৎব বহন করে।

তিনি বলেন, ১৯৯৫ সালে জ্বালানি নীতিমালা করতে গিয়ে অনেকগুলো লক্ষ্য হাতে নেয়া হয়েছিল যার বেশিরভাগ লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। কিছু বাদ গেছে। এজন্য জ্বালানি খাতের লক্ষ্যমাৎরা নির্ধারণ করতে হলে একটা এনার্জি পলিসি প্রয়োজন।

ওয়েবিনারে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সাবেক সদস্য, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নূরুল ইসলাম, প্রকৌশলী মিজানুর রহমান, বুয়েটের অধ্যাপক আব্দুর জব্বার খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন