মঙ্গলবার | জানুয়ারি ১৯, ২০২১ | ৬ মাঘ ১৪২৭

সম্পাদকীয়

মার্কসীয় মতাদর্শ বিনিমার্ণে ফ্রেডরিখ এঙ্গেলসের ভূমিকা ও অবদান

অনিন্দ্য আরিফ

সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং পূর্ব ইউরোপের সমাজতন্ত্রের বিপর্যয়ের পর মার্কসীয় মতাদর্শের বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত বজ্রনির্ঘোষ কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়ে। বিশ্ব পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদের তল্পিবাহকরা এই সুযোগে ঘোষণা করতে থাকে যে উদারনৈতিক পুঁজিবাদই পৃথিবীর শেষ কথা। কিন্তু বিশ্ব অর্থনৈতিক মহামন্দা আর সারা বিশ্বে উদারনৈতিক পুঁজিবাদের বারোটা বাজিয়ে দেশে দেশে জনতুষ্টিবাদের উত্থান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটিকে ভিন্নদিকে চালিত করছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারত পর্যন্ত যেমন একদিকে জনতুষ্টিবাদের জমিন শক্ত হয়েছে, তেমনি বিভিন্ন দেশের বুর্জোয়া শাসকশ্রেণি তার তথাকথিত লিবারেল চেহারা ঝেড়ে ফেলে নব্য ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে। তবে করোনা তাদের এই অগ্রযাত্রায় বড় ধরনের বাধা তৈরি করেছে। আগেই নব্য উদারতাবাদ মার খেয়ে গেছে আর এখন জনতুষ্টিবাদ নামক ফ্যাসিস্ট শক্তির অন্তঃসারশূণ্যতা দেখিয়ে দিয়েছে কভিড-১৯। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তিধর রাষ্ট্রের নির্বাচনে ট্রাম্পের জনতুষ্টিবাদ পরাজিত হয়েছে। এখন বাইডেনের মতো কিছুটা উদারনৈতিকতার কথা বলা নেতৃত্ব দেশটির বেহাল দশাকে কতটা পুনরুদ্ধার করতে পারবে, সে বিষয়টিও প্রশ্নবিদ্ধ। আদৌ কি তিনি ট্রাম্পের চাইতে ভিন্ন হবেন, সেটার পক্ষে আশাবাদের জায়গাও খুব দুর্বল। সর্বোপরি, বিশ্ব পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদ আজ খাদের কিনারায় পড়ে প্রমাণ করছে উদারনৈতিক পুঁজিবাদ পৃথিবীর শেষ কথা হতে পারে না। মানব সভ্যতাকে যদি টিকিয়ে রাখতে হয়, যদি বর্বরতার দিকে যেতে না হয়, তাহলে সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদের দিকে অগ্রসর হওয়ার বিকল্প নেই। আর এই অগ্রসরতার দিকে এগোতে গেলে মার্কসীয়-লেনিনীয় মতাদর্শের দীক্ষাই সবচেয়ে বড় দিক-নির্দেশক। এমন এক প্রেক্ষাপটে মার্কসীয় মতাদর্শের অন্যতম অথরিটি, বিশ্ব সর্বহারা আন্দোলনের অন্যতম নেতা এবং কার্ল মার্কসের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা ফ্রেডরিক এঙ্গেলসের দ্বিশত জন্মবার্ষিকী পালিত হচ্ছে।

আজ থেকে দুইশত বছর আগে ঠিক আজকের দিনে জার্মানির রাইন প্রদেশের বার্মেন শহরে জন্মগ্রহণকারী ফ্রেডরিক এঙ্গেলস ছিলেন বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রবাদের অন্যতম স্থপতি। কার্ল মার্কসের জীবনী সংক্রান্ত এক রচনায় লেনিন লিখেছিলেন, ‘মার্কসের মতাদর্শ সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে গেলে তার ঘনিষ্ঠতম সতীর্থ চিন্তাবিদ ও সহযোগী ফ্রেডরিক এঙ্গেলসের সঙ্গে পরিচিত হতে হবে। ‘বামপন্থী কমিউনিজম-এক শিশুসুলভ বিশৃঙ্খলা’গ্রন্থে লেনিন দেখিয়েছিলেন,‘মার্কসের মতো এঙ্গেলস এমন একজন দুর্লভ চিন্তাশীল গ্রন্থকার যার প্রত্যেকটি মৌলিক রচনার প্রতিটি বাক্য এক অসাধারণ গভীর ভাবসমৃদ্ধ।’ বস্তুতপক্ষে শ্রমিকশ্রেণির বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে মার্কসের সঙ্গে এঙ্গেলসের নাম অবিচ্ছেদ্যভাবে সম্পৃক্ত। লেনিন লিখেছিলেন,‘ইউরোপীয় প্রলেতারিয়েত বলতে পারে যে, তাদের সৃষ্টি করেছিলেন দু’জন মনীষী ও যোদ্ধা যাদের পারস্পরিক সম্পর্ক, মানবিক বন্ধুত্ব প্রাচীনকালের সকল মর্মস্পর্শী কাহিনীকে ছাপিয়ে গেছে।’ অবশ্যই সেই দুই মনীষী হলেন কার্ল মার্কস ও ফ্রেডরিক এঙ্গেলস। এই দুই মনীষীর অসাধারণ সখ্য কিন্তু এঙ্গেলসের স্বকীয় চিন্তার সৃজনশীলতাকে কখনো ঝাপসা করে দেয়নি। বরং তাকে আরো উদ্দীপ্ত করেছে।

এঙ্গেলসের ব্যবসায়ী পিতা চেয়েছিলেন পুত্র তার মতোই পাড় ব্যবসায়ীতে পরিণত হন। এজন্য পুত্রের প্রাতষ্ঠানিক পড়াশোনার অকস্মাৎ ছেদ ঘটিয়ে তাকে ইংল্যান্ডের ম্যাঞ্চেস্টারে নিজের বিস্তৃত ব্যবসার কাজে যুক্ত হওয়ার জন্য পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু মানব ইতিহাসকে পাল্টানোর জন্য জ্ঞান অনুসন্ধানের জন্য ব্রতই এঙ্গেলসকে বেশিদিন পিতার ব্যবসায়িক অফিস কিংবা কারখানার চার দেওয়ালের মাঝে সীমাবদ্ধ রাখতে পারেনি। যৌবনের প্রারম্ভে ‘তরুণ জার্মানি’ নামক র‌্যাডিক্যাল সাহিত্য আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া এঙ্গেলস পরবর্তীতে ‘ইয়ং হেগেলিয়ান’দের একটি গোষ্ঠী ‘দি ফ্রি’-র সঙ্গে যুক্ত হন। কিন্তু এসব বামপন্থী হেগেলিয়ানদের সঙ্গে চলতে গিয়ে তিনি তাদের চিন্তা ও দর্শনের মধ্যে অসঙ্গতি দেখতে পান এবং নতুন পথের সন্ধান করতে থাকেন। ইতিমধ্যে বাবার নির্দেশে ব্যবসায়িক কাজে যুক্ত হয়ে  ইংল্যান্ডের কারখানাগুলোতে সেই সময়কার নব্য শিল্প শ্রমিকদের দুর্দশাময় জীবন স্বচক্ষে অবলোকন করতে থাকেন। তার এই পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে রচনা করেন তার প্রথম শক্তিশালী কাজ-‘ইংল্যান্ডে শ্রমিকশ্রেণির অবস্থা’। মার্কসের কাছে এই বইটি ছিল উচ্চ সমাদৃত, লেনিনের ভাষায় ‘a terrible indictment of capitalism and bourgeoise’। এঙ্গেলস তার অভিজ্ঞতা, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ও জ্ঞানের সাহায্যে শ্রমিকশ্রেণির যে ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা এখানে প্রকাশ করেছিলেন, তা মার্কসের দর্শনের সাথে অভিন্ন। পরবর্তীতে মার্কস যখন তার অর্থনৈতিক ভাবনা সম্প্রসারিত করেন, তখন এই বইটির তথ্য ও সিদ্ধান্তের ওপর খুবই নির্ভর করেছিলেন। অথচ তখনও মার্কসের সঙ্গে এঙ্গেলসের সরাসরি সাক্ষাৎ ঘটেনি।

মার্কসের সঙ্গে এঙ্গেলসের প্রথম সাক্ষাৎ ঘটেছিল ১৮৪২ সালের নভেম্বর মাসে কোলোন শহরে ‘রাইনিশে জাইতুং’-এর সম্পাদকীয় অফিসে। যদিও তাদের প্রথম আলাপ খুব বেশি একটা জমেনি। কেননা মার্কস তখন ইয়ং হেগেলিয়ানদের একটি অংশ ‘দি ফ্রি’ গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের ‘বিমূর্ত সমালোচনা’ তত্ত্বের বিরুদ্ধে বিতর্করত এবং তিনি এঙ্গেলসকে চিনতেন তাদের একজন ঘনিষ্ঠ হিসাবে। অবশ্য এঙ্গেলস মার্কসকে তখনই ইউরোপের সমস্ত বিপ্লবী চিন্তাবিদ ও লেখকের মধ্যে অগ্রগণ্য মনে করতেন। এর দুই বছর পরে যখন দুইজনের সাক্ষাৎ ঘটে সেইটি হলো মার্কসবাদের ইতিহাসে এতিহাসিক ঘটনার সূচনা। এখান থেকেই শুরু হয় এমন এক অকৃত্রিম বন্ধুত্বের যার ওপর ভিত্তি করে মানব ইতিহাসকে পাল্টে দেওয়ার যুগান্তকারী দর্শনের আবির্ভাব ঘটে।

এই দুই মনীষীর মধ্যকার সম্পর্ক কেবলমাত্র নিছক বন্ধুত্বই ছিল না, তাদের দার্শনিক মেলবন্ধনই এখানে সবচাইতে উল্লেখযোগ্য। পৃথিবীর ইতিহাসে অনেক বন্ধুত্বের কথা শোনা যায়, বন্ধুত্বের জন্য আত্মত্যাগের মহান দৃষ্টান্তও রয়েছে বেশ কয়েকটা, কিন্তু এরকম দর্শনগত বন্ধুত্ব যা আবার প্রবল পারস্পরিক আত্মত্যাগের মাধ্যমেও মহীয়ান খুব একটা আছে কি না সন্দেহ। মার্ক-এঙ্গেলস যৌথভাবে যেমন একদিকে রচনা করেছেন প্রচলিত পৃথিবী পাল্টানোর পথ-নির্দেশক অনেক গুরত্বপূর্ণ রচনা, আবার একে অন্যের মহান সৃষ্টিতেও অবদান রেখেছেন। যেমন কার্ল মার্কস যখন তার পুঁজিবাদী অর্থনীতির অন্তঃসারশূণ্যতা প্রমাণ করার লক্ষ্যে মহান সৃষ্টি ‘দাস ক্যাপিটাল’ রচনার কাজে ব্যস্ত, তখন এঙ্গেলস মার্কসের পরিবারের অনেক অর্থনৈতিক দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে তো নিয়েছেনই, এমনকী মার্কস যাতে শুধু এই মহান গবেবষণার কাজে নিযুক্ত হতে পারেন, সেজন্য তার হয়ে নিজে ‘নিউ ইয়র্ক ট্রিবিউনে’র জন্য লেখা লিখে দিয়েছেন। তাদের চিঠিপত্র প্রকাশিত না হলে জানাই যেত না যে ট্রিবিউনে প্রকাশিত লেখার এক-তৃতীয়াংশই এঙ্গেলসের লেখা। আবার মার্কসের মৃত্যুর পরে এঙ্গেলস ‘দাস ক্যাপিটালে’র দ্বিতীয় ও তৃতীয় খন্ডের সম্পাদনার কঠিন দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছেন, প্রকাশ করার কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন এবং প্রথম খন্ড ইংরেজিতে অনুবাদও করেছেন। তারপরেও মার্কসীয় মতাদর্শ বিনির্মাণে নিজের অবদান সম্পর্কে এঙ্গেলস অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে বলেছেন,‘মার্কস যা পেরেছিলেন আমি তা কখনই পারতাম না। আমাদের তুলনায় মার্কস ছিলেন অনেক উঁচুতে দাঁড়িয়ে অনেক দূর পর্যন্ত দৃষ্টি চালিয়ে অনেক ব্যাপক ও দ্রুত অবস্থান নিতে পেরেছিলেন। মার্কস ছিলেন প্রতিভাধর, আর আমরা ছিলাম বড়জোড় সহজাত দক্ষতা সম্পন্ন।’

মার্কস যখন ‘দাস ক্যাপিটাল’ লেখায় ব্যস্ত হলেন, তখন এঙ্গেলস গভীর মনোযোগের সঙ্গে নোট নিচ্ছেন, পাঠ করছেন সমকালীন পৃথিবীতে রসায়ন, ভূবিদ্যা, প্রযুক্তির ইতিহাস সংক্রান্ত বইপত্র। মার্কস ও এঙ্গেলস উভয়েই পুঁজিবাদের স্বরূপকে বোঝার জন্য গভীরভাবে আগ্রহী ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ইতিহাসে। কিন্তু ‘দাস ক্যাপিটাল’ লেখার সময় মার্কসকে যেহেতু অর্থনীতি এবং দর্শনের পড়াশোনার সঙ্গে বেশি ব্যস্ত থাকতে হয়েছে, তাই এঙ্গেলসকে এ সংক্রান্ত পাঠে মনোনিবেশ করতে হয়েছে। সমাজতন্ত্র বলতে যে আসলে বোঝায় শ্রমজীবী মানুষের স্বশাসন, সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদ যে রাষ্ট্রের অবিলুপ্তির ধারণাকেই মান্যতা দেয়, এই ভাবনাগুলির খোঁজ করতে গিয়ে আমরা সাধণত দৃষ্টিপাত করি ‘কমিউনিস্ট ইশতেহার’ কিংবা মার্কস রচিত ‘ক্রিটিক অফ দ্য গোথা প্রোগ্রাম’-এর দিকে। কিন্তু এটাও খেযাল রাখা উচিত যে সাম্যবাদ ভাবনার মূল কথা ও মূল নীতিগুলো প্রথম পেশ করেছিলেন এঙ্গেলস তার ‘দ্য ড্রাফট অফ আ কমিউনিস্ট কনফেশন অফ ফেথ’, ‘প্রিন্সিপালস অফ কমিউনিজম’, এবং তার পরে ‘অ্যান্টি ড্যুরিং’-এর তৃতীয় অংশে। আবার পিতৃতন্ত্রের সমালোচনা, লিঙ্গবৈষম্য বিষয়টি জৈবিক নয়, সামাজিক-নারীবাদী তত্ত্বের এই মূল ভাবনাগুলোকে নিয়ে কলম ধরেছিলেন এঙ্গেলস-তার ‘দি অরজিন অফ দ্য ফ্যামিলি, প্রাইভেট প্রপার্টি অ্যান্ড স্টেট’ গ্রন্থে। কেট মিলেট, শুলামিথ ফায়ারস্টোন প্রমুখ বিশিষ্ট রাডিক্যাল নারীবাদীরা স্বীকার করেন, সমাজতান্ত্রিক নারীবাদী ভাবনার এঙ্গেলসই ছিলেন আদি প্রবক্তা। মার্কসের মতো এঙ্গেলসও বিশ্বাস করতেন যে শুধু তত্ত্বেই আবদ্ধ থাকলে চলবে না, সরাসরি বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকতে হবে এবং সংগঠন গড়তে হবে। ১৮৪৮ সালে ইউরোপ জুড়ে যে বুর্জোয়া বিপ্লবের ঢেউ উঠেছিল, সেখানে মার্কসের সঙ্গে তিনিও সরাসরি লড়াইয়ের ময়দানে ছিলেন। আবার মার্কসের সাথে মিলে তৈরি করেছিলেন প্রথম আন্তর্জাতিক এবং মার্কসের মৃত্যুর পর গড়ে তুলেছিলেন দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক। ১৮৯৫ সালের ২৫ আগস্ট বিশ্ব প্রোলেতারিয়েতের এই মহান নেতা মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পরেও যাতে কোনো আড়ম্বর না হয, সেই সতর্কবাণী তিনি তার ইচ্ছাপত্রে লিপিবদ্ধ করেন। শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে তার ইচ্ছানুসারে মাত্র কয়েকজন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু, কিছু ছাত্র ও কমিউনিস্ট সহকর্মী উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন দেশের ৮০ জন অতিথি ও নেতা যোগ দিয়েছিলেন। তার ভস্ম সমুদ্রে ভাসিয়ে দেবার জন্য তিনি ইচ্ছাপত্রে লিখে যান। সেই অনুসারেই তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। ব্যক্তিপূজার বিরুদ্ধে এই অবস্থান যুগে যুগে শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে।

বর্তমান সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং পূর্ব ইউরোপের বিপর্যয়ের পর বিশ্বের সাম্যবাদী আন্দোলন কিছুটা পিছু হটলেও পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদের মহাসংকট এবং এখনকার করোনা মহামারী প্রমাণ করছে যে মানবিক সমাজ বিনির্মাণ তথা সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদের অভিমুখে যাত্রা ছাড়া বিকল্প নেই। সেই সমাজ বিনির্মাণের লড়াইয়ে তরুণ এঙ্গেলসের মতো উচ্চারণ করি- ‘আসুন আমরা লড়াই করে রক্ত ঝড়াই, শত্রুর রক্ত ঝরাই, শত্রুর রক্তচক্ষুর সামনে অচঞ্চল থাকি এবং শেষ জয় পর্যন্ত অবিচল থাকি।’

লেখক: সাংবাদিক

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন