মঙ্গলবার | জানুয়ারি ১৯, ২০২১ | ৬ মাঘ ১৪২৭

শেষ পাতা

কাবিটা কর্মসূচি : দুর্নীতি রোধে ১০ জেলায় অর্থ বরাদ্দে ১৩ শর্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) বা কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) কর্মসূচিতে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি খাতে দেশের ১০ জেলায় ২২ কোটি ৪৫ লাখ ১১ হাজার ৪৮৫ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। তবে দুর্নীতি রোধে কর্মসূচি বাস্তবায়নে ১৩টি কঠিন শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। অর্থ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে তথ্য জানা গেছে।

দশ জেলার জেলা প্রশাসকের অনুকূলে দেয়া বরাদ্দপত্রে বলা হয়, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কারে কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) কর্মসূচির আওতায় প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ৫৯ উপজেলায় প্রকল্প গ্রহণ বাস্তবায়নের জন্য উপজেলাওয়ারি প্রথম কিস্তির ২২ কোটি ৪৫ লাখ ১১ হাজার ৪৮৫ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হলো। সেই সঙ্গে অর্থ ব্যয়ে ১৩ শর্তও জুড়ে দিয়েছে মন্ত্রণালয়। শর্তগুলো হচ্ছে প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের তদারকি বা জবাবদিহিতার আওতায় এনে সর্বসাধারণের কাছে তা দৃশ্যমান করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের মাসিক অগ্রগতির প্রতিবেদন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে। নিরীক্ষার জন্য হিসাব ভাউচার যথারীতি সংরক্ষণ করতে হবে। বরাদ্দকৃত অর্থ আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে শেষ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন না হলে প্রকল্প বাতিল করে দেয়া এবং দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে বরাদ্দকৃত নগদ অর্থ ফেরত নেয়াসহ দেশের প্রচলিত আইন মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এছাড়া কর্মসূচির নগদ অর্থ ব্যয়ে প্রচলিত সব আর্থিক বিধান, কাবিখা নির্দেশিকা-২০১৪- বর্ণিত অনুশাসনাবলি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। অর্থ দিয়ে সোলার খাতের কোনো প্রকল্প বা স্কিম গ্রহণ করা যাবে না। কর্মসূচির প্রকল্প গ্রহণ/বাছাই কাবিটা কর্মসূচির নির্দেশিকা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। বরাদ্দকৃত অর্থের বিপরীতে জেলা কর্ণধার কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত প্রকল্প তালিকা প্রকল্প ছক অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে। প্রি-ওয়ার্ক পরিমাপ বাধ্যতামূলক করা এবং প্রি-ওয়ার্কের ডকুমেন্টের ছবি তুলে রাখাসহ ভিডিও সফট কপি সিডি আকারে সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে কর্মোত্তর জরিপের একটি তুলনা করা সম্ভব হয়। প্রতিটি প্রকল্পের বর্ণনাসহ যথাযথ সাইজের সাইন বোর্ড দৃশ্যমান স্থানে স্থাপন বাধ্যতামূলক করতে হবে। উপজেলাগুলোতে বরাদ্দ দেয়ার ১৫ দিনের মধ্যে পিআইসি গঠনসহ আনুষঙ্গিক কাজ সম্পূর্ণ করতে প্রকল্প কাজ শুরু নিশ্চিত করার পাশাপশি অব্যয়িত নগদ অর্থ যথাসময়ে ফেরত প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।

নতুন বা সংস্কারকৃত গ্রামীণ রাস্তার দুপাশে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শক্রমে তালগাছের চারা রোপণের কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। গৃহীত বা প্রস্তাবিত প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করে বরাদ্দকৃত অর্থ ছাড় করতে হবে।

প্রসঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (কাবিখা-) মো. মনিরুজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, কর্মসূচির আওতায় ইউনিয়ন পর্যায়ে সর্বনিম্ন লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। কোনো ইউনিয়নে দুই লাখের নিচে জনসংখ্যা থাকলে একটা প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। আর যদি জনসংখ্যা বেশি হয় তাহলে একাধিক প্রকল্প গ্রহণ করা হতে পারে। এসব প্রকল্পে দৈনিক ঘণ্টা কাজ করলে শ্রমিকরা সাত কেজি চাল বা আট কেজি গম বা সমপরিমাণ টাকা পাবেন। এক্ষেত্রে কাবিখার নির্দেশনায় বাস্তবায়িত হবে। তবে চাল বা গমের পরিবর্তে টাকা দেয়ার জন্য এটার নাম হয়ে গেছে কাবিটা।

খাতের দুর্নীতির বিষয়ে তিনি বলেন, আমরাও অনুসন্ধান করছি। যেসব ক্ষেত্রে অনিয়ম পাওয়া গেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়নি। অব্যাহত রয়েছে। তবে কোনো কোনো সময় কাবিখা কোনো কোনো সময় কাবিটা নামে কর্মসূচি চলছে। আগামীতেও কর্মসূচি যেন দুর্নীতিমুক্তভাবে সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেজন্য ১৩টি শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে।

বরাদ্দপত্রে দেখা গেছে, খুলনা জেলার নয় উপজেলার বিপরীতে কোটি ৭২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৭৫ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া সাতক্ষীরার সাত উপজেলায় কোটি ৫৮ লাখ ১৯ হাজার, যশোরের আট উপজেলায় কোটি ৩৩ লাখ হাজার, বাগেরহাটের নয় উপজেলায় কোটি ৬১ লাখ ১৬ হাজার, কুষ্টিয়ার ছয় উপজেলায় কোটি ৭৪ লাখ ৬৭ হাজার, চুয়াডাঙ্গা জেলার চার উপজেলায় কোটি ৩০ লাখ ২৯ হাজার, মেহেরপুরের তিন উপজেলায় ৭৩ লাখ ১০ হাজার, ঝিনাইদহের ছয় উপজেলায় কোটি লাখ ২৩ হাজার, মাগুরার চার উপজেলায় কোটি ৪৫ লাখ ৬৫ হাজার এবং নড়াইলের তিন উপজেলায় ৮৯ লাখ ৭৭ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন