শনিবার | জানুয়ারি ১৬, ২০২১ | ৩ মাঘ ১৪২৭

দেশের খবর

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

উদ্বোধনের ৯ মাসেও চালু হয়নি কার্ডিয়াক ক্যাথল্যাব

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ

প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে অল্প খরচে হূদরোগের চিকিৎসাসেবা দেয়ার লক্ষ্যে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে স্থাপন করা হয় কার্ডিয়াক ক্যাথল্যাব। কিন্তু জনবল নিয়োগ না দেয়ায় উদ্বোধনের নয় মাস পেরিয়ে গেলেও চালু হয়নি ক্যাথল্যাব। ফলে হূদরোগে আক্রান্তদের এনজিওগ্রাম পরীক্ষা, হার্টের রিং পরানো, পেসমেকার স্থাপন, হার্টের বাল্ব রিপেয়ারিংয়ের জন্য এখনো ঢাকায় যেতে হচ্ছে। এতে খরচের পাশাপাশি ভোগান্তিও বেড়েছে কয়েক গুণ।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ক্যাথল্যাব পরিচালনার জন্য এরই মধ্যে ১০ শয্যার একটি পোস্ট ক্যাথল্যাব ওয়ার্ড স্থাপন করা হয়েছে। জাপান থেকে আনা উন্নত প্রযুক্তির এনজিওগ্রাম যন্ত্রও হাসপাতালে পৌঁছেছে। কিন্তু ক্যাথল্যাব পরিচালনার জন্য বিশেষজ্ঞ ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট নিয়োগ না দেয়ায় তা এখনো অব্যবহূত রয়েছে। চলতি বছরের মধ্যে ইউনিট চালুর সম্ভাবনা দেখছেন না খোদ মমেক কর্মকর্তারাই।

মমেক হাসপাতাল স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহের ছয় জেলা, কুড়িগ্রামের একাংশ সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার মানুষ উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসে। প্রতিদিন হাসপাতালে আউটডোর ইনডোর মিলিয়ে অন্তত ১২ হাজার রোগী সেবা নেন। করোনার মধ্যেও সেবার কমতি নেই। এক হাজার শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন রোগী ভর্তি থাকেন আড়াই হাজার। মুজিব বর্ষ উপলক্ষে ১৫ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হূদরোগ বিভাগে স্থাপন করা হয় অত্যাধুনিক কার্ডিয়াক ক্যাথল্যাব। আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যাথল্যাবের উদ্বোধনও করা হয়। কিন্তু ক্যাথল্যাব স্থাপন হলেও এর সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন অঞ্চলের প্রায় আড়াই কোটি মানুষ।

ক্যাথল্যাব স্থাপনের সময় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ক্যাথল্যাব চালু হলে হূদরোগে আক্রান্ত রোগীদের এনজিওগ্রাম পরীক্ষা, রিং পরানো, পেসমেকার স্থাপনসহ হার্টের বাল্ব রিপেয়ারিংয়ের কাজও করা যাবে এখানে। এরই মধ্যে ক্যাথল্যাবে জাপান থেকে আনা সিমাকজো এনজিওগ্রাম মেশিন বসানোও হয়েছে। তবে জনবলের অভাবে যন্ত্র এখনো চালু করা যায়নি।

শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ জামালপুরের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোকারবিন বলেন, বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে অন্য কোনো মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কার্ডিয়াক ক্যাথল্যাব নেই। ফলে বাধ্য হয়ে অঞ্চলের রোগীরা চিকিৎসার জন্য ঢাকা কিংবা বিদেশে যাচ্ছেন। এতে চিকিৎসা ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। মমেকে হাসপাতালে ক্যাথল্যাব চালু হলে চিকিৎসা ব্যয় অনেক কমার পাশাপাশি রোগীদের ভোগান্তিও কমবে।

হাসপাতালের হূদরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. গণপতি আদিত্য বলেন, করোনার কারণে ক্যাথল্যাবে স্থাপিত জাপান থেকে আনা সিমাকজো এনজিওগ্রাম মেশিনটি এখনো চালু করা যায়নি। কোম্পানির বিশেষজ্ঞ টিম এসে এনজিওগ্রাম মেশিনটির ফাংশনাল স্ট্যাটাস পরীক্ষা করে হূদরোগ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করবে। এর পরই দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগীদের চিকিৎসাকাজ চালাতে পারবেন। করোনার কারণে বছরে ল্যাবটি চালুর সম্ভাবনা কম। তবে আগামী বছরের এপ্রিলের দিকে ক্যাথল্যাবটি পুরোদমে চালু করা হয়তো সম্ভব হবে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. লক্ষ্মী নারায়ণ মজুমদার বণিক বার্তাকে বলেন, হূদরোগ বিভাগে ক্যাথল্যাব চালু করতে ১০ শয্যার একটি পোস্ট ক্যাথল্যাব ওয়ার্ডসহ সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। একজন ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। করোনার কারণে কার্ডিওলজিস্ট নিয়োগ না হওয়ায় ক্যাথল্যাবটি এখনো চালু করা যায়নি। তবে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। জনবল পেলে আশা করছি দ্রুত এটি চালু করা সম্ভব হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন