শনিবার | জানুয়ারি ১৬, ২০২১ | ৩ মাঘ ১৪২৭

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোডের’ বিকল্প পথে তাইওয়ান-যুক্তরাষ্ট্র

বণিক বার্তা ডেস্ক

তাইওয়ানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন অনানুষ্ঠানিক একটি জোট চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের বিকল্প উদ্যোগের কথা বলছে। উদ্যোগ যেসব দেশ নিজেদের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য তহবিল অনুসন্ধান করছে, তাদেরকে অর্থায়নের ব্যাপারে অধিকতর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। সম্প্রতি এসব কথা বলেছেন তাইওয়ানের অর্থমন্ত্রী। খবর ব্লুমবার্গ।

তাইওয়ান যুক্তরাষ্ট্র এশিয়া লাতিন আমেরিকায় অবকাঠামো এবং এনার্জি প্রকল্পে অর্থায়নের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে তারা বৃহত্তর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বেসরকারি খাত থেকে আসা মূলধন ব্যবহার করার কথা ভাবছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী সু জাইন-রং। তিনি আশা করছেন, আগামী বছর বা তার পরের বছরের মধ্যে প্রথম প্রজেক্টটি তারা শুরু করতে পারবেন।

সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের মধ্যকার একটি চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে পরিকল্পনাটি যাত্রা শুরু করেছিল, যার লক্ষ্য ছিল তাইওয়ানিজ ব্যাংক, বীমা বেসরকারি মূলধন ব্যবহার করে বন্ডের মাধ্যমে তহবিল বৃদ্ধি করা। উদ্যোগকে ওয়াশিংটন তাইপে উভয়ের জন্য চীনের বৈশ্বিক অবকাঠামোগত উন্মুক্ততার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মূলত আন্তর্জাতিক প্রকল্প সম্পর্কে বেইজিংয়ের প্রতিশ্রুতি নিয়ে উদ্বেগ উন্নয়নশীল দেশগুলোয় আর্থিক দুরবস্থাকে সামনে রেখে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। 

বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ ব্যাপকভাবে নির্ভর করে বেইজিং থেকে সরকারকে দেয়া লোনের ওপর এবং সাধারণত চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত উদ্যোগগুলো এর সঙ্গে জড়িত থাকে।

এদিকে সুয়ের মতে, তাইওয়ানের পরিকল্পনা হচ্ছে শক্তিশালীভাবে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকারীদের ওপর জোর দেয়া, পাশাপাশি বাজারের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহের ওপরও জোর দিচ্ছে তারা; যা বাজারকে আরো বেশি স্বচ্ছ করে তুলবে।

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস মে মাসে জি২০-ভুক্ত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান সরকারি ঋণ চুক্তিতে আরো স্বচ্ছতা আনার জন্য। যেখানে বলা হয়, এটাই একমাত্র পথ, যার মাধ্যমে বিনিয়োগের চুক্তিতে স্বাক্ষরদানকারীদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের স্বার্থের একটি ভারসাম্য তৈরি হবে। পাশাপাশি তাইওয়ান চাইছে আরো বৃহত্তর তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে, যেখানে বন্ড বিক্রয় প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অর্থের পরিমাণ, উৎপাদন ব্যবহারের উদ্দেশ্য অন্তর্ভুক্ত।

তাইওয়ান হচ্ছে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোয় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারিত্বের বিস্তৃত রোস্টারের সর্বশেষ সংযোজন। আরো ১৬টি দেশ এরই মধ্যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একই ধরনের চুক্তিতে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন সু, যার অধীনে সেসব দেশের কোম্পানি অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর তহবিলের জন্য কাজ করে ইউএস ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ফিন্যান্স করপোরেশনের সঙ্গে। এর আগে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া অস্ট্রেলিয়া ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পার্টনারশিপ গড়ার কথা জানায়

গত বছর দেয়া বিশ্বব্যাংকের হিসাব মতে, চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অংশ হিসেবে ৫৭৫ বিলিয়ন মূল্যের প্রকল্প হয় নির্মিত হয়েছে বা কাজ চলমান রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হিসাব মতে, তারা ২০২৫ সালের মধ্যে উন্নয়শীল দেশগুলোয় সম্মিলিতভাবে ৭৫ বিলিয়ন ডলাার বিনিয়েগ করবে। এটা তারা করবে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ফিন্যান্স করপোরেশন এবং বেসরকারি মূলধনের সাহায্যে। তবে তাইওয়ানি বিনিয়োগকারীরা কতটা অবদান রাখবেন, সে বিষয়ে কিছুই বলেননি সু।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তাইওয়ানকে সমর্থন দিয়েছে মূলত হোয়াইট হাউজ দ্বারা চীনকে মোকাবেলার অংশ হিসেবে। এমনকি জানুয়ারিতে জো বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণের পরও এই সমীকরণে খুব বেশি পরিবর্তন আসবে বলে মনে করেন না সু। এজন্য তিনি একই ধরনের মূল্যবোধ ভাগাভাগি করা এবং ওয়াশিংটনে তাইওয়ানের জন্য শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সমর্থনকে দায়ী করেছেন। সু বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের পর বইডেনের উচিত মৌলিক কাঠামো বজায় রাখা। সময় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না বলেও জানান তিনি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন