রবিবার | জানুয়ারি ২৪, ২০২১ | ১১ মাঘ ১৪২৭

দেশের খবর

ঘোড়াঘাট পৌরসভা

সড়কের ইট তুলে বিক্রির অভিযোগ কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, হিলি

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে পৌরসভার এলাকায় একটি সড়কের ইট তুলে নিয়ে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাহেব আলীর বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে ঘোড়াঘাট পৌর ভবনের ধারঘেঁষে ঘাটপাড়া যাওয়ার রাস্তাটি ইট দিয়ে কার্পেটিং করেছিল ঘোড়াঘাট পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি রাস্তাটির ধার দিয়ে বন্দরের পানিপ্রবাহের জন্য একটি লোকাল ড্রেনও নির্মাণ করা হয়। ড্রেনটির মাধ্যমে শহরের পানি সরাসরি করতোয়া নদীতে গিয়ে পড়ত। রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন সাধারণ মানুষ চলাচল করে। তবে টেন্ডার ছাড়াই সম্প্রতি সেই রাস্তার ইট তুলে কম দামে বিক্রি করে দেন ঘোড়াঘাট পৌরসভার নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাহেব আলী।

সরেজমিন দেখা যায়, রাস্তাটিতে মাটি ফেলছেন শ্রমিকরা। আর রাস্তার ধারঘেঁষে জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে আরসিসি ড্রেন তৈরি করছেন নির্মাণ শ্রমিকরা। আবার রাস্তার পাশ দিয়ে থাকা বেশ কয়েকটি বাড়ির ভেতরে পুরনো ইট দেখা যায়। এদিকে রাস্তার ইট ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কে সাংবাদিকের কাছে স্থানীয় লোকজন বক্তব্য দিচ্ছে শুনে কাউন্সিলর সাহেব আলী তার স্ত্রীসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লোকজনকে গালাগাল করেন।

সময় কাউন্সিলর সাহেব আলী বলেন, এসব ইটের টাকা কি আমি একা খাই? আরো অনেকেই আছেন, তাদেরও দেয়া লাগে। প্রথমে যখন ইট তোলা হয় তখন আমি বাধা দিয়েছি।

স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, এক সপ্তাহ ধরে ইটগুলো রাস্তা থেকে তুলে সাহেব কমিশনার প্রতি হাজার ইট সাড়ে হাজার টাকা মূল্যে ঘাটপাড়া গ্রামের লিটন মিয়ার কাছে হাজার ৮০০ পিস, মঞ্জুর কাছে চার হাজার পিস, জাহানারা বেগমের কাছে এক হাজার পিস, সুলতানা এবং মৌলিদা বেগমের কাছে দুই হাজার পিস বিক্রি করেন।

ইট ক্রয়কারী মঞ্জু মিয়া বলেন, স্বল্প মূল্যে ইট কেনার জন্য আমাকে অফার দেয়া হয়েছিল। সে কারণে আমি চার হাজার ইট কিনেছি এবং এর সমুদয় অর্থ কাউন্সিলরকে পরিশোধ করে দিয়েছি। জন্মের পর থেকেই দেখে এলাম সড়কের উন্নয়ন হয়। কিন্তু আজ অনুন্নয়ন দেখলাম। জনপ্রতিনিধিরা মাটির উপরে ইট বিছায়, আর আমাদের জনপ্রতিনিধি ইট তুলে তাতে মাটি ফেলছেন।

ইট ক্রয়কারী স্থানীয় জাহানারা বেগম বলেন, আমি রাস্তা থেকে তোলা এক হাজার ইট কাউন্সিলরের কাছ থেকে কিনে নিয়েছি। সাড়ে তিন হাজার টাকা চেয়েছিলেন, আমি আমার ভাইরের মাধ্যমে হাজার টাকা কাউন্সিলরকে দিয়েছি।

লিটন মিয়া বলেন, আমাকে প্রথমে সব ইট কেনার জন্য বলেছিল। কিন্তু সরকারি রাস্তার ইট বলে আমি কিনিনি। কিন্তু পরে দেখলাম অনেক স্থানীয় লোকজন ইটগুলো কাউন্সিলরের কাছে থেকে কিনে নিচ্ছে। সেটি দেখে আমিও হাজার ৮০০ পিস ইট কিনে নিয়েছি।

ইট বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাহেব আলী বলেন, ওই রাস্তায় কোনো ইট ছিল না এবং কারো কাছে বিক্রিও করা হয়নি। রাস্তাটিতে মাটি ফেলা হচ্ছে। রাস্তার পাশে পুরনো লোকাল একটি ড্রেন ছিল। ড্রেনের ইট ঠিকাদাররা তুলে নিয়েছে।

ইট বিক্রির বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন পৌর মেয়র আব্দুস সাত্তার মিলন। তিনি জানান, ওই সড়কের কাজের জন্য কোনো টেন্ডার হয়নি। রাস্তার পাশে পুরনো একটি ড্রেন ছিল। সেই ড্রেনের ইট স্থানীয় লোকজন বিভিন্ন সময় নিয়ে গেছে। উন্নয়নের জন্য রাস্তাটিতে ১০০ ট্রলি মাটি ফেলা হচ্ছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন