শনিবার | জানুয়ারি ১৬, ২০২১ | ৩ মাঘ ১৪২৭

খবর

এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত

ওয়াসা নয়, ঢাকার খালের দায়িত্বে এবার সিটি করপোরেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর খালের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের হাতে দিতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

মন্ত্রী গতকাল মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে লক্ষ্যে আয়োজিত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে সিদ্ধান্তের কথা জানান।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, একসময় খালের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের হাতেই ছিল এবং আইনেও তা- আছে। পরে কোনো একসময়ে রাষ্ট্রপতির আদেশে সেটি ঢাকা ওয়াসার হাতে দেয়া হয়। এখন দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র খালের দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আজ (গতকাল) সবাই মিলে আলোচনায় বসে আমরা ওয়াসা থেকে দুই সিটি করপোরেশনের কাছে খালগুলো হস্তান্তরের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

মন্ত্রী আরো বলেন, হস্তান্তরের কাজটি এখন কীভাবে সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা যায়, সেই লক্ষ্যে আজই একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে চারজন করে আটজন, ঢাকা ওয়াসা থেকে চারজন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মুহাম্মদ ইবরাহিমকে আহ্বায়ক মোহাম্মদ সাঈদ উর রহমানকে সদস্য সচিব করে কমিটি করা হয়েছে।

গঠিত কমিটি কীভাবে কাজ করবে, ওয়াসা কীভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে, সে বিষয়ে প্রতিবেদন দেবে। সে অনুযায়ী আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পাদন হবে। কমিটি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেবে। সেই রিপোর্টের আলোকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে।

মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ঢাকা শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সংস্কারসহ সংশ্লিষ্ট কাজগুলো এতদিন ওয়াসা করে এসেছে। দায়িত্ব পাওয়ার পর দুই সিটি করপোরেশন এসব কাজ করবে। পানি নিষ্কাশনের জন্য জনবল, যন্ত্রপাতিসহ সবকিছুই সিটি করপোরেশনের কাছে আছে, তাদের সক্ষমতা আছে। দুই মেয়র অত্যন্ত আন্তরিক এবং জনবান্ধব। তারা কাজ স্বতঃস্ফূর্তভাবে করতে পারবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।

রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর আধুনিক শহরে ইউটিলিটি-সংক্রান্ত সাপোর্ট দেয়ার জন্য পাইপলাইন স্থাপন করতে হয় এবং সময় সময় ক্যাপাসিটির জন্য পরিবর্তনও করতে হয়। সমস্যা সমাধানে মেয়রসহ বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।

সময় ঢাকা উত্তর সিটি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, আজ দিনটি ঐতিহাসিক। আমরা দুই মেয়র চেয়েছিলাম ঢাকা শহরের খালগুলো আমাদের আওতায় দেয়া হোক। আজ সে বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিয়ে জনগণের যে দুর্ভোগ, আমরা চেষ্টা করব তা থেকে জনগণকে রক্ষা করতে।

দক্ষিণ সিটি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, আমরা দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা নিরসনে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি। প্রায় ৩০ বছরের বেশি সময় ঢাকাবাসী দুর্ভোগে নিমজ্জিত ছিল। আমি আশাবাদী, সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের কাজের মাধ্যমে অচিরেই ঢাকাবাসীকে এর সুফল দিতে পারব।

সময় যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেয়ায় দুই সিটি মেয়র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এলজিআরডি মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানান।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন