মঙ্গলবার | জানুয়ারি ২৬, ২০২১ | ১৩ মাঘ ১৪২৭

দেশের খবর

এক কিমির মধ্যে ৫ ড্রেজারে বালি উত্তোলন

হুমকিতে সদ্য নির্মিত ব্রিজ ও ধলেশ্বরী পাড়ের গুচ্ছগ্রাম

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলের ধলেশ্বরী নদীতে যেন ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের চর ফতেপুর থেকে শ্যামার ঘাট পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার নদী এলাকাজুড়ে পাঁচটি ড্রেজারে চলছে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন। এতে চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে সদ্য নির্মিত শাম্যার ঘাট ব্রিজ এবং ১২০টি পরিবারের জন্য নবনির্মিত গুচ্ছগ্রামের আবাসন প্রকল্পের ঘরগুলো।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এরই মধ্যে বন্যায় ব্যাপক ভাঙনকবলিত হয়েছে ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী গ্রামগুলো। ভাঙনে গ্রামবাসী হারিয়েছেন শত শত একর আবাদি জমি। ইউনিয়নের ওয়ার্ড মেম্বারসহ প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ড্রেজারগুলো চলমান থাকায় প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না গ্রামবাসী। একইভাবে সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের ব্যাপারীপাড়া গ্রামের ধলেশ্বরী নদীর অংশেও চলমান রয়েছে একাধিক ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলন।

সরজমিনে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের চর ফতেপুর গ্রাম থেকে শ্যামার ঘাট পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার ধলেশ্বরী নদীর এলাকাজুড়ে অবাধে চলছে পাঁচটি ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলন। বছরজুড়ে বালি উত্তোলন আর বিক্রি চলমান থাকলেও প্রশাসনের নেই কোনো পদক্ষেপ। ইউনিয়নের নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোতাল্লেব হোসেন মাদারী, তার ছেলে রুবেল কবির তালুকদার এবং কালাম নামের চার বালি ব্যবসায়ী ধলেশ্বরী নদীর চর ফতেপুর এলাকায় বালি উত্তোলনে রীতিমতো রাজত্ব চালাচ্ছে। আর লিটন ফজলু নামের দুই বালি ব্যবসায়ী নদীর শ্যামার ঘাটে সদ্য নির্মিত ব্রিজের পাশ থেকেই অবৈধভাবে ড্রেজারে বালি উত্তোলন করছেন।

এছাড়া বাঘিল ইউনিয়নের ব্যাপারীপাড়া গ্রামের ধলেশ্বরী নদীর অংশেও অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায় লিপ্ত রয়েছেন সুখচান, শাহজাহান, শফিকুল নামের আরো তিন বালি ব্যবসায়ী। অবৈধ বালি ব্যবসায়ীরা নদীর আশপাশের গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি পুকুর ভরাট করার চুক্তি নিচ্ছেন।

স্থানীয় জুলহাস উদ্দিনসহ একাধিক গ্রামবাসীর অভিযোগ, অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলনের ফলে তাদের ফসলি জমি, বসতভিটা গাছপালা নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। তিন বছর ধরে নিয়মিতভাবে অবৈধ ড্রেজিং চললেও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার কোনো উদ্যোগ নেয়নি প্রশাসন। তবে মাঝে মাঝে পুলিশ প্রশাসনের লোকজন এসে ড্রেজারের পাইপ ভাংচুর করলেও পরদিন থেকেই আবার তা পুনরায় চালু হয়ে যায়। এভাবে নিয়মিত ড্রেজার চালু থাকায় দিন দিন বাড়ছে নদীর আশপাশের এলাকায় বসতবাড়ি ভাঙনের শঙ্কা। গ্রামবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন উপজেলায় ড্রেজিং বন্ধে প্রশাসন নানা উদ্যোগ গ্রহণ করলেও সদর উপজেলায় নেয়া হচ্ছে না ধরনের কোনো পদক্ষেপ। নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে উঠেছে নানা প্রশ্ন। স্থায়ীভাবে ড্রেজিং বন্ধের দাবি জানান, চর ফতেপুরসহ ব্যাপারীপাড়ার গ্রামবাসীরা।

সরেজমিন জানা যায়, ৮০ হাজার টাকা চুক্তিতে শ্যামার ঘাট এলাকার সিদ্দিক ফকিরের বাড়ি ভরাটের কাজ নিয়েছেন লিটন ফজলু নামের দুই ড্রেজার ব্যবসায়ী। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে বালি ব্যবসায়ী লিটন উত্তেজিত হয়ে বলেন, আমি কেন বক্তব্য দেব? প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই বালি উত্তোলন আর বিক্রির ব্যবসা করছেন বলেও জানান তিনি। বলেন, আপনারা যত পারেন ভিডিও করেন, ছবি তোলেন, কোনো সমস্যা নেই। তবে ব্রিজের পাশ থেকেই কেন এবং কার অনুমতিতে বালি উত্তোলন করছেনএমন প্রশ্ন করা হলে বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে ড্রেজার ব্যবসায়ী দাইন্যা ইউনিয়নের নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোতাল্লেব হোসেন মাদারী বলেন, বর্তমানে ড্রেজার ব্যবসা পরিচালনা করছে আমার ছেলে রুবেল। অবৈধ হওয়ায় গত দুই বছর আমি ব্যবসা বন্ধ রাখি। তবে এখন অন্যরা ব্যবসা করায় আমিও শুরু করেছি। সবার ড্রেজিং বন্ধ হলে আমিও বন্ধ করে দেব।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান লাবলু মিয়া বলেন, ওয়ার্ড মেম্বার মোতাল্লেব হোসেন মাদারী তার ছেলে রুবেল এবং কালামসহ বেশ কয়েকজন নিয়মিত ড্রেজার ব্যবসা চালাচ্ছেন। আমি প্রতিনিয়ত প্রশাসনকে অবগত করার পরও বন্ধ হয়নি অবৈধ ড্রেজারে বালি উত্তোলন আর বিক্রি। বন্ধ না হওয়ার ফলে ইউনিয়নে প্রতিনিয়তই বাড়ছে ড্রেজার ব্যবসায়ীর সংখ্যা।

বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, কোন কোন এলাকায় ড্রেজিং চলছে তা খোঁজ নিয়ে বন্ধ করে দেয়া হবে। আর ড্রেজিং বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানান জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গণি।

টাঙ্গাইল- (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. ছানোয়ার হোসেন বলেন, ইতোমধ্যেই আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে এসব ড্রেজিং বন্ধের নির্দেশ দিয়েছি। আশা করি, দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং সদর উপজেলায় ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলন করতে দেয়া হবে না।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন