শনিবার | জানুয়ারি ১৬, ২০২১ | ৩ মাঘ ১৪২৭

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

কভিড-১৯-এ অনলাইনে স্থানান্তরিত হয়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসা

বণিক বার্তা ডেস্ক

জুন উইলকক্স, এম. জডসন বুকসেলারসের মালিক। তাই এটা অবাক করা কোনো ব্যাপার নয় যে তিনি শব্দের ভেতর দিয়ে উপায় খুঁজে নেবেন। যে কারণে উইলকক্স এখনো সাম্প্রতিক চাপ, উদ্বেগ হূদয় ভাঙাকে শব্দ দিয়ে ব্যাখ্যা করতে পারেন, পাশাপাশি এর যে স্পিরিট এবং ইতিবাচক শক্তি, তাকেও তুলে ধরতে পারেন।

যখন নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তৃতির কারণে অর্থনীতি থমকে গিয়েছিল, তখন কেমন অনুভূতি হয়েছিল তার? উইলকক্স বলেন, আমার মনে হয়েছিল, কী করতে হবে আমরা তার কিছুই জানি না। কিন্তু আমাদের কিছু একটা খুঁজে বের করতে হবে। বিশেষ করে আমরা একটা কমিউনিটির সেবা করি। পাশাপাশি আমরা চাই আমাদের সঙ্গে মানুষের কেনাকাটা যেন সহজ হয়ে ওঠে।

ফলে বড় প্রতিষ্ঠানের কাছে হার মানতে না চাওয়া এই স্বাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকরা মহামারীকালীন অভিনব উপায়ের সন্ধান করেছেন নিজের ব্যবসাকে সচল রাখতে, এমনকি তারা যখন দোকানের দরজা খুলতে পারছিল না তখনো। আর সেটি হয়েছিল ওয়াল্ড ওয়াইড ওয়েবের মাধ্যমে। গত আট মাস বা তার বেশি সময় ধরে তারা নতুন অনলাইন স্টোরগুলো চালু করে কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে নিজেদের পণ্য বিক্রি করে। সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে এটি ছিল স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। -কমার্স ক্রেতা বিক্রেতা উভয়কেই অনুমতি দিয়েছিল নিরাপদে থাকতে এবং আদান-প্রদানের সময় সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে।

কেবল ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেই নয়, নভেল করোনাভাইরাস প্রভাব ফেলেছে বিগ বক্স স্টোর এবং ব্ল্যাক ফ্রাইডে সাইবার মান্ডের মতো চিরায়ত ব্যবসায়িক উদযাপনের ধারণায়ও। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও বড় শপিং সেন্টারে ছুটির দিনগুলোয় প্রচলিত বড় ভিড়গুলো এড়ানোর কথা বলছেন। ওয়েফেয়ার, বেস্ট বাই, ওয়ালমার্ট টার্গেটের মতো রিটেইলাররাও অনলাইনের বেচাকেনার ব্যাপারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন এবং শপিং মৌসুম শুরুর আগেই তারা পোস্ট করতে শুরু করেছেন।

তবে অনলাইন ব্যবসা এমন নয় যে চাইলেই পরিচালনা করা যায়। অভিজ্ঞতা প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নেয়াও বড় চ্যালেঞ্জ, সেই সঙ্গে গ্রাহকদের আস্থা পাওয়াও রয়েছে। তবে ব্যবসা মালিকরা বলছেন, তারা কেবল এর সঙ্গে মানিয়েই নিচ্ছেন না, এই মানিয়ে নেয়া হয়তো তাদের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক মডেলের একটা সংযোজনও।

উইলকক্স বলেন, এটি এমন বছর, যেখানে অনেক বেশি সৃষ্টিশীলতা প্রয়োজন। পাশাপাশি দারুণ করিত্কর্মা এবং যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত হয়ে থাকতে হবে। এটা আমাদের সবার জন্য নজিরবিহীন একটা সময়।

এম জডসন বুকসেলারাসও এখন এভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে। তারা বইয়ের সেবা নিতে সাবস্ক্রিপশনের আরো অনেক বিকল্প যুক্ত করেছে। দেশব্যাপী স্থানীয় বইয়ের দোকানগুলোর মাধ্যমে অনলাইন বই কেনাকাটার সুযোগ উন্মুক্ত করেছে, যা অনেকটা অ্যামাজনের বিকল্প হিসেবে কাজ করছে।

জডসন বুকসেলারস অবশ্য এখানে একটি উদাহরণ মাত্র। বিশ্বব্যাপী ছোট-বড় হাজারো প্রতিষ্ঠান এখন অনলাইন ব্যবসার সঙ্গে নিজেদের সখ্য বাড়াচ্ছে। এমনকি কেউ কেউ কেবল অনলাইন থেকে কেনাকাটার জন্য বাড়তি ছাড়ের ব্যবস্থা করেছে। কোথাও কোথাও লকডাউন বিধিনিষেধ শিথিল করার পরও অনেকে নিজেদের অনলাইন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। 

অনেক খাবারের দোকান খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এই করোনাকালে ব্যবসাকে নতুন করে সাজিয়ে নিয়েছে। বিশেষ করে লকডাউনে রেস্টুরেন্টগুলো নিজেদের আঙ্গিনায় খাওয়ার ব্যবস্থা বন্ধ করে রেখেছিল, তখন এই অ্যাপসনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ভর করে ছিল অনেকে। তবে এর পরও অনেকের মাঝে সংশয় ছিল খাবার বহনকারীর কাছ থেকে সংক্রমিত হওয়ার। এসব বিষয় মাথায় রেখেই অনেক প্রতিষ্ঠান কন্টাক্টলেস সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এই নতুনত্ব গ্রহণই বিশ্বব্যাপী লাখো ছোট-বড় রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীকে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।

গ্রিনভিলের তেমনই এক ব্যবসায়ী ইডি বাফিংটন বলেন, আমরা নিশ্চিতভাবেই সামনের দিনগুলোয় এটি ব্যবহার (অনলাইন ব্যবসা) করতে যাচ্ছি। এটাকে আমরা বাড়তি উপায় হিসেবে ব্যবহার করব।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন