মঙ্গলবার | জানুয়ারি ১৯, ২০২১ | ৬ মাঘ ১৪২৭

খেলা

মহানায়কের প্রয়াণ

কাসা রোসাদা প্রাসাদে শেষ শ্রদ্ধার আয়োজন

ক্রীড়া ডেস্ক

বুয়েন্স আয়ার্সের লানুস শহরে যে দ্বীপশিখা জ্বলেছিল, তা বুয়েন্স আয়ার্সেরই মাটিতে আর বাতাসে মিশে যাবে আর কয়েকটা ঘণ্টা, কয়েকটা দিন পর। ফুটবলের জাদুকরি শক্তি দিয়ে গোটা বিশ্বকেই জয় করে নিয়েছিলেন দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাদোনা। সত্তর ও আশির দশকে ফুটবল বিশ্বকে উন্মাতাল করে দেয়া এই কিংবদন্তি লাতিন দেশ আর্জেন্টিনার জন্য বয়ে এনেছে বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব। তার জন্যই বিশ্বব্যাপী বিশেষ পরিচিতিও পায় দেশটি। তাই তাকেও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে বিদায় জানাতে তৈরি আর্জেন্টিনা সরকার। কিংবদন্তিকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হবে নির্বাহী প্রাসাদ ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয় কাসা রোসাদায়, সেখানে তাকে সমাহিতও করা হবে।

আর্জেন্টিনার সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, বৃহস্পতি থেকে শনিবার তিনদিন অন্তত ১০ লাখ মানুষ সমবেত হতে পারে। শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তার মরদেহটা রাখা হচ্ছে কাসা রোসাদায়। প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ভোর ৬টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত (বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টা থেকে রাত ১টা) কিংবদন্তির মরদেহে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য উন্মুক্ত থাকবে। যদিও বৃহস্পতিবার ভোর (বাংলাদেশ সময় বুধবার মধ্যরাত) থেকেই শত শত মানুষ তাদের প্রিয় নায়ককে শ্রদ্ধা জানাতে লাইনে দাঁড়িয়ে যান।  

নিজ বাসায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান ম্যারাদোনা। এ খবর শোনার পরই তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফার্নান্দেজ। 

সরকারের মুখপাত্র মারিও হাক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, হল অব প্যাট্রিয়টস-এ একটি কারুকার্যখচিত বদ্ধ কফিনে রাখা হবে ম্যারাদোনার মরদেহ। সর্বসাধারণকে প্রবেশ করতে হবে বালকার্সি ৫০ ফটক দিয়ে এবং বেরিয়ে যেতে হবে বলকেয়ার ২৪ দিয়ে। আজ বৃহস্পতিবার দরজা খুলবে ভোর ৬টায় এবং বন্ধ হয়ে যাবে বেলা ৪টায়। ভক্ত ও সমর্থকরা তাকে শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পাবেন শুক্র ও শনিবারও।

ম্যারাদোনাকে শ্রদ্ধা জানানোর এই প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় বুধবার থেকেই, তার মৃত্যুর ঠিক দুই ঘন্টা পর থেকেই। এরও দুই ঘণ্টা পর সরকারি তরফ থেকে জানানো হয়, ম্যারাদোনাকে সরকারি আয়োজনেই বিশিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে শ্রদ্ধা জানানো হবে।   

ছিয়াশির বিশ্বকাপ জয়ের নায়ককে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের যে ঢল নামবে তা অনুমান করা কঠিন নয়। এই ঢল সামাল দিতেই কাসা রোসাদার যে ফটকগুলো প্রায় সময়ই বন্ধ থাকে সেগুলোও এখন খুলে দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং প্রাসাদের চারিদিকেও বেষ্টনীগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানো হবে। লাখ লাখ মানুষের এই ঢলের মধ্যেও করোনাভাইরাসের কথা মাথায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রাসাদের প্রবেশ করতে হবে ম্যারাদোনা ভক্তদের। 

সিটি কর্তৃপক্ষ এ আয়োজন সামনে রেখে প্রাসাদের আশপাশের রাস্তায় গাড় চলাচল বন্ধ করে দিচ্ছে, সাতটি স্যানিটারি পয়েন্ট ও বহু জীবানুনাশক পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে। 

শেষ শ্রদ্ধার এই আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতেই বুধবার বিকেলে প্রয়াত ম্যারাদোনার সচিব ম্যাক্সিমিলিয়ানো পোমাগ্রো ও আইনজীবি ম্যাতিয়াস মোরলা কাসা রোসাদায় সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন, যেখানে ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জিনেস গঞ্জালেস গার্সিয়া ও রাষ্ট্রপতির সচিব জুলিও ভিতোবেলা। 


বুধবার বিকেলে সান ফার্নান্দো হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার ভোরে ম্যারাদোনার মরদেহটা বিশেষ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কাসা রোসাদায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ভক্তরা তার কফিনটি একনজর দেখতে ব্যাকুল হন। 

ধারণা করা হয়, মঙ্গলবার রাত কিংবা বুধবার ভোরের কোনো এক সময় ঘুমের মধ্যে মারা যান ম্যারাদোনা। মঙ্গলবার রাত ১১টায় তাকে সর্বশেষ দেখেছেন তার ভাতিজা। ম্যারাদোনার নিথর দেহটা সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দেখতে পান তার ম্যানেজমেন্ট দলের কেউ একজন। এ সময় জরুরি নম্বরে ফোন করা হলে অসংখ্য অ্যাম্বুলেন্স এসে হাজির। প্রথমে আসে তিনটি, পরে আরো নয়টি! যদিও কোনো চেষ্টাতেই আর ৬০ বছর বয়সী এই কিংবদন্তির দেহে প্রাণটা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।

সূত্র: বুয়েন্স আয়ার্স টাইমস 


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন