রবিবার | জানুয়ারি ২৪, ২০২১ | ১১ মাঘ ১৪২৭

প্রথম পাতা

বাজপাখি, ঘুঘু নাকি মধ্যপন্থী বাইডেন?

বণিক বার্তা ডেস্ক

জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউজের কর্তৃত্ব নিজ হাতে তুলে নিতে যাচ্ছেন বর্ষীয়ান ডেমোক্র্যাট রাজনীতিবিদ জো বাইডেন। ট্রাম্প-পরবর্তী প্রশাসনের কাণ্ডারি হিসেবে জো বাইডেনের ক্ষেত্রে বিশ্লেষকদের আগ্রহ একটু বেশি। ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে এরই মধ্যে নানা বিশ্লেষণও চালু হয়ে গিয়েছে। এসব বিশ্লেষকের কারো কারো মতে, জো বাইডেনের পররাষ্ট্রনীতি হবে বাজনীতির মতো আগ্রাসী (হকিশ)। কেউ কেউ মনে করছেন, ভবিষ্যৎ তার পররাষ্ট্রনীতিকে দেখবে ঘুঘুর মতোই শ্বেতশুভ্র শান্তির প্রতীক হিসেবে (ডাভ)। আবার এ পররাষ্ট্রনীতি চিরায়ত ডেমোক্র্যাট রাজনীতির মতোই মধ্যপন্থী (মিডল অব দ্য রোড) হবে বলেও মনে করছেন অনেকে। বাইডেনের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে এ ধরনের পরস্পরবিরোধী বিশ্লেষণের পেছনে দায়ী জো বাইডেন স্বয়ং। প্রথম সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে এ তিন ধরনেরই দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দিয়েছেন জো বাইডেন।   

অন্যদিকে বাইডেন নিজে বিষয়টি নিয়ে এখনো স্পষ্ট ও বিস্তারিত কোনো ধারণা না দিলেও জানিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি পরিত্যাগ করতে যাচ্ছেন তিনি। ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে যাচ্ছেন মার্কিনদের পুরনো মিত্রদের সঙ্গে। বাইডেনের নিজের ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র এখন আবার বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে নেতৃত্বের ভূমিকায় আসতে প্রস্তুত। 

নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালেই পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্টদের এমন কিছু কূটনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়, যা একেবারেই তাদের ব্যক্তিগত ধ্যানধারণা থেকে উদ্ভূত। এ অবস্থানকে সংজ্ঞায়িত করা হয় সংশ্লিষ্ট প্রেসিডেন্টের ডকট্রিন বা মতবাদ হিসেবে, যা পরে হয়ে ওঠে তাদের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান বিষয়বস্তু। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় জর্জ ডব্লিউ বুশ ডকট্রিনের কথা, যার মূল বিষয়বস্তু ছিল সন্ত্রাস দমনের পাশাপাশি প্রয়োজনে বেয়নেটের খোঁচায় হলেও ‘গণতন্ত্র’ ছড়িয়ে দিতে হবে। বারাক ওবামা ডকট্রিন ছিল ইরাক যুদ্ধের মতো ‘নির্বোধ’ সংঘাতগুলোকে এড়িয়ে চলতে হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ডকট্রিন গড়ে উঠেছিল মিত্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাড়ে সওয়ার হয়ে কার্যক্রম চালাতে না দেয়ার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। কিন্তু জো বাইডেন ডকট্রিনকে আলাদাভাবে সংজ্ঞায়িত করা মুশকিল।

বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রকে আবারো বিশ্বমোড়লের ভূমিকায় প্রতিষ্ঠিত করার ঘোষণা দিলেও এটিকে তার ডকট্রিন বলা চলে না কোনোভাবেই। তার প্রশাসনের জন্য এ মুহূর্তে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে কূটনৈতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্র যে অবস্থান হারিয়েছে, সেটির পুনরুদ্ধার। তার নির্বাচনী বক্তব্যগুলোও এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে। ফলে বাইডেন ডকট্রিন নিয়ে আলাদাভাবে আলোচনার তেমন কোনো সুযোগও তৈরি হয়নি এখনো। 

যুক্তরাষ্ট্রের বামঘেঁষা রাজনীতিবিদরা মনে করছেন, বাইডেন ডকট্রিন হবে ‘আগ্রাসী’। ট্রাম্প সমর্থকদের চোখে বাইডেন একজন উদারনৈতিক, আবার একই সঙ্গে সীমাহীন সংঘাতের প্রবক্তা। ডানঘেঁষা রাজনীতিকদের চোখে তিনি ‘শান্তিবাদী’। যদিও বাইডেনের নিজের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো ডকট্রিনের আভাস পাওয়া যায়নি।   

তবে ইতিহাস বলছে, বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্টরা নিজ দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে শেষ পর্যন্ত নিজস্ব ডকট্রিনের ছাপ রেখেই যান। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সফল ও ‘মহান’ হিসেবে খ্যাত প্রেসিডেন্টরাও যুগবাস্তবতার বাইরে যেতে পারেননি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় আব্রাহাম লিংকনের কথা। অনেকেই বলেন, দেশটির গৃহযুদ্ধের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাগ্যের নিয়ন্তা হয়ে উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু আব্রাহাম লিংকন নিজেও একসময় লিখেছেন, আমি কখনই ঘটনাপঞ্জির নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠার দাবি রাখি না। বরং আমাকে স্বীকার করে নিতেই হবে, ঘটনাপঞ্জিই আমাকে নিয়ন্ত্রণ করেছে।

আলাদাভাবে কোনো বাইডেন ডকট্রিনের উপস্থিতি স্বীকার করেন না জো বাইডেন নিজেও। স্বপ্নদ্রষ্টা বা চিন্তক হিসেবে তেমন কোনো পরিচিতিও নেই তার। বৈদেশিক নীতি সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গিতে উদ্দেশ্যর চেয়ে উপায়ই প্রাধান্য পেয়েছে বেশি। প্রাধান্য পেয়েছে সমঝোতা, চুক্তি ও মিত্রতার মতো বিষয়গুলো। 

বাইডেনের কার্যক্রম পরিচালনাসংক্রান্ত দর্শন অনেকটা জন এফ কেনেডির কলেজিয়াল মডেলের (টিমওয়ার্কনির্ভর পদ্ধতি, যেখানে একটি দলের সবাইকে ভূমিকা রাখতে হয়) মতো। যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রকৃত উপদেষ্টা ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই। বাইডেনের সেখানে কূটনীতিকনির্ভর হয়ে ওঠার সম্ভাবনাই বেশি। এছাড়া তাকে বিদেশী নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়েও বেশ জোর দিতে দেখা গিয়েছে। এমনকি শক্তি প্রয়োগ করতে হলেও আন্তর্জাতিক সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে এগোনোতেই আগ্রহ বেশি তার। 

সে হিসেবে বাইডেন যে এতদিন ডেমোক্র্যাটদের পররাষ্ট্রবিষয়ক চিন্তার তেমন কোনো ব্যত্যয় ঘটাননি, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। প্রকৃতপক্ষে, স্রোতকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে এর সঙ্গে গা ভাসিয়ে দেয়ার এক ধরনের প্রবণতা রয়েছে বাইডেনের মধ্যে। সেক্ষেত্রে চরম মুহূর্তে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সৃজনশীলতার বদলে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ওপরই বেশি নির্ভর করতে হয় তাকে।

বাইডেনের বৈদেশিক নীতিসংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গিকে তিনটি অধ্যায়ে বিভক্ত করা চলে। প্রতিটি অধ্যায়ের সঙ্গেই যুদ্ধের সম্পর্ক রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম অধ্যায়ের (মধ্যপন্থী) শুরু সত্তরের দশকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়ে, শেষ ১৯৯১ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধের প্রাক্কালে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়ে তরুণ সিনেটর বাইডেন ছিলেন এর ঘোর বিরোধী অবস্থানে। তার নিজের ভাষায়, আমি প্রথম সিনেট নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম ভিয়েতনাম যুদ্ধবিরোধী ২৯ বছর বয়সী এক তরুণ হিসেবে। গোটা জাতিকে যুদ্ধে জড়াতে হলে তাতে অবশ্যই মার্কিন জনগণের সায় থাকতে হবে, এমন অবস্থানকে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্দেশ্য থেকেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম আমি। 

তবে বাইডেনের এ অবস্থানের ভিত্তিকে ঠিক শান্তিকামী বলা চলে না। কারণ তার চোখে ভিয়েতনাম যুদ্ধ যত না বেশি অনৈতিক, তার চেয়েও বেশি ছিল নির্বুদ্ধিতা। এ সময় বাইডেন পররাষ্ট্রনীতিকে বিচার করেছেন একজন ডেমোক্র্যাট মধ্যপন্থীর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। ১৯৮৩ সালে গ্রানাডায় ও ১৯৮৯ সালে পানামায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি। একই সঙ্গে আবার নিকারাগুয়ার কন্ট্রা বিদ্রোহীদের অর্থায়নের বিরোধিতাও করেছেন। উপসাগরীয় যুদ্ধের প্রাক্কালে সিনেটের অনুমোদনের সময় এর বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলেন বাইডেন। তার চোখে সাদ্দাম হোসেন তখনো যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের প্রতি হুমকি হয়ে ওঠেননি।

তার মতে, ওয়াশিংটন ষাট ও সত্তরের দশকে ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে যেভাবে অজ্ঞতা দেখিয়েছে, সেভাবে মধ্যপ্রাচ্যকেও বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে। ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বিষয়টি অলীক স্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই না। কারণ গত পাঁচ হাজার বছরের ইতিহাসে সেখানে কখনই দীর্ঘস্থায়ীভাবে স্থিতিশীলতা অর্জিত হয়নি। 

বাইডেনের পররাষ্ট্রবিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গির দ্বিতীয় অধ্যায়কে (হকিশ) ব্যাখ্যা করা যায় ১৯৯১-২০০৩ সাল পর্যন্ত ঘটনাবলি দিয়ে। ১৯৯১ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থানের বিষয়টি নিয়ে এ সময় আফসোস করেছেন তিনি। ওই সময় তিনি সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতায় রেখে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার জন্য জর্জ বুশ সিনিয়রের সমালোচনাও করেন। তার ভাষায়, এ কারণে ইরাকি জনগণকে অসীম দুর্ভোগের মুখে রেখে আসা হয়েছে। 

বলকান অঞ্চলে মার্কিন হস্তক্ষেপের পক্ষে বেশ সোচ্চার অবস্থান নিয়েছিলেন জো বাইডেন। মুখের ওপরই যুদ্ধাপরাধী বলেছেন সার্বীয় নেতা স্লোবোদান মিলোসেভিচকে। ওই অঞ্চলে বিল ক্লিনটন প্রশাসনের নিষ্ক্রিয় ভূমিকাকে আখ্যা দিয়েছেন ‘হতাশাজনক ও কাপুরুষোচিত’ হিসেবে। ১৯৯৯ সালের কসোভো যুদ্ধ এবং ২০০১ সালের আফগানিস্তান যুদ্ধকে সমর্থন দেন তিনি। সাদ্দাম হোসেনের ‘গণবিধ্বংসী অস্ত্রের ভাণ্ডার গড়ে তোলা’ ঠেকানোয় সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণের পক্ষে বারবার বক্তব্য দিয়েছেন বাইডেন। ২০০২ সালের অক্টোবরে জর্জ ডব্লিউ বুশের রিপাবলিকান প্রশাসনের ইরাকে শক্তি প্রয়োগের প্রস্তাব অনুমোদনের সপক্ষে ভোটও দিয়েছিলেন তিনি।

ইরাক যুদ্ধের পর থেকেই আবার এক ধরনের শান্তিবাদী (ডাভ) অবস্থান নিয়েছেন জো বাইডেন। ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনকে পরে জাতীয় ও ব্যক্তিগত ব্যর্থতা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। মার্কিন কংগ্রেসের সমর্থন পুরোপুরি নিশ্চিত করে এগোলে এক্ষেত্রে জাতিসংঘও আরো কঠোর ভূমিকা রাখত বলে মনে করেন তিনি। এ কারণে ২০০২ সালে ইরাক যুদ্ধের পক্ষে ভোট দেয়া নিয়ে পরে আফসোসও করেছেন বাইডেন। তার ভাষায়, ‘আমি ভুল করেছিলাম। ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রামসফেল্ড ও অন্যদের প্রভাবকে খাটো করে দেখেছিলাম আমি। খাটো করে দেখেছিলাম তাদের অক্ষমতা ও অদক্ষতাকেও।’

বাইডেনকে শক্তি প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করতে দেখা যায় ২০০৩ সালের পর থেকে। ২০০৬-০৭ সালের দিকে ইরাকে ও ২০০৯ সালে আফগানিস্তানে সৈন্যসংখ্যা বাড়ানোর বিরোধিতা করেছেন বাইডেন। ২০১১ সালে লিবিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপেরও বিরুদ্ধে ছিলেন তিনি। একই বছর ওসামা বিন লাদেনকে হত্যায় পরিচালিত অভিযান নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারেরও পক্ষপাতী ছিলেন না তিনি। তবে আইএসবিরোধী অভিযান ও যুদ্ধে ড্রোনের ব্যবহার বাড়ানোয় সমর্থন দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ট্রাম্পের ইরানি জেনারেল কাসেম সোলায়মানিকে হত্যার সিদ্ধান্তেরও বিরোধিতা করেছেন তিনি। 

প্রকৃতপক্ষে বাইডেনের পররাষ্ট্রবিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গি এমন অনেক পরস্পরবিরোধী ঘটনায় পরিপূর্ণ। বর্তমানে বলা চলে, মার্কিন জনগণের মতো ‘ইরাক সিনড্রোমে’ ভুগছেন তিনিও। এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্প বা রিপাবলিকান পার্টির সদস্যরাও এখনো ইরাক যুদ্ধের অভিঘাত থেকে বেরোতে পারেননি। এ কারণেই আজীবন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পথ থেকে সরে এসেছিলেন তারাও। ওবামার আমলের ভাইস প্রেসিডেন্ট বাইডেন ছিলেন তার প্রেসিডেন্টের চেয়েও অনেক বেশি শান্তিবাদী। প্রকৃতপক্ষে তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাই তাকে এভাবে যুদ্ধবিরোধী বানিয়ে তুলেছিল। ২০১৫ সালে মস্তিষ্কের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তার ছেলে বিউর মৃত্যু হয়। এজন্য তিনি কসোভো ও ইরাকে মার্কিন বাহিনীর মিলিটারি বার্ন পিটের (সামরিক বর্জ্য পোড়ানোর জন্য খোঁড়া গর্ত) তেজস্ক্রিয়তাকেই দায়ী করেছেন। 

তাই বলে বাইডেনের পররাষ্ট্রবিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গির উত্থান-পতনের গল্প এখানেই শেষ নয়। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাকে হয়তো আরো আগ্রাসী পথে হাঁটতে হতে পারে। কারণ ইরাক যুদ্ধের স্মৃতি এখন অনেকটাই বিগত। নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে উত্থান ঘটছে চীন ও রাশিয়ার।

বাইডেন সম্প্রতি ফরেন অ্যাফেয়ার্সে এক নিবন্ধে লিখেছেন, ফ্যাসিজম ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ও উদারনীতির বিজয়ের মধ্য দিয়েই মুক্ত বিশ্ব অর্জিত হয়েছে। কিন্তু এ লড়াই শুধু আমাদের অতীতকে নয়, ভবিষ্যেকও ব্যাখ্যা করবে। 

৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাইডেন শপথ নেয়ার পরই আসলে বলা যাবে বাইডেনের পররাষ্ট্রনীতি কেমন হতে যাচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি থেকে বেরিয়ে আগের অবস্থানে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্য থেকে এরই মধ্যে নিজ প্রশাসনের পররাষ্ট্রবিষয়ক হর্তকর্তা হিসেবে বেছে নিয়েছেন বারাক ওবামার আমলের অভিজ্ঞদেরই। 

এরই মধ্যে নিজ প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ওবামা প্রশাসনের পররাষ্ট্র বিভাগের দ্বিতীয় শীর্ষ ব্যক্তি অ্যান্টনি ব্লিনকেনকে বেছে নিয়েছেন বাইডেন। গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান হিসেবে বেছে নিয়েছেন অ্যাভ্রিল হেইনসকে। সে হিসেবে এবারই প্রথম কোনো নারী মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন। প্রথম লাতিনো বংশোদ্ভূত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের (হোমল্যান্ড সিকিউরিটি) প্রধান হতে যাচ্ছেন আলেহান্দ্রো মায়োরকা। জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ মার্কিন দূত হিসেবে ওবামা প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির নাম ঘোষণা করেছেন বাইডেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে পুরনো ঘনিষ্ঠতা ফিরিয়ে আনতে জাতিসংঘে বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দিতে যাচ্ছেন বর্ষীয়ান ও অভিজ্ঞ কূটনীতিক লিন্ডা থমাস গ্রিনফিল্ডকে। বাইডেনের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে থাকছেন জেক সুলিভান।

প্রকৃতপক্ষে নিজ প্রশাসনের হর্তাকর্তা হিসেবে এমন ব্যক্তিদেরই বেছে নিয়েছেন বাইডেন, যাদের তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন ও যাদের সঙ্গে তার ভালো বোঝাপড়া রয়েছে। মার্কিন নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিকে প্রত্যাশামাফিক পথে পরিচালনা করতে চাইলে এদের সবার সহায়তা অনেক বেশি প্রয়োজন হবে বাইডেনের। 

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন