শনিবার | জানুয়ারি ২৩, ২০২১ | ১০ মাঘ ১৪২৭

শেষ পাতা

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য দক্ষ কর্মী গড়ে তুলতে হবে —প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য দক্ষ কর্মী গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আমাদের দক্ষতাগত শিল্পের কথা বলা হচ্ছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে লাগবে দক্ষ কর্মী। সে ধরনের লোকবল আমাদের সৃষ্টি করতে হবে। এখন থেকে উদ্যোগ না নিলে আমরা কিন্তু পিছিয়ে যাব। বিশ্ব প্রযুক্তিতে যেভাবে এগিয়ে যাবে, আমরাও সেভাবে তাল মিলিয়ে চলব। আমরা সেই পদক্ষেপ নিতে চাই। গতকাল ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ভার্চুয়াল আইডি কার্ড পোর্টালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে মানুষ কিন্তু ঘরে বসে অর্থ উপার্জন করছে। এর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ছিল না। এর কারণে তাদের নানা রকম প্রশ্নেরও সম্মুখীনও হতে হয়। টাকা আনতে গিয়ে ব্যাংকেও নানান প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। বিষয়ে আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর অর্থ সচিবের সঙ্গে কথা বলেছি। সমস্যা যাতে না হয়, তারা সেই ব্যবস্থা নেবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একদিকে নভেল করোনাভাইরাস। আরেকদিকে জঙ্গিবাদ সন্ত্রাস। জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসের কারণে মানুষকে সন্দিহান করে তোলে। তাই কেউ একজন যদি ভালো উপার্জন করলে হাজারো প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। সেই প্রশ্নের সম্মুখীন যাতে না হতে হয়, সেজন্য এটাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ স্বীকৃতি দেয়ার জন্য আমি নির্দেশ দিয়েছিলাম। আর বলেছিলাম, যারা ফ্রিল্যান্সিং করেন তাদের একটা আইডি দরকার। তারা যে কাজটা করে, সেটাও যে একটা কর্মসংস্থান সেই স্বীকৃতিও তাদের দিতে হবে। যাতে তারা মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারে।

ফ্রিল্যান্সিংয়ের সুবিধা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘরে বসে গিন্নিরাও কিছু কাজ করতে পারবে। এতে ছেলে-মেয়েরা তাদের মাকে কাছে পাবে। অন্যদিকে নারীকে কারো মুখাপেক্ষীও হতে হবে না। পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও এটি বিরাট অবদান রাখবে। যারা দক্ষ হিসেবে গড়ে উঠবে, তারা বিদেশে গিয়ে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুবসমাজ যেন শুধু ডিগ্রি নিয়ে চাকরির পেছনে না ঘুরে নিজেদের কর্মসংস্থান নিজেরাই করতে পারে এবং অন্যকেও কাজ দিতে পারেএজন্যই ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রকল্প নেয়া হয়েছে। ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে শারীরিক প্রতিবন্ধীর জন্যও বিরাট সুযোগ হবে। তারাও ঘরে বসে কাজ করতে পারবে। সেটা তারা করেও যাচ্ছে। তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজে লাগাতে চাই। যাতে সমাজে তারা যেন অবহেলিত না হয়।

তিনি বলেন, স্টার্টআপ প্রোগ্রাম, এটা কিন্তু সজীব ওয়াজেদ জয়, আমাদের রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিকই পরামর্শ দিয়েছে। আমরা ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে খুব খোলামেলা আলোচনা করি। আমাদের মতো বয়োবৃদ্ধদের তো তাদের কাছে শেখার আছে। আমি যতদূর পারি শিখে নেই। তাদেরই পরামর্শ ছিল স্টার্টআপ কর্মসূচি শুরু করা। এর জন্য বিশেষ বরাদ্দও রেখেছি। বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমেও এর জন্য অর্থ পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফাইবার অপটিক কেবল আমরা একেবারে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছি। আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশে মানুষ বিভিন্ন সেবা পাচ্ছে। আমাদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সেখানে নারী সমাজসহ বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করা শিখছে। এর ফলে আমাদের শুধু কর্মসংস্থান বৃদ্ধি না, মানুষের জীবনযাত্রাও সহজ হচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের ফলে আমাদের যে কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে, তা শুধু দেশে না, বিদেশেও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ এমন একটি সংগঠন, এটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গড়ে তুলেছিলেন। সংগঠন নিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেন। কিন্তু ১৫ আগস্টের ঘটনা আমাদের অনেক পেছনে ফেলে দেয়। ২১ বছর পর যখন আমরা ক্ষমতায় আসি, তখন থেকেই আমাদের উদ্যোগ ছিল। সজীব ওয়াজেদ জয়ই আমাকে পরামর্শ দিয়েছে এখানেই যদি মানুষকে কম্পিউটার শেখাতে হয় তাহলে ট্যাক্স কমিয়ে দিয়ে তাদের ব্যবহার করার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তিই পাবে আমাদের দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে।

তিনি বলেন, কম্পিউটার শেখার ওপরও আমরা গুরুত্বারোপ করি। কম্পিউটার যাতে মানুষের কাছে পৌঁছায় তার ব্যবস্থাও নিয়েছিলাম। কিন্তু পাঁচ বছরের মধ্যে সেটা হয়তো সম্পন্ন করে যেতে পারিনি। দ্বিতীয়বার যখন আমরা সরকারে আসি, তখন আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা দিই আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলব। শুরুতে এটা নিয়ে অনেক ব্যঙ্গ, অনেক কিছুই শুনতে হয়েছে আমাদের। কিন্তু তার পরও আজকের বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের একটা গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিআরআই। যদিও ২০০১ সালে অফিসটা বিএনপি বন্ধ করে দিয়েছিল, তাদের অপারেশন ক্লিনহার্টের নামে। আমাদের ১৬টা কম্পিউটার বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যায়। আমাদের ৩০০ ফাইল ১০ হাজার বই তারা বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যায়। সবকিছু নিয়ে এটা সিল করে রেখে যায়। আমরা ২০০৯ সালে সরকারে আসার পর সেটা খুলি। পরবর্তী সময়ে সেটা একটা ট্রাস্টের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করি। সিআরআইয়ের মাধ্যমে আমাদের যুবসমাজকে তৈরি, প্রশিক্ষণ দেয়া এবং রিসার্চ করা বিভিন্ন বিষয়ে। তারা সম্পূর্ণভাবে কাজগুলো করে যাচ্ছে। তাদের পক্ষ থেকে ইয়ং বাংলা নামে একটা উদ্যোগ নেয়া হয়। সেটার পক্ষ থেকেই কীভাবে আমাদের তরুণ সমাজকে উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করা যেতে পারে, প্রশিক্ষণ দেয়ার কার্যক্রম চালিয়ে যায়।

তিনি বলেন, সরকার গঠনের পরই আমার যেটা লক্ষ্য ছিল, দেশের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। সেটা সব থেকে বেশি প্রয়োজন। যত বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারব, দেশের তরুণ সমাজ সব থেকে বেশি লাভবান হবে। আমরা সারা দেশে হাজার ২৭৫ ডিজিটাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা করি। যাতে বাধ্যবাধকতা ছিল একজন মেয়ে একজন ছেলে উদ্যোক্তা থাকতে হবে। সেই একটি সেন্টারকে ঘিরে বহু লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন