বুধবার | জানুয়ারি ২০, ২০২১ | ৭ মাঘ ১৪২৭

প্রথম পাতা

পিতা-পুত্র

ভারতের ভূরাজনীতির দুই প্রজন্মের চাণক্য

সাইফ বাপ্পী

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়াসহ বৈশ্বিক ভূরাজনীতির এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। তবে এক্ষেত্রে আরো বড় প্রভাবক হিসেবে ভূমিকা রেখেছিলেন জয়শংকরের পিতা ড. কে সুব্রামনিয়াম। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় কয়েকটি ভূরাজনৈতিক সংকট এবং ভারতীয় প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতির মোড় ঘুরিয়ে দেয়া মুহূর্তগুলোয় নিজ নিজ জায়গা থেকে বড় ভূমিকা রেখেছেন পিতা-পুত্র দুজনই।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে ভারতের পররাষ্ট্রনীতি প্রয়োগের জায়গাটিতে একেবারে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পুত্র এস জয়শংকর। কিন্তু পিতা কে সুব্রামনিয়াম ছিলেন পর্দার আড়ালের লোক। এ কারণে মৌর্য্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত-বিন্দুসারের উপদেষ্টা চাণক্যের মতো সুব্রামনিয়ামও বরাবরই ভূরাজনীতি এবং প্রতিরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণে প্রাতিষ্ঠানিক অধ্যয়ন, জ্ঞান ও প্রশিক্ষণনির্ভর বিশ্লেষণের ওপর জোর দিয়েছেন। এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ প্রতিরক্ষাবিষয়ক থিংকট্যাংক প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যানালাইসিসের (আইডিএসএ) পরিচালক হিসেবে অসামান্য অবদান রাখেন তিনি। চীন-ভারত যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানটি তার হাতে পড়ে হয়ে ওঠে ভারতীয় প্রতিরক্ষার সাম-দান-দণ্ড-ভেদ কৌশল বিশ্লেষণের প্রধান কারিগর। কে সুব্রামনিয়াম পরিচিতি পান আধুনিক ভারতের কৌশলগত চিন্তার জনক হিসেবে।

পুত্র জয়শংকর চীনকে মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমের দিকে ঝুঁকে পড়লেও পিতা কে সুব্রামনিয়ামের অবস্থান ছিল পুরোপুরি বিপরীত। ক্যারিয়ারের নানা সময়েই এর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। ষাটের দশকের শেষার্ধ্বের দিকে লন্ডনে ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজে (পরে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ—আইআইএসএস) এক সেমিনার চলাকালে ব্রিটিশ সেক্রেটারি অব ওয়ারের উপস্থিতিতে এক দীর্ঘ বক্তব্য রাখেন তিনি, যার বিষয়বস্তু ছিল ড্রেসডেন থেকে শুরু করে হিরোশিমা-ভিয়েতনামে পশ্চিমা দেশগুলোর ‘শঠ কার্যকলাপ’ ও ‘নৃশংসতা’। বিষয়টি সে সময় ব্রিটিশদের এতটাই ক্ষুব্ধ করে তোলে, প্রতিষ্ঠানটির রকেফেলার ফেলো সুব্রামনিয়ামকে আর কখনই আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। সংস্থাটির উপদেষ্টা বোর্ডেও কোনো ভারতীয়কে রাখা হয়নি দীর্ঘদিন।

যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যকার শীতলযুদ্ধ চলাকালে ওয়াশিংটনে তার পরিচিতি ছিল ভারতের ‘নাম্বার ওয়ান অ্যান্টি আমেরিকান’ হিসেবে। সুব্রামনিয়ামও মনে করতেন, ওয়াশিংটন তার নৈতিক মান হারিয়ে ফেলেছে অনেক আগেই। যদিও ২০০৫ সালের দিকে এসে ইন্দো-মার্কিন পরমাণু চুক্তির জোর সমর্থক হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

তামিল আমলা কে সুব্রামনিয়াম ভারতীয় সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন ১৯৫১ সালে। ১৯৬৫-৬৬ সালের দিকে আইআইএসএসে রকেফেলার ফেলো হিসেবে যোগ দেন তিনি। দেশে ফিরে আসার পর ১৯৬৮ সালে আইডিএসএর মহাপরিচালক হিসেবে প্রথমবারের মতো নিয়োগ পান তিনি। ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় যারা তার সঙ্গে কাজ করেছেন, তাদের ভাষ্যমতে, তার হাতে পড়ে আইডিএসএ হয়ে ওঠে আধুনিক ভারতের কৌশলগত বিশ্লেষণের গুরুকূল।

আইডিএসএর সাবেক সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট ড. স্বদেশ রানার মতে, কৌশলগত চিন্তার বিষয়টি ছিল ড. সুব্রামনিয়ামের বুদ্ধিবৃত্তিক ডিএনএর অংশ। এছাড়া আমলা হিসেবে নিজের পেশাদার আচরণ বজায় রাখতে গিয়ে রাজনৈতিক প্রটোকলের বদলে পাশ থেকে সহায়তা করার বিষয়টিতেই বরাবর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। 

আইডিএসএর দায়িত্ব ছাড়ার পর তামিলনাড়ু রাজ্য ও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের জ্যেষ্ঠ আমলা হিসেবে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর ১৯৮০-৮৭ মেয়াদে আবারো আইডিএসএর মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন কে সুব্রামনিয়াম। ১৯৯৮ সালে অটল বিহারি বাজপেয়ির আমলে ভারতের প্রথম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল অ্যাডভাইজরি বোর্ডের (এনএসসিএবি) প্রথম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। 

প্রতিরক্ষাবিষয়ক অনেক বই, প্রতিবেদন ও নিবন্ধ লিখেছেন কে সুব্রামনিয়াম, যা ভারতের জাতীয় কৌশলবিষয়ক ধ্যানধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। অনেকেই তাকে অভিহিত করতেন ‘এশিয়ার কিসিঞ্জার’ হিসেবে। প্রকৃতপক্ষে নিরাপত্তা কৌশলকে একদেশদর্শী কোনো বিষয় হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে অর্থনৈতিক-সামরিক-সামাজিক নানা দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করতেন তিনি। এজন্যই নয়াদিল্লির সপ্রু হাউজের অ্যানেক্স ভবনে তার অফিসে ভূরাজনীতি বিশ্লেষক, অর্থনীতিবিদ, সামরিক কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের নিয়মিত ভিড় বসত; যারা নিজ নিজ ক্ষেত্র থেকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করতেন।

কে সুব্রামনিয়ামকে তার সহকর্মীরা বর্ণনা করেছেন বাস্তববাদী একজন ব্যক্তি হিসেবে, যিনি প্রয়োজনের মুহূর্তে কৌশলগত প্রেসক্রিপশনেও পরিবর্তন নিয়ে আসতেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের মিত্রতা গড়ে তোলার সপক্ষে জোরালো ভূমিকা রেখেছিলেন কে সুব্রামনিয়াম। আবার সেই একই ব্যক্তি ২০০৫ সালে হয়ে ওঠেন ইন্দো-মার্কিন পরমাণু চুক্তির সবচেয়ে জোর সমর্থকদের একজন। যদিও ভারতকে সামরিক দিক থেকে শক্তিশালী করতে গিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বারবার বিবাদে জড়িছেন তিনি।

ভারতকে আণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে গড়ে তোলায় জোর ভূমিকা রেখেছেন কে সুব্রামনিয়াম। তবে তিনি পারমাণবিক বোমাকে যুদ্ধে ব্যবহারের বদলে এটিকে যুদ্ধ ঠেকানোর উপায় হিসেবে ব্যবহারের পক্ষপাতী ছিলেন। ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ভারতের আণবিক বোমা ব্যবহার-সংক্রান্ত নীতিমালার খসড়া তৈরিতে ভূমিকা রাখেন। ওই খসড়ায়ই প্রথম পারমাণবিক বোমা সম্পর্কে ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ (আগে ব্যবহার না করা) নীতি গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। এতে বলা হয়, ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তা ‘সেকেন্ড স্ট্রাইকের’ (পারমাণবিক আঘাতের শিকার হলে প্রতিআক্রমণ) সক্ষমতা তৈরি করে। এভাবে ধ্বংসাত্মক হাতিয়ারের বদলে যুদ্ধ ঠেকানোর কাজে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার নিশ্চিত হবে বলে মনে করতেন তিনি।

প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ—দুভাবেই অভ্যন্তরীণ রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছেন কে সুব্রামনিয়াম। নয়াদিল্লিতে ক্ষমতায় যে দলই থাকুক না কেন, নিজের চিন্তা ও কাজের স্বাধীনতার বিষয়ে কখনই আপস করতে দেখা যায়নি তাকে। এ কারণেই ১৯৯৯ সালে অটল বিহারি বাজপেয়ির সময়ে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার পদ্মভূষণের জন্য মনোনীত হয়েও তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তিনি।

কে সুব্রামনিয়ামের ছেলে এস জয়শংকর কূটনীতিক হিসেবে বেশ মেধার ছাপ রেখেছেন। ২০১৫ সালে চাকরি থেকে অবসরের মাত্র দুদিন আগে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে নিয়োগ পান এস জয়শংকর। ২০১৭ সালে অবসর গ্রহণের ১৭ মাসের মাথায় তিনিই হয়ে ওঠেন নরেন্দ্র মোদি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ভারতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে একই মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিবের নিয়োগ পাওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম।

স্বাভাবিকভাবেই নরেন্দ্র মোদির এস জয়শংকরকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেয়ার সিদ্ধান্তটিকে সবাই স্বাগত জানিয়েছিলেন। কূটনীতিক হিসেবে সফল ক্যারিয়ারের অধিকারী জয়শংকর যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবেও সফল হবেন, সে বিষয়ে নিঃসন্দেহ ছিলেন সবাই।

২০০৫ সালে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের আমলে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুক্তরাষ্ট্রবিষয়ক যুগ্ম সচিবের দায়িত্বে ছিলেন জয়শংকর। ওই সময়ে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পরমাণু চুক্তিসংক্রান্ত আলোচনায় অন্যতম মুখ্য আলোচকের ভূমিকা রেখেছেন তিনি। ২০০৭ সালে সিঙ্গাপুরে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। সেখান থেকে পরে তাকে চীনে রাষ্ট্রদূত করে পাঠানো হয়।

জয়শংকর চীনে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দুই দেশের সম্পর্কের মারাত্মক অবনতি ঘটে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধানকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানায় চীন। একই সঙ্গে লাদাখের দৌলত বেগ ওলদিকে ঘিরে নতুন করে অচলাবস্থা তৈরি হয়।

ওই সময় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং তাকে পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে নিয়োগ দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেক্ষেত্রে তাকে আরো জ্যেষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে নিয়োগ দিতে হতো। নানা বিতর্কে পর্যুদস্ত ইউপিএ জোট সে সময় এ নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নেয়ার পথ থেকে পিছিয়ে আসে। ফলে জয়শংকরকে পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে নিয়োগ পেতে আরো কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হয়।

পিতা কে সুব্রামনিয়াম বারবার ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিবাদে জড়ালেও জয়শঙ্কর হেঁটেছেন তার বিপরীত দিকে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কোন্নয়নের বিষয়ে বরাবরই আগ্রহী ছিলেন তিনি। ২০১৩ সালে যখন তিনি ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান, দুই দেশের সম্পর্ক তখন একেবারে তলানিতে। অন্যদিকে সেখানে যখন তার মেয়াদ শেষ হয়, ততদিনে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে প্রথমবারের মতো কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে যোগ দেন বারাক ওবামা।

জয়শঙ্কর নরেন্দ্র মোদির সুনজরে আসেন ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময়ে। সেখানে ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে প্রবাসী ভারতীয়দের উদ্দেশে দেয়া তার ভাষণ মোদির মনোযোগ আকর্ষণ করে।

চাকরি থেকে অবসর নেয়ার এক বছরের মাথায় টাটা সন্সের গ্লোবাল করপোরেট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন জয়শঙ্কর। ভারতীয় সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী অবসরের এক বছরের মাথায় এ ধরনের চাকরিতে যোগ দেয়ার নিয়ম না থাকলেও জয়শঙ্করের বেলায় ছাড় দেয় দেশটির সরকার। এর এক বছর আগে টাটা গ্রুপ মার্কিন অস্ত্র নির্মাতা লকহিড মার্টিনের সঙ্গে ভারতে যৌথভাবে এফ-১৬ জঙ্গিবিমান উৎপাদনের বিষয়ে চুক্তি করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বরাবরই নমনীয় অবস্থান নিয়েছেন জয়শঙ্কর। এ কারণে ২০০৫ সালে ইন্দো-মার্কিন পারমাণবিক চুক্তির সময় ভারতের ডিপার্টমেন্ট অব অ্যাটমিক এনার্জির (ডিএই) সঙ্গেও বিবাদে জড়িয়েছেন তিনি। কিন্তু চীনের বিরুদ্ধে তার অবস্থান বরাবরই কঠোর ও আপসহীন। দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনেক বড় ভূমিকা রেখেছে। প্রকৃতপক্ষে বিআরআইয়ের উদ্যোগে ভারতের বিরোধী অবস্থান গ্রহণের রূপরেখাটিও তারই দাঁড়ই করানো। দুই দেশের মধ্যকার বিরোধের কারণে মোদি সরকারের প্রথম মেয়াদে ভারতের পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর সংগঠন নিউক্লিয়ার সাপ্লায়ার গ্রুপের (এনএসজি) সদস্যপদ প্রাপ্তির পথ রুদ্ধ করে দিয়েছিল চীন। এ ঘটনাকে ধরা হয় মোদি সরকারের প্রথম কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে। জয়শঙ্কর তখন ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুহূর্ত ছিল ২০১৭ সালে দোকলাম মালভূমিকে ঘিরে সৃষ্ট অচলাবস্থার সময়টি। ৭৩ দিনের ওই অচলাবস্থা কাটানোর ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে তার উত্তরসূরি বিজয় গোখলে বেশ ভালো সহায়ক ভূমিকা রেখেছিলেন। জয়শঙ্কর অবসর গ্রহণের কিছুদিনের মাথায় ২০১৮ সালের মে মাসে দুই দেশের নেতারা আবার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়নে একমত প্রকাশ করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবেও জয়শঙ্করের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো চীনকে মোকাবেলা করা। তার আমলেই চীন দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে সবচেয়ে প্রবল হয়ে দেখা দিয়েছে। লাদাখে চীন-ভারতের মধ্যে বর্তমানে এক ধরনের সামরিক অচলাবস্থা বিরাজ করছে। এর মধ্যেই ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে এ সময় চীনের সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে চীনকে মোকাবেলা করতে ওয়াশিংটনের প্রতি হাত বাড়িয়েছে নয়াদিল্লি। জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গড়ে তোলা হয়েছে কোয়াড জোট। ফলে ওয়াশিংটনের সামনেও এ অঞ্চলের ভূরাজনীতিতে আরো প্রত্যক্ষ হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে আবার সম্প্রতি বিশ্বের সবচেয়ে বাণিজ্য জোট আরসিইপিতে যোগদান থেকেও বিরত থেকেছে ভারত। যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের অনুপস্থিতিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য জোটটিতে এখন চালকের আসনে চলে এসেছে চীন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন