বৃহস্পতিবার | জানুয়ারি ২১, ২০২১ | ৮ মাঘ ১৪২৭

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

অর্থনৈতিক নীতিতে অচলাবস্থার উত্তরাধিকার বাইডেনের

বণিক বার্তা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) থেকে শুরু করে ওয়াল স্ট্রিটের ট্রেডিং হাউজ, সব খানেই অর্থনীতিবিদ বিশ্লেষকরা একটি জায়গায় একমত যে জরুরি ভিত্তিতে বৃহত্তম অর্থনীতিটির প্রণোদনা প্যাকেজ দরকার। নভেল করোনভাইরাস মহামারীর ধাক্কা সামলে উঠতে দ্বিতীয় দফায় বড় আকারের প্রণোদনা প্যাকেজের দাবি তুলে আসছিল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো। কিন্তু রিপাবলিকান ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দেয়ায় কয়েক মাস ধরেই নতুন প্যাকেজ ঘোষণায় অচলাবস্থা বিরাজ করছে। আগামী ২০ জানুয়ারি জো বাইডেন যখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্থলাভিষিক্ত হবেন, তিনি অর্থনৈতিক নীতিগত জায়গায় বিভিন্ন ঝক্কি-ঝামেলারও উত্তরাধিকার হবেন। খবর এএফপি।

নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বাইডেন দায়িত্ব বুঝে নেয়ার পর প্রথমেই যে সমস্যার মুখোমুখি হবেন তা হলো, নতুন প্রণোদনা প্যাকেজের আকার কত হবে এটি নির্ধারণ করা। মহামারীর শুরুতে দলীয় মতপার্থক্য এড়িয়ে দশমিক ট্রিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজের ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছেছিলেন রিপাবলিকান ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা। তার সঙ্গে ক্ষুদ্র মাঝারি উদ্যোগের জন্য আরো ৫০ হাজার কোটি ডলারেরও প্যাকেজ ছেড়েছিলেন তারা। প্যাকেজের প্রায় পুরো অর্থই ব্যবহার হয়ে গেছে। এখন মাসখানেক ধরেই আরেকটি প্যাকেজ নিয়ে দরকষাকষি করছেন তারা। ডেমোক্রেটিক হাউজ স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ট্রিলিয়ন থেকে দশমিক ট্রিলিয়ন ডলারের একটি প্যাকেজ পাস করাতে চান। রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেট তার চেয়ে ছোট প্যাকেজ চাইছে। সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা মিচ ম্যাককনেলের প্রস্তাবনা ৫০ হাজার কোটি ডলার।

দুই দলের আইনপ্রণেতাদের প্রস্তাবিত প্যাকেজের বিশাল বৈপরীত্য ঐকমত্যের পথে বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে। দ্বিতীয় দফায় কভিড-১৯ সংক্রমণ বৃদ্ধিতে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, মার্কিন অর্থনীতি আরো খারাপ হতে পারে। এতে অনেক কোম্পানি বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং দেউলিয়াত্বের শিকার হতে পারে।

উদারবাদী থিংকট্যাংক দ্য সেঞ্চুরি ফাউন্ডেশনের এক গবেষণায় বলা হয়, কেয়ারস অ্যাক্টের আওতায় চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রায় কোটি ২০ লাখ শ্রমিক বেকারত্ব সুবিধা পাবেন। কংগ্রেস যদি শিগগিরই পদক্ষেপ গ্রহণ না করে তাহলে পরিস্থিতি আরো সঙ্গিন হতে পারে এবং তা সমাধান সহজতর ঠেকবে না।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের বিশ্লেষক গ্রেগরি ডাকোর পূর্বাভাস, সহায়তা ছাড়া ২০২১ সালের শুরুর দিকটি খুবই খারাপ থাকবে এবং দেশটির অর্থনৈতিক ক্রিয়াশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি আরো বলেন, রাজনীতিবিদরা ভুল দিকে ধাবিত হচ্ছেন। পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়া থেকে রক্ষায় তাদের সহায়তামূলক কর্মসূচি নেয়া উচিত।

সোমবার একটি খোলা চিঠিতে ১২০ জনেরও বেশি অর্থনীতিবিদ আহ্বান রাখেন যেন কেয়ারস অ্যাক্টের আওতায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে আরেকটি প্রণোদনা প্যাকেজ সরবরাহ করা হয়।

নতুন প্রণোদনা প্যাকেজ সরবরাহ করা হবে বাইডেনের প্রথম কোনো চ্যালেঞ্জ। এছাড়া তিনি অবকাঠামো খাতে যে বিশাল বিনিয়োগ পরিকল্পনা করেছেন, তা কীভাবে কার্যকর করবেন, সেটা একটি বড় প্রশ্ন। জর্জিয়ায় আগামী জানুয়ারির সিনেট নির্বাচনে যদি দুই রিপাবলিকান প্রার্থী জয়ী হন তাহলে সিনেটে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখবে। এক্ষেত্রে বাইডেনের অর্থনৈতিক নীতি কার্যকরে নিয়মিত সমস্যায় পড়তে হবে। এর আগে বারাক ওবামা প্রশাসনও রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেটে অনেক নাকানিচুবানি খেয়েছে।

তবে বাইডেন হয়তো নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। সেক্ষেত্রে তিনি অর্থনৈতিক নীতিগত জায়গায় যে অচলাবস্থা বিরাজ করছে তা কতটুকু প্রশমন করতে পারবেন, এটি সময় বলে দেবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন