বৃহস্পতিবার | জানুয়ারি ২১, ২০২১ | ৮ মাঘ ১৪২৭

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধিতে আতঙ্কিত রিটেইল শ্রমিকরা

বণিক বার্তা ডেস্ক

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন নভেল করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঝড়ের মুখোমুখি হয়েছে। করোনা আতঙ্ক এখন নতুন করে ভর করতে শুরু করেছে সবার মনে। রিটেইল জায়ান্টগুলোর ফ্রন্টলাইন কর্মী হিসেবে কাজ করা শ্রমিকদের মনেও বাড়ছে ভয়। যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমিক সংগঠকরা বলছেন, ছুটির দিনগুলোর উচ্চ বেচাকেনার গতির সঙ্গে মিলিয়ে সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে অ্যামাজন ওয়ালমার্টের মতো বড় রিটেইলারদের আরো জোর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি ঝুঁকি ভাতা, অসুস্থতাজনিত ছুটি এবং প্রাদুর্ভাব সম্পর্কিত আরো ভালো যোগাযোগসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নজর দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠকরা। খবর বিবিসি।

ক্যাম্পেইন সামনে এসেছে মূলত যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শ্রমিকরা তাদের অবস্থা এবং স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পর। ওয়ালমার্ট শ্রমিক মেলিসা লাভ বলেন, আমার মতো সহযোগীরা এখন আতঙ্কিত।

শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে সোমবার ক্যাম্পেইন শুরু করেছে ইউনাইটেড ফর রেসপেক্ট, এটি শ্রমিকদের একটি অলাভজনক সংগঠন; যা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ১৬ মিলিয়ন মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে।

পৃথকভাবে শ্রমিক ইউনিয়ন ইউএফসিডব্লিউ, যাদের সদস্যদের মাঝে মুদি দোকানের শ্রমিক এবং মাংস প্যাকেটজাত প্লান্টের কর্মীরাও অন্তর্ভুক্ত, তারাও মালিকপক্ষকে আহ্বান জানিয়েছে কর্মীদের রক্ষার জন্য আরো বেশি কিছু করার।

ইউএফসিডব্লিউ ইন্টারন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট মার্ক পেরোনে বলেন, সোজা কথা হচ্ছে সামনের সারির শ্রমিকরা আতঙ্কিত। কারণ মালিকরা এবং নির্বাচিত নেতারা তাদের রক্ষা করার জন্য এবং ভাইরাসের বিস্তৃতি থামানোর জন্য যথেষ্ট কিছু করছেন না। ছুটির দিনে শপিং দিয়ে থ্যাংকসগিভিং শুরু হওয়ার সঙ্গে আমরা এরই মধ্যে ক্রেতার সংখ্যা প্রচুর বাড়তে দেখেছি। যদি আমরা এই ছুটির সপ্তাহে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করি, তবে অনেক জরুরি কর্মী করোনায় সংক্রমিত হবেন এবং অনেকে দুঃখজনকভাবে মৃত্যুবরণ করবেন।

ওয়ালমার্ট কর্মী এবং ইউনাইটেড ফর রেসপেক্টের সদস্য মেলিসা প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আছেন পাঁচ বছর ধরে। তিনি এরই মধ্যে ছুটির দিনের ক্রেতাদের ভিড় দ্বারা ভীত বলে জানিয়েছেন। কারণ সেইসব ক্রেতা ওয়ালমার্টকে সুপার স্প্রেডারদের কেন্দ্রে পরিণত করতে পারেন।

অ্যামাজনের জন্য মুদি পণ্য সংগ্রহকারী গ্রুপের আরেক সদস্য কোর্টনি ব্রাউন বলেন, সংক্রমিত স্টাফদের সম্পর্কে কোম্পানিকে বারবার বিজ্ঞপ্তি দিতে হয়েছিল। অ্যামাজন প্রতি ঘণ্টায় সামনের সারির কর্মীদের বেতন ডলার করে বাড়ায়, কিন্তু সেই পলিসি জুনেই শেষ হয়ে গেছে। কাজ পেয়ে খুশি হলেও অ্যামাজনের কাছে তার জীবনের মূল্য খুব বেশি না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে ওয়ালমার্ট ব্ল্যাক ফ্রাইডে মূল্যছাড় অফার যেভাবে সামলাচ্ছিল, তাতে পরিবর্তন এনেছে বলে জানা গেছে। নিজেদের অফারগুলো তারা অনলাইনে দিচ্ছে এবং কিছুদিন ধরে তারা চেষ্টা করছে দোকানে ক্রেতাদের ভিড় এড়াতে।

অ্যামাজন গত মাসে বলেছিল, সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মহামারীর শুরু থেকে তাদের ২০ হাজার কর্মী (. শতাংশ) করোনা টেস্টে পজেটিভ এসেছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়, স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা ১৫০টি প্রক্রিয়া হয় নতুন করে সামনে এনেছি বা বদল করেছি। যেখানে আমরা ১০০ মিলিয়ন ফেস মাস্ক বিতরণ করেছি, বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন সাইটে তাপমাত্রা পরিমাপের ব্যবস্থা করেছি, পরিচ্ছন্নতা প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক করেছি এবং কর্মীদের মাঝে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার বিষয়টি বৃদ্ধি করেছি।  

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন