বৃহস্পতিবার | জানুয়ারি ২১, ২০২১ | ৮ মাঘ ১৪২৭

সম্পাদকীয়

জীবনযাত্রা

ভালো থাকবেন ঋণখেলাপিরা যাতনায় থাকবেন মধ্যবিত্তরা

ড. আর এম দেবনাথ

সরকারের মন্ত্রীদের সুবিধা ও অসুবিধা দুটোই আছে। তারা যখন ক্ষমতাসীন তখন প্রতিদিন তাদের খবর পাওয়া যায়। যেই মাত্র তারা পদচ্যুত কেউ তাদের খবর নেয় না। এমন একজন এ মুহূর্তে আবুল মাল আবদুল মুহিত—১০ বছরের দাপুটে অর্থমন্ত্রী। কেমন আছেন তিনি? তার বয়স হয়েছে—স্বাভাবিকভাবেই মনে প্রশ্ন জাগে তিনি কেমন আছেন, বিশেষ করে ‘কভিড-১৯’ পরিস্থিতিতে। অভাব-অনটনের এই দিনে তার কথা ভুক্তভোগীরা আরো বেশি মনে করেন। যখন তিনি ক্ষমতায় ছিলেন তখন প্রতিদিন তিনি ‘খবর’ হতেন। ‘রাবিশ’ ছিল তার প্রিয় বাক্য। প্রায়ই অতি তিক্ত সত্য কথা বলে ফেলতেন। এতে জনপ্রিয় হতেন তিনি, আবার কেউ কেউ থাকতেন সমালোচনামুখর। আজকের এই দিনে যখন সাধারণ মধ্যবিত্ত সঞ্চয়কারী, অবসরভোগী, চাকরিচ্যুত, ব্যবসাচ্যুতরা নয় মাস দীর্ঘ ‘কভিড-১৯’ যাতনায় ভুগছে তখন তার কথা আরো বেশি মনে পড়ছে। কারণ তাদের সঞ্চয়ে হাত পড়েছে। সঞ্চয় প্রায় শেষ। আর সঞ্চয়ের কোনো ‘বরকতও’ নেই। কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা সঞ্চয়, তার থেকে প্রাপ্ত আয় দিয়েও সংসার চলছে না। সামনে কঠিন দিন, অস্থির ও অনিশ্চয়তার দিন। সরকার বলছে, ‘কভিড-১৯’ পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে। কোত্থেকে আসবে খরচের টাকা। যা সঞ্চয় ছিল তা মধ্যবিত্ত/অবসরভোগী এবং এই শ্রেণীর লোকদের তা বিনিয়োজিত ছিল সঞ্চয়পত্রে। এসবের এখন মেয়াদ পূর্তি হচ্ছে। ভাঙানো টাকা কোথায় বিনিয়োগ করা যাবে? ব্যাংক আমানত! এখানেই মাথায় হাত। মাসিক আয় অর্ধেকের চেয়েও কম। এটা হয়েছে সরকারের ‘নয়-ছয়’ সুদনীতির কারণে। হঠাৎ করে সরকারের সিদ্ধান্ত দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে হলে ব্যাংকঋণের সুদের হার কমাতে হবে। তা করতে হলে আমানতের ওপর সুদের হার কমাতে হবে। এত টাকা সুদ দিয়ে ব্যবসা করা যায় না—এই হলো যুক্তি। কেউ জিজ্ঞাসা করল না, ‘কস্ট অব প্রোডাকশনের’ কত শতাংশ ‘সুদ ব্যয়’ (ইন্টারেস্ট এক্সপেন্স)। প্রশাসনিক ব্যয়, মানবসম্পদ ব্যয় এবং অন্যান্য খরচ কত কেউ এ প্রশ্ন তুলল না। এক বাক্যে সবাই বলল আমাদের সুদের হার বেশি, বিদেশে কম। তাই সরকারের প্রভাবশালী একটা অংশ সুদের হার কমিয়ে নিল। তা করতে গিয়ে আমানতের ওপর সুদের হারও কমানো হলো। করা হলো ‘জোর’ করে। বাইরে থেকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক রাজি নয়, অর্থনীতিবিদরা রাজি নন। তারা বলছেন, সুদ ঠিক করুক বাজার—এটাই বাজার অর্থনীতির কথা। ব্যবসা চলবে ব্যবসায়ীদের শক্তিতে। সরকার দেবে অবকাঠামো, শৃঙ্খলা ও শান্তি। লাভ ব্যবসায়ীর, লোকসানও ব্যবসায়ীর। না, তা হলো না। সরকার বাইরে থেকে ব্যাংকগুলোকে দিয়ে আমানতের ওপর সুদের হার কমিয়ে নিল। ব্যাংক করতে চায় না। ব্যাংক মালিকদের বহুল সমালোচিত সুযোগ-সুবিধা দিয়ে এই কাজটা করা হলো—বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য। অথচ এখন মনে পড়ে আবুল মাল আবদুল মুহিতের কথা। তিনি বলতেন ব্যাংক সুদ ঠিক করবে বাজার, ঠিক করবে ব্যাংক। এটা বাইরে থেকে ঠিক করা উচিত হবে না। একটি পত্রিকায় ইন্টারভিউ দেয়ার সময় (১৯.১.২০) তিনি সুদনীতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, ‘সুদের হার বাইরে থেকে চাপিয়ে দিলে তা ভালো কাজ করে না।’ যাদের মনে আছে তারা জানেন, সুদনীতি পরিবর্তনের জন্য ব্যাংকার-সরকার-মালিকদের বৈঠক হয়েছিল বড় একটি হোটেলে—নজিরবিহীনভাবে। ব্যাংকের ওপর আস্থার প্রশ্নে তিনি সেদিন বলেছিলেন, ‘এখন আমি সঞ্চয়পত্র ছাড়া আর কোথাও টাকা রাখি না।’ এ ইন্টারভিউর এক মাস পর (১৯.২.২০) আবুল মাল আব্দুল মুহিত ব্যাংকঋণের ‘পুনর্গঠন’ সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, এটা ভুল। তা বন্ধ হওয়া দরকার। ‘অবলোপন’ সম্পর্কে বলেন, তা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।  মুহিত সাহেবের পরামর্শ যা-ই হোক না কেন তা অগ্রাহ্য করেই সরকার শেষ পর্যন্ত নয়-ছয় সুদনীতি কার্যকর করে। এরই মধ্যে এসে যায় ‘কভিড-১৯’। সরকার এখন বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করার জন্য ব্যবসায়ীদের যা যা সুবিধা দেয়ার কথা তা তো দিচ্ছেই, এর ওপর কিছু থাকলে তাও দিচ্ছে। ‘কভিড-১৯’-এর আগেই যারা মরমর ছিল, যাদের কোনো ‘ক্যাশ ফ্লো জেনারেশন’ ছিল না, যারা ‘ওভার ক্যাপাসিটি’ তৈরি করে বসে ছিলেন, ফান্ড অন্যত্র সরিয়েছিলেন, ব্যবসা পুনরুদ্ধারের যার কোনো সম্ভাবনা নেই তারাও সরকারের প্রণোদনা থেকে ঋণ পেতে লাগলেন। বিপরীতে যাদের ঋণের দরকার সেই ছোট ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ও ব্যবসায়ে ঋণের খবর নেই। আর ঋণনীতির নামচিহ্ন রইল না। শ্রেণীবিন্যাসকরণ নীতি, প্রভিশন নীতি, সুদনীতি থেকে শুরু করে সব ঋণ-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের বস্তুত বিনা সুদে ঋণ দেয়া হচ্ছে ব্যবসা পুনরুদ্ধারের জন্য। এর বিপক্ষে কি বলার কিছু আছে? না, হয়তো নেই। হয়তো সবাই বলবেন—এটাই দরকার। তবে দেখতে হবে এতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ছে কিনা। পত্রিকায় দেখলাম আমাদের ব্যবসায়ীদের বিদেশী অবৈধ বিনিয়োগ দিন দিন বাড়ছে। এসব দেখেশুনে মনে হচ্ছে আমাদের ব্যবসায়ী-শিল্পপতিরা ভালোই আছেন। লাভ তাদেরই থেকে যাচ্ছে। লোকসান সরকারের ঘাড়ে, ব্যাংকের ঘাড়ে চাপছে। ব্যাংকাররা বারবার তা বলছেন। ঋণখেলাপ সমস্যায় ব্যাংক জর্জরিত। এ প্রেক্ষাপটে ব্যাংক এখন অতিরিক্ত ঋণ দিতে অনাগ্রহী। তাই তারা সবার গাল খাচ্ছে। অথচ তারা যে ঋণের টাকা আদায়ের ব্যাপারে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত সেই কথা কেউ বলছেন না। দেখা যাচ্ছে বড় বড় ব্যবসায়ী-শিল্পপতি, প্রভাবশালীরা যেমন এ দুর্দিনে ভালো আছেন, তেমনি ভালো আছেন আরেক শ্রেণীর লোক। তারা হচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবী। ১৯৮০-৯০ সালের দিকে সবাই বেসরকারি খাতে চাকরি করতে চাইত—সুযোগ-সুবিধা বেশি পাওয়া যায় বলে। আজকে সেখানে যখন-তখন চাকরি যায় বলে, বেতন কাট, পদোন্নতি বন্ধ হয় বলে বেসরকারি খাতে কেউ চাকরি করতে চায় না। সবাই চায় যেভাবেই হোক একটা সরকারি চাকরি পেতে। এখানে এখন বেসরকারি খাতের মতো সব সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়। ‘আসলে-গেলে বেতন, কাজ করলে ওভারটাইম’— এ হচ্ছে অবস্থা। চাকরি যাওয়ার সুযোগ কম। অবসরের পর আজীবন ভরণপোষণ করবে সরকার। আবার দেখা যায় বিদেশে বাড়িঘর বানাচ্ছে তাদেরই একাংশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন জানিয়েছেন (১৯.১১.২০) ‘রাজনীতিবিদরা নন, বিদেশে বেশি অর্থ পাচারকারীদের মধ্যে সরকারি কর্মকতারাই বেশি। গোপনে কানাডার টরন্টোতে অবস্থিত বাংলাদেশীদের বিষয়ে খোঁজ নেয়া হয়েছে।...যে তথ্য পেয়েছি তাতে অবাক হয়েছি। সংখ্যার দিক থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বাড়িঘর সেখানে বেশি আছে এবং তাদের ছেলেমেয়েরা সেখানে আছে।...আমার কাছে ২৮টি কেস এসেছে এবং এর মধ্যে রাজনীতিবিদ চারজন। এছাড়া কিছু আছেন তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী।...শুধু কানাডা নয়, মালয়েশিয়ায়ও একই অবস্থা। তবে তথ্য পাওয়া কঠিন।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা থেকে কী মনে হয়? সবার কথা বলছি না। সমাজের একটা অংশ তো ভালোই আছে।

আমার প্রশ্ন, বড় বড় ব্যবসায়ী, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, খেলাপি ব্যবসায়ীদের অবস্থা এই দুর্দিনেও ভালো—‘কভিড-১৯’ পরিস্থিতি তাদের বরং প্রশ্নের ঊর্ধ্বে তুলে ধরে রেখেছে। এদিকে দেখা যাচ্ছে এক শ্রেণীর পোশাক রফতানিকারক ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের অবস্থাও ভালো—তারা বিদেশে আরামের জীবন যাপন করছেন, তাদের ছেলেমেয়ে স্ত্রী-পুত্র-পুত্রীরা। সেখানে সুখে দিন কাটাচ্ছেন। মাঝখান দিয়ে মার খাচ্ছেন ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ী, ব্যবসাচ্যুত লোকজন, চাকরিচ্যুত লোকজন, বেসরকারি অবসরপ্রাপ্ত লোকজন এবং সাধারণ মধ্যবিত্ত। তাদের কারো কারো কিছু সঞ্চয় ছিল। বহু কষ্টের সঞ্চয়। সেসব সঞ্চয় শেষে এখন তারা নিরুপায় জীবন যাপন করছেন। যাদের কিছুটা সঞ্চয় এখনো আছে তাদের আয় অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে। সঞ্চয়পত্র নেই। ৫০ লাখ টাকার ওপরে সঞ্চয়পত্র কেনা যাবে না। ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর ছাড়া সঞ্চয়পত্র পাওয়া যাবে না। এদিকে ব্যাংক সুদের হার কার্যত ৫ শতাংশ। তার ওপর ১০ শতাংশ উেস কর কাটা হয়। তার মানে সুদের হার মূল্যস্ফীতির হারের চেয়েও কম। এসব দেখে সঞ্চয়কারীরা হতাশ। অতীতে যারা সঞ্চয়ের ওপর ভরসা করে অবসরে গিয়েছিলেন বা যাবেন তারা হতাশ—সংসার চলবে কীভাবে? যারা বেসরকারি চাকরিতে প্রবেশ করছে, তারাও সঞ্চয় সম্পর্কে হতাশ। ব্যাংকে সুদ নেই। বাজারে নাকি বন্ড আছে। তার সুদের হার ১-২-৩ শতাংশ। শেয়ারবাজার হচ্ছে লুটের বাজার। এটা করাই হয়েছে/রাখাও হচ্ছে কিছু লোককে টাকা বানিয়ে দেয়ার জন্য। তাহলে সঞ্চয়কারীরা যাবে কোথায়? তার পরও প্রশ্ন আছে। কত টাকা সঞ্চয় থাকলে একটা মধ্যবিত্ত পরিবার বর্তমান সুদহারে সংসার চালাতে পারবে? এর সঠিক ও সাধারণ চিত্র তুলে ধরা কঠিন। তবে আনুমানিক একটা চিত্র তুলে ধরা যায়। একজন মধ্যবিত্ত ধরা যাক ঋণ করে ফ্ল্যাট কিনেছে। অবসরের পর তার খরচ কেমন হতে পারে? ঋণের কিস্তি দিতে হবে ২৫-৩০-৪০ হাজার টাকা। নিজের ফ্ল্যাটে থাকতে হলেও কমন চার্জ লাগবে মাসিক কম করে হলেও ৫-৭ হাজার টাকা। ছেলেমেয়েদের স্কুল-কলেজ যাত্রা, নিজেদের চলাফেরার জন্য যদি একটা রিকন্ডিশনড গাড়ি থাকে তাহলে তার পেছনে খরচ পড়বে ৩০-৪০ হাজার টাকা। বাজার খরচ কত? মাছ, মাংস, শাক-সবজি কত টাকার লাগবে? চিকিৎসার খরচ কত? সামাজিক খাতে খরচ কত? জরুরি সেবা নিতে খরচ কত? যদি কম করে হলেও মাসিক এক-দেড় লাখ টাকা ধরে নিই তাহলে তার সুদ আয় কত লাগবে সংসার চালাতে। বছরে লাগে ১৮-২০ লাখ টাকা। ৫ শতাংশ সুদহারে সঞ্চয় লাগে ৪-৫ কোটি টাকা, যা ব্যাংকে রাখলে বর্তমান হারে মাসিক খরচটা কোনো মতে চলতে পারে। প্রশ্ন কোন বেসরকারি চাকরি থেকে এখন (আগের কথা বলছি না) ৪-৫ কোটি টাকা সঞ্চয় নিয়ে অবসর নেয়া যায়? এই প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই। তাহলে? তাহলে উপায় হচ্ছে সরকার। অবসরে গেলে সরকার ভাতা দেবে। যা দিয়ে সংসার খরচ চলবে, চিকিৎসা খরচ চলবে। এমনকি বেকারদেরও ভাতা দেবে। এ ব্যবস্থা কি আমাদের দেশে আছে? মুহিত সাহেব এসব ভাতার কথা বলেছিলেন। এ পর্যন্তই। কোনো কিছুই হয়নি। তাহলেই প্রশ্ন, সাধারণ অবসরভোগী মধ্যবিত্তের (সরকারি অবসরভোগী নয়) সংসার চলবে কীভাবে? প্রভাবশালী ব্যবসায়ী/খেলাপি ব্যবসায়ী/ক্ষতিগ্রস্ত, অক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ভালো থাকবেন, সরকারি কর্মকর্তারা ভালো থাকবেন; সাধারণ মধ্যবিত্ত কী দোষ করল? সুদ দেবেন না বুঝলাম। সংসার চালানোর ব্যবস্থা করুন। সব সময় বিদেশের সঙ্গে তুলনা করা হয় সুদের বেলায়। তাহলে চাকরিচ্যুত, ব্যবসাচ্যুত, অবসরভোগী ও বেকারদের মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করেন। যাতে লাখ লাখ মানুষ বাঁচতে পারে। কারণ উন্নত সভ্য দেশে সুদের হার যেমন কম তেমনি সেখানে বেকার ভাতা আছে, অবসর ভাতা আছে, চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে আমাদের মধ্যবিত্তের ক্ষতির দিকটা আছে, সুবিধার দিকটা নেই। আমাদের একজন মন্ত্রী ছিলেন তিনি বলতেন এক ডলারে দুই কেজি চাল পাওয়া যায়, আর কী চান আপনারা? এই মন্ত্রী কি জানেন না যে আমাদের দেশের লোকের রোজগার টাকায়, ডলারে নয়।  

পরিশেষে সরকারের কাছে একটা নিবেদন। সঞ্চয়ের দরকার নেই ঠিক আছে। সঞ্চয়ের ওপর কোনো সুদ দেয়া হবে না, এটাও ঠিক আছে। বন্ড মার্কেট, শেয়ার মার্কেট কিছুই হবে না; ঠিক আছে। তাহলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো সাধারণ লোক, সাধারণ মধ্যবিত্তেরও অবসর ভাতার ব্যবস্থা করা হোক। সরকারি কর্মকর্তাদের অবদান কী তা প্রশাসনের অবস্থা দেখলেই বোঝা যায়। তার পরও তারা বাঁচুক। কিন্তু গার্মেন্টস কর্মী, বিদেশ থেকে ডলার প্রেরক গরিব কৃষকের ছেলে রোদে পোড়া ধান উৎপাদক কৃষক, হাড়ভাঙা খাটুনি খাটা রিকশা শ্রমিক, নির্মাণ কর্মী, বেসরকারি ব্যাংক বীমায় কর্মরতদের কি কোনো অবদান নেই? সংস্কৃতিসেবী, গায়ক, সাহিত্যিক, লেখক, বুদ্ধিজীবীদের কি কোনো অবদান নেই? সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তা, প্রভাবশালী শিল্পপতি—ব্যবসায়ী (অধিকাংশ ক্ষেত্রেই খেলাপি) এই শ্রেণীর লোকদেরই কি কেবল অবদান? বাকিদের কি কোনো অবদান নেই, বাঁচার অধিকার নেই? বেসরকারি খাতে কর্মরতদের কাজ থাকবে না, যখন তখন চাকরি যাবে, পদোন্নতি হবে না, অবসরে যেতে হবে শূন্য হাতে—তাহলে এরা বাঁচবে কীভাবে? দুটো পয়সা এরই মধ্যে সঞ্চয় করলে বলা হবে আমেরিকায় সুদের হার কম। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে আমেরিকা তো বাংলাদেশ নয়। ওখানে পরিবার নেই। রাষ্ট্র তাদের ভরণপোষণ করে। আর আমাদের দেশে? রাষ্ট্র কিছুই দেয় না। শুধু কিল দেয়ার গোসাই, তাই নয় কি?


ড. আর এম দেবনাথ: অর্থনীতি বিশ্লেষক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন