বৃহস্পতিবার | জানুয়ারি ২১, ২০২১ | ৮ মাঘ ১৪২৭

সম্পাদকীয়

অসংগতি

শিল্পদক্ষতা পরিপূরণে কারিগরি শিক্ষা কতটা সমর্থ হচ্ছে?

হুমায়ুন কবির

করোনা মহামারীতে কিছুটা হোঁচট খেলেও দেশের উন্নয়ন অভিযাত্রা একটি উত্ক্রমণশীল পর্যায় পার করছে। বিশ্বপরিমণ্ডলে আমরা এরই মধ্যে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার প্রাথমিক যোগ্যতা অর্জন করেছি। অদূরভবিষ্যতে উচ্চমধ্যম আয়ের ঝুড়িতে পদার্পণের পাশাপাশি ২০৪১ সালে উন্নত দেশে উন্নীতের রূপকল্প বিদ্যমান সরকারের। প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক নৈপুণ্যে নিকট অতীতের প্রবণতা বিবেচনায় নিলে উল্লিখিত লক্ষ্য অর্জন কোনো দূরকল্পী ব্যাপার নয়। তবে তার জন্য বিদ্যমান নিম্ন উৎপাদনশীলতা থেকে উচ্চ উৎপাদনশীলতার অর্থনীতিতে আমাদের অবশ্যই যাত্রা করতে হবে। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকার জন্যও এটি জরুরি। কিন্তু বর্তমানে এক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করছে দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি। আজকে বাংলাদেশ বৈশ্বিক ব্যবস্থার সঙ্গে আরো নিবিড়ভাবে একীভূত হচ্ছে এবং নতুন প্রযুক্তিগুলোও দ্রুততার সঙ্গে এখানে প্রবেশ করছে। এ ধরনের পরিবর্তনগুলো ব্যবসায়িক পরিবেশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টির দৃশ্যপট এবং শিল্প খাতে গভীরভাবে প্রভাব ফেলছে। পরিবর্তনশীল বাস্তবতায় আমাদের শ্রমশক্তি উৎপাদন খাতের প্রয়োজনীয় দক্ষতা চাহিদা মেটাতে পারছে না। ফলে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে দেশের শিল্প খাতের উচ্চদক্ষ কাজগুলোয় ভারত, শ্রীলংকা, চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকরা প্রাধান্য পাচ্ছে। শিল্পোদ্যাক্তাদের ভাষ্যে উঠে এসেছে যে দেশে কারিগরি স্নাতকদের মধ্যে অত্যাবশ্যকীয় কিছু দক্ষতা ঘাটতি রয়ে গেছে, যেজন্য অনেকটা অনিচ্ছায় তারা বিদেশী পেশাজীবীদের ওপর নির্ভর করছে। স্বভাবতই এতে দেশ থেকে উল্লিখিত দেশগুলোয় বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্সের বহির্গমন ঘটছে। রেমিট্যান্সের বহির্গমন বেআইনি কিছু নয়, আমাদের দেশের ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো অভ্যন্তরে সমপর্যায়ের দক্ষতা পাচ্ছে না বলেই পূর্বোক্ত দেশগুলোর পেশাজীবীদের নিয়োগে অনেকটা বাধ্য হচ্ছে। এটি শিল্পের সঙ্গে আমাদের কারিগরি শিক্ষার সংযোগহীনতা বড় মাত্রায় তুলে ধরে। 

বঙ্গবন্ধু দেশের জন্মলগ্নেই কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দিয়েছিলেন। ১৯৭২ সালে এক বক্তৃতায় তিনি তরুণদের অনুরোধ করেছিলেন কেরানি মানসিকতা ছেড়ে কারিগরি শিক্ষায় প্রবেশ করতে। বলেছিলেন, ‘আমরা অনেক কেরানি চাই না। আমাদের দরকার ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, টেকনিশিয়ান, কৃষিবিদ।’ এটি ছিল তার আহ্বান। কিন্তু তার আহ্বানের যথার্থ রূপদান এখনো পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। দেশের অর্থনীতিতে কাঠামোগত রূপান্তর ঘটছে। আগে কৃষির অবদান বেশি থাকলেও ধীরে ধীরে জিডিপিতে উৎপাদন খাতের অংশ বাড়ছে। অর্থনৈতিক সমীক্ষায় উঠে আসা তথ্যে দেখা যাচ্ছে, কৃষি ও সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি গত কয়েক বছরে মোটামুটি স্থবির থাকলেও জিডিপিতে উৎপাদন খাত তথা শিল্পের অংশ স্থিতিশীলভাবে বাড়ছে। বলা চলে, অর্থনীতি বড় করতে উৎপাদন শিল্প ধারাবাহিকভাবে মুখ্য ভূমিকা পালন করছে। উৎপাদন শিল্পের অবদান বাড়লে আমাদের জন্য তা দুদিক থেকে সুফলপ্রদায়ী। শ্রমঘন শিল্প হওয়ায় একে তো বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে; দ্বিতীয়ত, অর্থনীতির গতিময়তা আরো বেগবান হবে। সেক্ষেত্রে চলমান জনমিতিক বোনাসও কাজে লাগানো সম্ভব হবে। এটা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। কিন্তু তার জন্য শিল্পের সঙ্গে কারিগরি শিক্ষার মেলবন্ধনটি হওয়া চাই।

জোরালো প্রযুক্তিগত রূপান্তরের কারণে আন্তর্জাতিক বাজার আগের চেয়ে প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়ে উঠছে। সব দেশই তাতে নিজেদের শিল্পপণ্যের অংশ বাড়াতে মরিয়া। বিদ্যমান রফতানিমুখী প্রবৃদ্ধির মডেলে বিশ্ববাজারে আমাদের দৃঢ় অবস্থান নিশ্চিতে মানসম্পন্ন শিল্পপণ্যের রফতানি বাড়াতে হবে, উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্যে জোর প্রদানপূর্বক রফতানি ঝুড়িতে বহুমুখিতাও আনতে হবে। তার জন্য শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের দক্ষতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। আর সেটি করতে হলে প্রশিক্ষণ জোরদারের পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষায় অত্যধিক জোর দিতে হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সরকার দৃষ্টি দিলেও কারিগরি শিক্ষায় আমাদের অবশ্য বাস্তবিক কিছু চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। এক্ষেত্রে প্রথম চ্যালেঞ্জ হলো জনমানসিকতা সম্পর্কিত। কারিগরি শিক্ষার প্রতি অভিভাবকদের মধ্যে সামাজিকভাবে এক ধরনের ট্যাবু আছে যে দ্রুত শিক্ষা সম্পন্ন করতে এবং কাজে যুক্ত হওয়ার জন্য আর্থিকভাবে অসচ্ছলরাই কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা গ্রহণ করে। যেজন্য বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ঘরের শিক্ষার্থীরা কারিগরি শিক্ষাকে প্রথম নয়, অনেকটা দ্বিতীয় পছন্দ হিসেবে নিচ্ছে। এটি কারিগরি শিক্ষা প্রসারের পথে অন্তরায়। বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বাড়াতে এ ধরনের উন্নাসিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনে সচেতনতামূলক প্রচারণা বাড়াতে হবে। দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হলো, দক্ষ শিক্ষকের ঘাটতি। কারিগরি শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপচারিতায়  জেনেছি, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ণের প্রভাবে সাধারণ শিক্ষার মতো এখানেও মেধাবীরা শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন না, অযোগ্যরাই হচ্ছেন শিক্ষক। তদুপরি ব্যবহারিক বিষয়ে পাঠদানের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আধুনিক ও সর্বসাম্প্রতিক যন্ত্রাংশের অভাব রয়েছে; আছে প্রশিক্ষণের ঘাটতিও। সব মিলিয়ে ব্যাহত হচ্ছে মানসম্পন্ন পাঠদান। ফলে দক্ষ কারিগরি স্নাতক তৈরির লক্ষ্যটি পূরণ হচ্ছে না। এ সমস্যার সমাধান করতে হলে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পেশাদারি, জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ অ্যাপ্রোচ, প্রশিক্ষণ বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত যন্ত্রাংশের জোগান নিশ্চিত করতে হবে। 

তৃতীয় আরেকটি চ্যালেঞ্জ হলো, পাঠক্রমের সময়োপযোগিতাহীনতা। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রভাবে বিশ্ব অনেক দূর এগিয়ে গেছে। প্রযুক্তিগত রূপান্তর ও নতুন নতুন উদ্ভাবনের ছোঁয়ায় পুরনো দক্ষতা ভিত্তির অনেকখানিই বদলে গেছে। বিষয় বিন্যাস ও প্রয়োগিকতার ক্ষেত্রগুলোরও ব্যাপকতর রদবদল ঘটেছে। অথচ আমাদের দেশের কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার পাঠক্রমে সময়ান্তরে বিশেষ পরিবর্তন আসেনি, পুরনো সিলেবাসে অনেকটা দায়সারাভাবে এর পাঠদান চলছে। ফলে বৈশ্বিক পরিসরে ঘটে চলা রূপান্তরের ছাপ নেই তাতে। মানসম্পন্ন ও সময়োপযোগী কারিগরি শিক্ষা নিশ্চিত করতে না পারার পেছনে এটিও একটি বড় কারণ বলা যায়। কারিগরি শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে পাঠক্রমে যুগ চাহিদার সন্নিবেশ ঘটানোর কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষা ব্যবস্থাপকদের এটি অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। 

চতুর্থ চ্যালেঞ্জ শিক্ষানবিশি ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা। কারিগরি শিক্ষাটা প্রধানত ব্যবহারিক ধাঁচের হওয়ায় হাতে-কলমে শেখানোর জন্য বিশ্বের সর্বত্রই শিল্প খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি আন্তঃসংযোগ থাকে। শিক্ষানবিশি ব্যবস্থার মাধ্যমেই মূলত সংযোগটি ঘটানো হয়। উদ্দেশ্য, যাতে শিক্ষার্থীরা শিল্পের কারিগরি দিকগুলো সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করতে পারে, সেই অনুযায়ী নিজেদের প্রস্তুত করতে পারে এবং সর্বোপরি প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারে। কিন্তু সময়ের ধারাবাহিকতায় দেশে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়লেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সেগুলো শিল্প খাতের সঙ্গে শিক্ষানবিশি ব্যবস্থা গড়ে তোলেনি। ফলে শিক্ষার্থীরা বিদ্যায়তনিক শিক্ষার বাইরে বাস্তবিক দুনিয়ার জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। বলা চলে, শিল্প ও শিক্ষার মেলবন্ধনটি না ঘটায় স্বাভাবিক কারণেই আমাদের কারিগরি স্নাতকরা শিল্প খাতের প্রয়োজনীয় দক্ষতা চাহিদা মেটাতে পারছে না। এ অসংগতি নিরসন করতে হলে সবখানে শিক্ষানবিশি ব্যবস্থা ছড়িয়ে দিতে হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দিক থেকে যেমন উদ্যোগ নিতে হবে, তেমনি শিল্প খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকেও আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে। অনেক সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো চাইলেও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এ ধরনের চুক্তিতে রাজি হতে চায় না। শিল্পোদ্যোক্তাদের এ ধরনের মানসিকতারও পরিবর্তন জরুরি।

শিল্পোন্নত দেশ হিসেবে যারা আজকে স্বীকৃত, তারা প্রত্যেকেই শিল্প খাতের সঙ্গে কারিগরি শিক্ষার যথাযথ সংযুক্তি ঘটিয়েই এ অবস্থানে উন্নীত হয়েছে। তারা কাজটি কীভাবে করেছে তার মূর্ত উদাহরণগুলো আমাদের জন্য অনুসরণীয় হতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়া হতে পারে এক্ষেত্রে একটি বড় দৃষ্টান্ত। দক্ষিণ কোরিয়ার উদাহরণ টানছি এজন্য যে দেশটির সঙ্গে আমাদের বেশ সাযুজ্য রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া এবং আমাদের শিল্পযাত্রা মোটামুটি একই সময়ে সূচিত হয়েছে। অথচ একসময়ের অন্যতম দরিদ্র দেশটি মাত্র কয়েক প্রজন্মের ব্যবধানে আজকে উন্নত ও উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। এটি সম্ভব হয়েছে শিল্প খাতকে প্রাধান্য দিয়ে শিল্পের সঙ্গে শিক্ষা, বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষার সংযোগ ঘটাতে বড় ধরনের সংস্কারের মাধ্যমে। কাজটি তারা গত শতকের ষাট-সত্তরের দশকেই সম্পন্ন করেছে। ফলে দেশটি একটি সুদক্ষ জনশক্তি পেয়েছে, যারা জোরালো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে শিল্পের চাহিদা মেটাতে প্রায় শতভাগই সমর্থ হয়েছে। অথচ একই সময়ে যাত্রা করেও শিল্পের সঙ্গে কারিগরি শিক্ষার সংযোগটি আমরা আজও ঘটাতে পারেনি। ফলে এখনো সুনির্দিষ্টভাবে উচ্চদক্ষতার কাজে বিদেশীদের নির্ভরতা কাটাতে পারেনি। এটা হতাশাজনক। বৈশ্বিক বিবর্তনশীল প্রেক্ষাপটে শিল্প ও কারিগরি শিক্ষার মধ্যে নিবিড় সেতুবন্ধ ছাড়া নিজেদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো এবং কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক অভীষ্ট অর্জন সম্ভব নয়। জার্মানি, জাপান, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র, চীন প্রভৃতি দেশও একইভাবে এগিয়েছে। জার্মানিতে ডুয়াল ভোকেশনাল সিস্টেমের প্রচলন রয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। এ ব্যবস্থায় একজন শিক্ষার্থী একটি ভোকেশনাল ট্রেনিং স্কুলে অধ্যয়ন করে তত্ত্বীয় জ্ঞান লাভ করে, আবার সত্যিকারের কোনো কোম্পানি-শিল্প কারখানায় কাজ করে লাভ করে বাস্তব জ্ঞান। এতে তাদের শিল্প উপযোগী দক্ষতা অর্জনে খুব একটা অসুবিধা হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যেও নানা ধরনের ভোকেশনাল শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে। যেগুলো ট্রেড স্কুল নামে পরিচিত। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সেকেন্ডারি স্কুল শেষ করার পরে শিক্ষার্থীরা এ ধরনের শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। প্রাইভেট কোম্পানি দ্বারা পরিচালিত ট্রেড স্কুলগুলোর সঙ্গে শিল্প খাতের সংযুক্তি নিবিড়। কাজেই আগ্রহী যে কেউ চাইলেই সেখান থেকে বাজার উপযোগী দক্ষতা অর্জন করতে পারে। এদিকে  জাপান ও সিঙ্গাপুরে কারিগরি শিক্ষার প্রতি একসময় আমাদের মতো উন্নাসিকতা থাকলেও দ্রুতই তার বদল ঘটে এবং প্রাধিকার দিয়ে শিল্প খাতের সঙ্গে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাকে সংযুক্ত করতে সমর্থ হয়েছেন নীতিনির্ধারকরা। ফলে স্থানীয়ভাবে শিল্প খাতের জন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে তাদের বেগ পেতে হয়নি। চীনও কারিগরি শিক্ষায় খুব তত্পর একটি দেশ। জুনিয়র, সেকেন্ডারি ও টারশিয়ারি তিন ধাপেই দেশটিতে কারিগরি শিক্ষার সুযোগ আছে। বড় ব্যাপার হলো, দেশটি শিল্প খাতের সঙ্গে কারিগরি শিক্ষার চমত্কার সংযোগ ঘটানোর মাধ্যমে আজকে বিশ্বের সবর্বৃহৎ ম্যানুফ্যাকচারিং হাবে পরিণত হয়েছে, বিশ্বব্যাপী চীনা পণ্যের আধিপত্যে যার প্রমাণ মেলে। ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়াসহ আমাদের প্রতিযোগী রাষ্ট্রগুলোও শিল্পের সঙ্গে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাকে একীভূত করেছে। ফলে শিল্পদক্ষতা পরিপূরণে তারা এখন অনেকটাই স্বয়ংসম্পূর্ণ। স্থানীয় প্রাসঙ্গিকতা মাথায় রেখে আমাদেরও কাজটি করতে হবে। উল্লিখিত দেশগুলোর অভিজ্ঞতা এক্ষেত্রে আমাদের জন্য সহায়ক হবে বৈকি। 

মানব পুঁজি উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জোরালো করতে উন্নয়নশীল দেশগুলোয় শিল্প ও বিদ্যায়তনের সহযোগিতা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। বাংলাদেশের জন্যও এটি প্রযোজ্য। শিল্প ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে। এজন্য শিল্প খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের সঙ্গে সংগতি রেখে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের পরিবর্তন জরুরি। কারিগরি শিক্ষাকে অবশ্যই কর্মসংস্থান বা বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত হতে হবে। শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, শিল্পোদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারকরা এটা যত আগে বুঝতে পারবেন, তা আমাদের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য ততই কল্যাণকর হবে।  

হুমায়ুন কবির: সাংবাদিক

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন