মঙ্গলবার | জানুয়ারি ১৯, ২০২১ | ৬ মাঘ ১৪২৭

আন্তর্জাতিক খবর

মেথামফেটামিনে ঝুঁকছে হেরোইন বাণিজ্যের দেশ আফগানিস্তান

বণিক বার্তা ডেস্ক

কাবুলের এক ব্যস্ত সেতুর নিচে পরিত্যক্ত ময়লা আবর্জনার স্তূপের পাশেই বইছে নোংরা পানির প্রবাহ। সেতুর নিচেই বসবাস মাদকে আসক্ত একটি সম্প্রদায়ের।

৪৮ বছর বয়সী খুদাদাদ বলেন, এটা মানুষের বসবাসের উপযোগী কোনো জায়গা হতে পারে না। এমনকি এটা কুকুরের থাকার উপযোগীও নয়।

গত পাঁচ বছরে হেরোইন মেথামফেটামিনে (ক্রিস্টাল মেথ নামেও পরিচিত) আসক্ত ছিলেন খুদাদাদ। দীর্ঘদিন ধরে কাবুলে বড় সমস্যার নাম ছিল হেরোইন, কিন্তু এখন তারা ঝুঁকছে মেথের দিকে, যা অপেক্ষাকৃত সস্তা, তবে সমভাবে বিপজ্জনক মাদক।

খুদাদাদ বলেন, যখন আমি প্রথম শুরু করি, তখন মেথ এতটা সচরাচর ছিল না। কিন্তু কয়েক বছর ধরে বহু মানুষ এটি নেয়া শুরু করেছে।

মেথামফেটামিন বা মেথ একটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র উত্তেজক ওষুধ, যেটা অনেক সময় আনন্দদায়ক হিসেবে ব্যবহূত হয়। নেশার সামগ্রী হিসেবে মেথ শক্তি বৃদ্ধি করে এবং যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে। মেথ একটি স্নায়ুবিষ, এটি মস্তিষ্কের মধ্য অঞ্চলের স্নায়ুগুলো ধ্বংস করে দেয়, সেরোটনিন স্নায়ুও ধ্বংস করতে পারে। অনেক সময় ধরে মেথ ব্যবহারে মানসিক সমস্যা, বিষণ্নতা, অলীক কল্পনা আক্রমণাত্মক ব্যবহার সৃষ্টি করতে পারে।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে মেথামফেটামিনের অন্যতম শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশ হতে চলেছে আফগানিস্তান। আফগানিস্তানের আফিমগাছ বিশ্বের হেরোইন তৈরির সবচেয়ে বড় উৎস। ইউরোপিয়ান মনিটরিং সেন্টার ফর ড্রাগস অ্যান্ড ড্রাগ এডিকশনের (ইএমসিডিডিএ) প্রতিবেদন প্রকাশের পর এটাও জানা গেল, দেশে ক্রিস্টাল মেথও বড় এক শিল্প হতে চলেছে।

মাদক চোরাচালানকারীরা যখন আবিষ্কার করল যে জঙ্গলের মধ্যে পাওয়া এফেদ্রা নামের একটি গাছ মেথ তৈরির অন্যতম উপাদান হতে পারে, তখন মাদকের ব্যবসাও চাঙ্গা হয়ে উঠল। আফগানিস্তানের ওষুধ শিল্পের শীর্ষ বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদনের অন্যতম লেখক . ডেভিড ম্যানসফিল্ড বলেন, পাহাড়ের কোনো জংলি গাছ থেকে আপনি মেথামফেটামিন তৈরি করতে পারবেন, বিষয়টি জানার পর এখানে তাত্পর্যপূর্ণ পরিবর্তন এসে গেল।

. ম্যানসফিল্ড জানান, চোরাচালানকারীরা অতীতে আমদানীকৃত ব্যয়বহুল ওষুধ থেকেই এফেদ্রিন নামক নির্যাস ব্যবহার করত, কিন্তু এখন অপেক্ষাকৃত সস্তা বিকল্প উপাদান তারা ব্যবহার করতে পারছে এবং এটা অনেক সহজ রসায়নও।

বিশ্বের আরো অনেক জায়গায় এফেদ্রা গাছ থেকে ক্রিস্টাল মেথ তৈরি করা হয়, কিন্তু আফগানিস্তানের মতো এতটা ব্যাপকভাবে নয়। স্যাটেলাইট থেকে নেয়া ছবি দেখে আফগান মাদক তৈরিকারকদের সঙ্গে কথা বলে . ম্যানসফিল্ড তার গবেষক দল দেখতে পেয়েছেন, পশ্চিম আফগানিস্তানের বাকওয়া জেলাতেই অন্তত ৩০০টি ল্যাবে এফেদ্রিন তৈরি করা হয়। জেলাটি আফগানিস্তানে মেথ বাণিজ্যের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়ছে। যদিও . ম্যানসফিল্ড দেশের আরো কিছু জায়গায় মেথ তৈরির ল্যাব চিহ্নিত করতে পেরেছেন।

এফেদ্রিন তৈরি করা সহজ, এমনকি বাসাবাড়ির গরিব মানুষজনও এটি তৈরি করতে পারে এবং পরে তা কোনো মেথ ল্যাবে বিক্রি করে থাকে।

বিবিসি অবলম্বনে

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন