বুধবার | জানুয়ারি ২০, ২০২১ | ৭ মাঘ ১৪২৭

টকিজ

‘হাজার মানুষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গান করা চ্যালেঞ্জিংই বটে’

রক ইন থাউজ্যান্ড, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যান্ড পারফরম্যান্স অনুষ্ঠান, যেখানে বিভিন্ন দেশের শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন। গ্লোবাল ভিলেজের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বছর দুবাইতে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়া এবারের আসরে অংশ নেন ৮০টি দেশের আড়াই হাজার শিল্পী। ৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের নামটিও রয়েছে। এই প্রথমবার দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন কণ্ঠশিল্পী আলিফ আলাউদ্দিন এবং আর্টসেল ব্যান্ডের লিড গিটারিস্ট ফয়সাল আহমেদ দম্পতি। সম্প্রতি টকিজের মুখোমুখি হয়েছিলেন তারা। কথা বলেছেন রাইসা রিফাত

শুরুতেই আপনাদের অভিনন্দন। ধরনের একটি আসরে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের অংশীদার হওয়া সব মিলিয়ে নিশ্চয়ই ভালো লাগা কাজ করছে...

আলিফ: রক ইন থাইজেন্ডে অংশ নেয়াটাই আমার কাছে অনেক বড় অর্জন। আমরা ইউটিউবে এর অনুষ্ঠানগুলো দেখতাম। তখন থেকেই ইভেন্টটিতে অংশ নেয়ার ইচ্ছা। প্যান্ডামিকের সময় জানতে পারলাম তারা ভার্চুয়ালি একটা বড় কনসার্ট করতে যাচ্ছে। বিশ্বের সব দেশ থেকে তারা আমন্ত্রণ জানাচ্ছিল। তখন দেশের হয়ে আমরা দুজন অংশগ্রহণের কথা চিন্তা করি।

কাজী ফয়সাল: আমরা ২০১৫ সাল থেকে তাদের কার্যক্রম দেখে আসছি অনলাইনে। ২০১৭ সালে আলিফ আমার প্রোফাইল সাবমিট করেছিল। আমার কার্যক্রম দেখে তারা আমাকে অ্যাপ্রুভ করে এবং ইতালি যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানায়। দুর্ভাগ্যবশত তখন যাওয়া হয়নি। এবার যখন ভার্চুয়ালি সবার সঙ্গে তারা যোগাযোগ করছে, তখন আলিফ নিজের প্রোফাইল সাবমিট করে। আমাদের দুজনের প্রোফাইলই অ্যাপ্রুভ হয়। নির্দেশনাসহ চারটি গানের লিস্ট পাঠিয়েছিল তারা। সেগুলো অনুসরণ করে আমরা ভিডিও পাঠিয়ে দিই।


গানগুলো অনুশীলন করতে কতদিন লেগেছে?

আমরা দেড় মাস অনুশীলন করেছি। আমাদের দুজনের টিউটোরিয়াল অনুশীলন ছিল আলাদা। চারটি গানের মধ্যে অপশন ছিল পছন্দানুযায়ী গান করার। অনেকেই একটা-দুইটা গানে অংশ নিয়েছে। কিন্তু আমরা পুরোটাতেই ছিলাম।

কাজটা কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল?

প্রায় আড়াই হাজার মানুষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গান করা চ্যালেঞ্জিংই বটে। কারণেই চারটি গান অনুশীলন করতে দেড় মাস লেগেছে।

সার্টিফিকেট পেয়েছেন তো..

অনলাইন সার্টিফিকেট পেয়েছি। শিগগিরই হার্ড কপিটা পেয়ে যাব।

অর্জনে সবার কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

প্রথম দিকে অনেকেই বিষয়টি বুঝতে পারেনি। বোঝার জন্য একটু সময় লেগেছে। যখন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের খবরটা জানতে পেল, তখন সবাই খুব আনন্দিত হয়েছে। তাছাড়া প্রথমবার রক ইন থাউজেন্ডে বাংলাদেশের নামটি যুক্ত হয়েছে। এটা অবশ্যই গর্বের বিষয় এবং আমাদের জন্য ভালো লাগার। সব মিলিয়ে অনেক সাড়া পাচ্ছি।

এবার একটু অন্য প্রসঙ্গে যাব। সংগীতের প্রতি আপনাদের অনুরাগ কি ছোটবেলা থেকেই?

আলিফ: মায়ের পেট থেকে (হাসি) আমি তো সংগীত ঘরানার মানুষ। সংগীত ছাড়া আমার আর কোনো বিকল্প ছিল না। এমনভাবে সংগীতের আবহে বড় হয়েছি যে এটা কখন আমার ভেতরে প্রোথিত হয়েছে জানি না। মা-বাবার সঙ্গে মিউজিক নিয়ে আলাপ হতো। আমি ওয়েস্টার্ন মিউজিক পছন্দ করতাম। বাবা (প্রখ্যাত সুরকার, গীতিকার আলাউদ্দিন আলী) আমাকে খুবই সমর্থন করতেন এবং আমার ইংরেজি গান খুব পছন্দ ছিল তার।

ফয়সাল: আমার দুই মামা সারাক্ষণ বিভিন্ন জনরার গান শুনতেন। স্কুল ছুটি হলেই নানা বাড়িতে চলে যেতাম। এক মাস করে থাকতাম। মামারা সারাদিন গান করতেন। আমি শুনতাম। ছোট মামা তবলা বাজাতেন। বাজানোর সময় আমাকে হাতে তাল দিতে বলতেন। এভাবেই আসলে গানের বিষয়টা মাথার ভেতরে ঢুকে যায়।

আপনারা দুজনেই তরুণ প্রজন্মের। দেশের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে আপনাদের মূল্যায়ন কী?

আলিফ: এখন তো প্যান্ডামিকের কারণে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা শোচনীয়। তবে সত্যি বলতে আমাদের দেশে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে রয়্যালটির বিষয়টা নেই। এটা নিয়ে কাজ চলছে। করোনার মধ্যে অনেক ফ্রিল্যান্সার মিউজিশিয়ান ঢাকা ছেড়ে চলে গেছেন। শো হচ্ছে না। আমাদের আয়ের উৎস কিন্তু স্টেজ। যাদের বিকল্প আয়ের উৎস রয়েছে তারা হয়তো টিকে আছেন এখনো। কিন্তু এভাবে কতদিন? আমরা কিন্তু ঘুরে ফিরে দুস্থ শিল্পী হয়ে যাই সবাই।

ফয়সাল: এখানে শিক্ষা বা জ্ঞানের বিষয়টিও চলে আসে। একজন শিল্পীর গান বের হওয়ার পর যদি পারিশ্রমিক দিয়ে শোনা না হয় তাহলে কিন্তু তিনি রয়্যালটি পান না। শিল্পীকে তার পারিশ্রমিক দিয়ে গান শোনা উচিত। সঠিক রয়্যালটি সিস্টেম থাকলে শিল্পীদের প্যান্ডামিকে এত খারাপ অবস্থার মধ্যে পড়তে হতো না।

আপনাদের বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে একটু বলুন।

আলিফ: ব্যান্ড পেন্টাগনের পুরনো কিছু গান নতুন করে শ্রোতাদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি। বলা যায়, পেন্টাগন নিয়ে ব্যস্ত আছি।

ফয়সাল: আমাদের আর্টসেল ব্যান্ডের তৃতীয় অ্যালবামের কাজ করছি। অনেক দিন ধরেই অ্যালবামটি রিলিজের কথা। এছাড়া বাসায় ইনস্ট্রুমেন্টাল প্রজেক্ট নানা হোমওয়ার্ক করা হচ্ছে। আমি আরেকটি কাজ করছি, গিটার বিষয়ক আমার নানা অভিজ্ঞতা ভিডিও করে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করছি। এতে অনেকেই অনেক কিছু জানতে পারছেন। ভালো সাড়া পাচ্ছি সবার।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন