শনিবার | জানুয়ারি ১৬, ২০২১ | ৩ মাঘ ১৪২৭

ফিচার

১% খামারের দখলে বিশ্বের ৭০% আবাদযোগ্য জমি

বণিক বার্তা অনলাইন

এক শতাংশ খামারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বিশ্বের ৭০ শতাংশ ফসলের ক্ষেত, পশুপালন খামার ও বাণিজ্যিক ফলের বাগান। জলবায়ু ও প্রকৃতি সংকটে ভূমি বৈষম্যের প্রভাব বিষয়ক নতুন একটি গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। ১৯৮০’র দশক থেকে গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, প্রত্যক্ষভাবে মালিকানা ও অপ্রত্যক্ষভাবে চুক্তিভিত্তিক চাষাবাদের মাধ্যমে জমিগুলো কেন্দ্রীভূত হয়ে গেছে। ফলে এক জমিতে মৌসুমে একক ফসলের চাষ (মনোকালচার) ত্বরান্বিত হয়েছে এবং জমিগুলো টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। 

গবেষণাটিতে সম্পত্তির ক্রমবর্ধমান মূল্য ও ভূমিহীন জনগোষ্ঠীর বৃদ্ধিকে প্রথমবারের মতো বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ভূমির বৈষম্য পূর্বের গণনার চেয়ে ৪১ শতাংশ বেশি। 

গবেষণা প্রতিবেদনের লেখকরা বলেছেন, স্বল্পমেয়াদি ঋণভিত্তিক আর্থিক চুক্তির মাধ্যমে জমিগুলোর মালিকানা কেন্দ্রীভূত হয়েছে, যা বৈশ্বিক পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যে ক্রমবর্ধমান নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করছে। 

অক্সফাম ও ওয়ার্ল্ড ইনইকুয়ালিটি ল্যাবসহ একাধিক অংশীজনের সঙ্গে গবেষণাটিতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক ভূমি জোটের সিনিয়র প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ওয়ার্ড আনসিউ। তিনি বলেন, অতীতে এই চুক্তিগুলো কেবল বাজারের জন্য উদ্বেগের বিষয় ছিল। সেগুলো স্বতন্ত্রভাবে আমাদের প্রভাবিত করেনি। কিন্তু এখন সেগুলো আমাদের জীবনের প্রতিটি বিষয় স্পর্শ করেছে। কারণ সেগুলো পরিবেশগত সংকট ও মহামারীর সঙ্গে জড়িত। 

১৭টি নতুন গবেষণাপত্রের পাশাপাশি বিদ্যমান তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তৈরি করা গবেষণাটি আজ মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণাটি বলছে, জমির বৈষম্যের পূর্ববর্তী গণনাগুলো কেবল মালিকানা ও পৃথক খামারের আকারের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছিল। এই প্রক্রিয়ায় জমির বৈষম্য ১৯৮০’র দশক পর্যন্ত কম ছিল। পরবর্তীতে এটি আরো বিস্তৃত হয়। 

নতুন পদ্ধতিতে গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, এই প্রবণতাটিই আরো স্পষ্ট হয়েছে। নতুন গবেষণাটিতে একাধিক মালিকানা, জমির গুণমান, মূল্য ও ভূমিহীন মানুষের সংখ্যার মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেয়া হয়েছিল। দেখা গেছে, ভূমিহীন মানুষের সংখ্যা চীন ও ভিয়েতনামে সবচেয়ে কম এবং লাতিন আমেরিকাতে সর্বোচ্চ। লাতিন আমেরিকায় অর্ধেক মানুষ দরিদ্র এবং তাদের মোট জমির মাত্র ১ শতাংশের মালিকানা রয়েছে। টুকরো জমি সবচেয়ে বেশি এশিয়া ও আফ্রিকাতে। সেখানে কৃষিকাজে রাসায়নিক ও আধুনিক যন্ত্রপাতির চেয়ে মানুষের অংশগ্রহণ বেশি। এছাড়া সেখানে জমির মালিকানা ১০ বছরের বিনিয়োগ চক্রের পরিবর্তে প্রজন্মের সঙ্গে বেশি পরিবর্তীত হয়। 

বিশ্বজুড়ে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ খামার পরিবার ও ব্যক্তি মালিকানাধীন। তবে তারা জমি ও বাণিজ্যিক উত্পাদনের জন্য মোট জমির ছোট একটি অংশ ব্যবহার করে। 

ওয়ার্ড বলেন, আর্থিক চুক্তির মাধ্যমে জমি কেন্দ্রীভূত হওয়ার বিষয়টি এখন উন্নয়নশীল বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে। এটি মাটির গুণগত মান হ্রাস, অত্যধিক পানির ব্যবহার ও বনাঞ্চল উজাড়ের গতিকে ত্বরান্বিত করছে। এটি দারিদ্র্য, অভিবাসন, সংঘাত ও কভিড-১৯-এর মতো পশুপাখি থেকে ছড়িয়ে পড়া রোগের বিস্তারসহ সামাজিক সমস্যার সঙ্গেও যুক্ত। 

এটি মোকাবেলায় গবেষণাটিতে কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে অস্বচ্ছ জমি মালিকানা ব্যবস্থার বৃহত্তর নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি, ক্ষুদ্র মালিক ও উন্নত পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করতে কর ব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং সম্প্রদায়ে ভূমি অধিকারের বিষয়টিতে সহায়তা করা অন্যতম।

গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ক্ষুদ্র কৃষক, কৃষক পরিবার, আদিবাসী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সতর্ক হতে হবে। এটি কেবল বিনিয়োগ তুলে নিয়ে আসার বিষয় নয়; এটি সংস্কৃতি, পরিচয় ও পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কিছু রেখে দেয়া। আর তারা দীর্ঘমেয়াদে জমির অনেক বেশি যত্ন নেয়, জমির প্রতিটি ক্ষুদ্র অংশেও চাষাবাদ করে এবং পরিবেশের কম ক্ষতি করে।

দ্য গার্ডিয়ান অবলম্বনে

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন