বুধবার | জানুয়ারি ২০, ২০২১ | ৭ মাঘ ১৪২৭

খবর

প্রাণী খাতে সংকট তৈরি করছে রিজার্ভড অ্যান্টিবায়োটিক

নিজস্ব প্রতিবেদক

মানুষ পশুপাখিতে অ্যান্টিবায়োটিকের অযাচিত ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বক্তারা। রিজার্ভড অ্যান্টিবায়োটিকগুলো সহজেই ব্যবহার করা হচ্ছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে নতুন কোনো কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক উদ্ভাবন করা না গেলে সংকট ঘনীভূত হবে। তাই জীবন রক্ষাকারী রিজার্ভড অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। এদিকে কভিড মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের নগদ সহায়তা দেয়া শুরু হচ্ছে।

বিশ্ব অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল সচেতনতা সপ্তাহ-২০২০ উদযাপন উপলক্ষে গতকাল অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। গতকালের সভাটি যৌথভাবে আয়োজন করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর (ডিএলএস), জাতিসংঘের খাদ্য কৃষি সংস্থা (এফএও), বাংলাদেশ এএমআর রেসপন্স অ্যালায়েন্স (বিএআরএ) এবং বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) সঞ্চালনা করেন ডিএলএসের সহকারী পরিচালক (খামার) . এবিএম খালেদুজ্জামান এবং এফএও কর্মকর্তা রাহাত আরা করিম।

বিপিআইসিসির সভাপতি মসিউর রহমান বলেন, আমদানি কিংবা উৎপাদনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কঠিন। অ্যান্টিবায়োটিকমুক্ত ডিম মাংস উৎপাদনে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এজন্য খামারে জীবনিরাপত্তা, খামার ব্যবস্থাপনা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে হবে। পাশাপাশি সব অনিবন্ধিত পিএস ফার্ম, হ্যাচারি, ফিড মিলগুলোকে অবশ্যই সরকারি নীতিমালার আওতায় আনতে হবে। নতুবা বন্ধ করতে হবে।

ডিরেক্টরেট জেনারেল অব হেলথ সার্ভিসেসের প্রোগ্রাম ম্যানেজার অনিন্দ রহমান এবং ডিএলএসের সহকারী পরিচালক (প্রশিক্ষণ) . পল্লব কুমার দত্ত বলেন, ইতোমধ্যে অনেকগুলো অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর হয়ে গেছে। রিজার্ভড অ্যান্টিবায়োটিকগুলো সহজেই ব্যবহার করা হচ্ছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে নতুন কোনো কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক উদ্ভাবন করা না গেলে সংকট ঘনীভূত হবে। তাই জীবন রক্ষাকারী রিজার্ভড অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।

ওয়ার্ল্ডস পোলট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ শাখার সভাপতি আবু লুেফ ফজলে রহিম খান (শাহরিয়ার) বলেন, দেশে অনেক অনিবন্ধিত ফিড মিল আছে। এছাড়া টোল ম্যানুফ্যাকচারিং হচ্ছে। যেখানে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার হচ্ছে কিনা কিংবা কী হারে হচ্ছে সে ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত নই। এগুলো অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। সবার আগে বাস্তব পরিস্থিতি জানতে হবে। কীভাবে, কোথায় অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার হচ্ছে জেনে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ অফিসের এসেনসিয়াল ড্রাগস অ্যান্ড আদার মেডিসিন বিভাগের টেকনিক্যাল অফিসার মোহাম্মদ রামজি ইসমাইল বলেন, অপরিণামদর্শী পদক্ষেপের কারণে অন্যের বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। ডিএলএসের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. শেখ আজিজুর রহমান বলেন, মাসেই এলডিডিপি প্রকল্পের আওতায় কভিড মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের নগদ সহায়তা দেয়া শুরু হচ্ছে। সরকারের উদ্যোগ তৃণমূল খামারিদের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন