মঙ্গলবার | জানুয়ারি ২৬, ২০২১ | ১৩ মাঘ ১৪২৭

শেষ পাতা

মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে আলোচনা

মাস্ক পরা নিশ্চিতে আরো কঠোর হচ্ছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

শীতে কভিড-১৯ সংক্রমণের তীব্রতা আরো বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা থেকে দেশে মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিভিন্ন স্থানে মাস্ক না পরায় জরিমানাও করা হচ্ছে। তবে এর পরও মাস্ক পরিধান নিশ্চিত না হলে আরো কঠোর শাস্তির নির্দেশনা দেয়া হয়েছে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে। গতকাল মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে সচিবালয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনার সভাপতিত্বে গতকাল মন্ত্রিসভার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গণভবন প্রান্ত থেকে প্রধানমন্ত্রী ও সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রীরা ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে এতে যোগ দেন।

মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় কোন বিষয় উঠে এসেছে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মাস্কের বিষয়টি আবারো আলোচনায় এসেছে। বিভাগীয় কমিশনাররা জানিয়েছেন, সাতদিন ধরে তারা ব্যাপক আকারে জরিমানা করছেন। রোববারও কয়েক হাজার লোককে জরিমানা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি আরো এক সপ্তাহ দেখতে। জরিমানায়ও যদি মানুষ সচেতন না হয়, তাদের আরো মোটিভেশন করুন, তারপর আরেকটু কঠোর শাস্তি প্রদান করতে হবে। ঢাকায় গতকাল ৩৭টি স্থানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। 

সাজা প্রসঙ্গে খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে দেখা যাক। হয়তো ফাইনও বাড়িয়ে দেয়া হতে পারে। এখন হাজার টাকা, ৫০০ টাকা ফাইন করছে। সেটা বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করে দিতে পারে। আমরা আরেকটু কঠোর শাস্তি প্রদানের বিষয়ে বলছি। যারা মোবাইল কোর্ট করবে তারা মাস্কও সঙ্গে নিয়ে যাবে। যাতে মানুষকে ফাইন করার সঙ্গে সঙ্গে ওটাও দিয়ে দেয়া যায়।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, হাসপাতালে রোগী বেড়েছে দেখে মনে হচ্ছে কভিড-১৯ সংক্রমণ আরেকটু বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী আজকে বলেছেন, আরো বেশি বেশি করে প্রচার করো, ফোর্স করো যাতে মানুষ মাস্ক ব্যবহার করে। মাস্ক ব্যবহার না করলে যতই ভ্যাকসিন বলেন আর ওষুধ বলেন, প্রটেকশন কোনো কাজে আসবে না।

গতকালের বৈঠকে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বৈদেশিক সহায়তায় অনুদানের পরিমাণ ছিল ৮৪ থেকে ৮৬ শতাংশ, বাকিটা ছিল ঋণ। এখন সেই অনুদানের পরিমাণ নেমেছে ৩ শতাংশে।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ঝুঁকি নেই। বৈদেশিক ঋণ যখন জিডিপির ৪০ শতাংশ বা এর বেশি হয়ে যায় তখন ঝুঁকি থাকে। আমাদের জিডিপির তুলনায় বৈদেশিক ঋণ হলো ১৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ। বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করছি জিডিপির ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০ শতাংশ পর্যন্ত সেফটি রেঞ্জ। আমরা অনেক নিচে আছি।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আজকের বৈঠকে সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট নামের একটি আইন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী একটি নির্দেশনা দিয়েছিলেন চলচ্চিত্র শিল্পীদের একটি কল্যাণ ট্রাস্ট আইন করা যায় কিনা। এরপর তথ্য মন্ত্রণালয় আইন প্রণয়ন করে এবং এর আগে মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদনের পর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।’

কভিডের সময় কী কী দেয়া হলো এবং এরপর আবার অসুবিধা হলে কী করবে, সে বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় মন্ত্রিসভাকে অবহিত করে। এ প্রসঙ্গে খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘ত্রাণ মন্ত্রণালয় নভেল করোনাভাইরাস মোকাবেলার সময় বেশকিছু নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। ২ লাখ ৩৫ হাজার ৪২৭ টন চাল বিতরণ করেছে। ১০০ কোটি ৯৬ লাখ ৭২ হাজার ২৬৪ টাকার ত্রাণ দেয়া হয়েছে। শিশুখাদ্য কিনতে ২৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা ও গো-খাদ্য কিনতে দেয়া হয়েছে ৩ কোটি ৮০ লাখ ৬০ হাজার টাকা।’

এছাড়া করোনা মহামারীর অভিঘাত মোকাবেলায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের গৃহীত পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয় বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন