মঙ্গলবার | জানুয়ারি ২৬, ২০২১ | ১৩ মাঘ ১৪২৭

দেশের খবর

আব্দুলপুরে উৎপাদিত সবজি চারা যাচ্ছে ৩৫ জেলায়

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, যশোর

যশোর জেলার সদর উপজেলার আব্দুলপুর গ্রামে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে উৎপাদিত হচ্ছে বিভিন্ন সবজির চারা। এখানে উৎপাদিত সবজির চারা দেশের ৩৫ জেলার কৃষকরা ক্রয় করছেন। আর বছর সবজির উচ্চমূল্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চারার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় মৌসুমে দেড় গুণ বেশি দামে চারা বিক্রি করছেন এখানকার কৃষকরা।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আব্দুলপুরের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে বিভিন্ন সবজির নানা জাতের চারা উৎপাদিত হচ্ছে। এর মধ্যে বাঁধাকপির জাতের মধ্যে কেকে ক্রস, আরশি, গ্রিন ৬০, এটম কুইন, ফুলকপির জাত টপিক্যাল ১১, স্নো বক্স, স্নো হোয়াইট, নিনজা, লাউয়ের জাত মার্শাল, টিয়া সুপার, মার্টিনা, টমেটোর জাত হাইটম, বারি- , মিন্টু সুপার, সবচেয়ে দামি সবজি ব্রোকলির জাত ম্যারোডোনা, টপিক্যাল কুইক, নিনজা, ওল কপির জাত ০০৫, চ্যালেঞ্জার এবং বেগুনের জাত চ্যাগা, ভাঙ্গরসহ অন্যান্য সবজির চারা উৎপাদিত হচ্ছে।

অঞ্চলের কৃষক কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বছর অতিবৃষ্টি ঝড়ে মাঠের সবজি  ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। এজন্য পুনরুৎপাদনের জন্য নতুন চারা ক্রয় করেছেন কৃষকরা। ফলে বেশি পরিমাণে চারা বিক্রি হয়েছে। একই সঙ্গে বছর সবজির বাজারমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা প্রচুর সবজি উৎপাদন করছেন। ফলে চারার চাহিদা বেশি হওয়ায় এবার দাম বেশি পাচ্ছেন কৃষকরা। গত মৌসুমে প্রতি হাজারে যেসব চারাগাছ ৯০০ থেকে হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। সেখানে এবার প্রতি হাজারের দাম এবার হাজার ৫০০ টাকা থেকে হাজারে বিক্রি হচ্ছে।

যশোর সদর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, এক মৌসুমে একটি বীজতলায় (শেডে) পাঁচবার চারা উৎপাদন করা যায়। এক বিঘা জমিতে বিভিন্ন চারাভেদে পুরো মৌসুমে পাঁচবারে ১৫-২০ লাখ চারা উৎপাদিত হয়। এক বিঘা জমিতে খরচ হয় -১০ লাখ টাকা। যেসব চাষী   সঠিক প্রক্রিয়া মেনে চলেন, তারা লাভবান হয়ে থাকেন।

সবজি চারা উৎপাদনকারী রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি ২০ বছর ধরে বর্গাচাষ করছি। সবজির চারা উৎপাদনে আমার পাঁচজনের সংসার বেশ ভালোই যাচ্ছে। আমাদের কৃষি দপ্তর থেকে সহযোগিতাও সঠিকভাবে পাচ্ছি। ফলে সঠিকভাবে পরিচর্যা করার কারণে অধিকাংশ সময়ে আমাদের লাভ হচ্ছে।

যশোরের ঝিকরগাছা থেকে চারাগাছ কিনতে আসা শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি সাড়ে তিন বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষ করবেন। এজন্য আব্দুলপুরের চারার মান ভালো হওয়ায় এখান থেকে চারা কিনতে এসেছেন তিনি।

ঝিনাইদহ থেকে চারা কিনতে আসা ইউসুফ আলী বলেন, বছর পটোল বিক্রি করে বেশ লাভ হয়েছে। এবার ফুলকপি লাগাবেন তিনি। এজন্য তিন হাজার চারা কিনবেন। এখানে নিয়মিত কেনার কারণে দাম কম পাওয়া যায়। আর মানও বেশ ভালো।

যশোর আঞ্চলিক কৃষি অফিসের উপপরিচালক বাদল চন্দ্র জানান, যশোরে সারা বছর সবজি আবাদ করেন চাষীরা। বছরে হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন সবজি আবাদ হয়ে থাকে। এখন সবজির দাম ভালো পাচ্ছেন চাষীরা। কারণে সবজির চারার চাহিদা বাড়ছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন