মঙ্গলবার | জানুয়ারি ১৯, ২০২১ | ৬ মাঘ ১৪২৭

আন্তর্জাতিক খবর

২০০৫ থেকে আফগানিস্তান

নিহত কিংবা বিকলাঙ্গ হয়েছে ২৬ হাজার শিশু

বণিক বার্তা ডেস্ক

দাতব্য সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেনের সমীক্ষা বলছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে গত ১৪ বছরে প্রতিদিন অন্তত পাঁচটি শিশুকে হত্যা করা হয়েছে কিংবা আহত হয়েছে।

সেভ দ্য চিলড্রেন বলছে, জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২০০৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানে সংঘর্ষে ২৬ হাজার ২৫টি শিশু মারা গেছে কিংবা বিকলাঙ্গ হয়েছে। 

গতকাল জেনেভায় দাতা দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সামনে রেখে দাতব্য সংস্থাটি বিশ্বের দাতা দেশ ও গোষ্ঠীকে আহ্বান জানিয়েছে, যেন শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা দেয়া হয়। 

সেভ দ্য চিলড্রেনের মতে, শিশুদের জন্য বিপজ্জনক এমন ১১টি দেশের অন্যতম আফগানিস্তান। 

২০১৯ সালে বিশ্ববাপী যুদ্ধ ও দাঙ্গায় নিহত ও বিকলাঙ্গ মানুষের তালিকা থেকে চ্যারিটি সংস্থাটি দেখতে পায়, শুধু আফগানিস্তানেই ৮৭৪টি শিশু মারা গেছে এবং বিকলাঙ্গ হয়েছে আরো ২ হাজার ২৭৫টি। গত বছর নিহত কিংবা বিকলাঙ্গ শিশুদের মধ্যে দুই তৃতীয়াংশই ছেলে। সেভ দ্য চিলড্রেন বলছে, সরকার সমর্থক ও সরকারবিরোধী বাহিনীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ এবং আত্মঘাতীসহ নানা বিস্ফোরক হামলায় এসব শিশু মারা যায় কিংবা বিকলাঙ্গ হয়েছে।  

প্রতিবেদনে বলা হয়, আমেরিকান সমর্থিত আফগান সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তালিবান ও অন্য বিদ্রোহী দলগুলোর চলমান যুদ্ধে আফগান স্কুলগুলোকে প্রায়ই আক্রমণের ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করা হতো। সেভ দ্য চিলড্রেন বলছে, ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে স্কুলে অন্তত ৩০০টি আক্রমণ চালানো হয়েছে। আফগানিস্তানে সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ক্রিস নেইমান্দি বলেন, কল্পনা করুন তো আজ আত্মঘাতী আক্রমণ কিংবা বিমান হামলায় আপনার সন্তান হারাতে পারেন, এমন নিত্য আতঙ্ক আপনার মনে ভর করে। এটা হাজারো আফগান বাবা-মায়ের ভয়ংকর বাস্তবতা, যাদের সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে কিংবা গুরুতর আহত হয়েছে।

আফগানিস্তানের মানুষ কয়েক দশক ধরে যুদ্ধের সহিংসতা দেখে এসেছে, যাতে প্রাণ হারিয়েছেন দেশটির লাখো মানুষ। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে হামলার পর তালেবানদের উত্খাত করতে ওই বছরই আফগানিস্তানে হামলা করে আমেরিকান সামরিক বাহিনী। তালেবানদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে, কিন্তু পরবর্তী সময়ে তারা পুনরায় সংগঠিত হয়েছে এবং এখন দেশটির বৃহৎ অঞ্চলের ওপর কর্তৃত্ব করছে। 

গত ফেব্রুয়ারিতে বিদ্রোহী দলগুলোর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহার শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও তালেবানদের কর্তৃত্ব বাড়তে থাকায় এবং আফগান সরকারের সঙ্গে তাদের শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় আবারো সহিংসতা বাড়ছে। 

গত সপ্তাহের শেষদিকে কাবুলে ভয়াবহ রকেট হামলায় অন্তত আটজন মারা যায়, আহত হয় ৩০ জনেরও বেশি। 

বহু পর্যবেক্ষক বলছেন, বিদেশী সৈন্যদের সঙ্গে মিলে বিদ্রোহীদের পরাস্ত করার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী নয় আফগান সেনাবাহিনী। দেশটির ভবিষ্যৎ আরো অনিশ্চিত। কেননা জানুয়ারিতে আরো ২ হাজার সৈন্য প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র, তখন আফগানিস্তানে তাদের বাকি সৈন্য থাকবে মাত্র ২ হাজার ৫০০। এতে দেশটিতে বিদ্রোহীদের দাপট আরো বাড়বে। 

বিবিবি অবলম্বনে

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন