শনিবার | জানুয়ারি ১৬, ২০২১ | ৩ মাঘ ১৪২৭

টেলিকম ও প্রযুক্তি

ভারতে ১৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে পেগাট্রন

বণিক বার্তা ডেস্ক

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ চুক্তিভিত্তিক পণ্য নির্মাতা এবং প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপলের অন্যতম সরবরাহকারী পেগাট্রন করপোরেশন ভারতে বড় অংকের বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে দেশটিতে ১৫ কোটি ডলার (১১০০ কোটি রুপি) বিনিয়োগে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন পেয়েছে তাইওয়ানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি। বিনিয়োগের অর্থ ভারতে উৎপাদন কারখানা নির্মাণে ব্যয় করবে পেগাট্রন। খবর ইটি টেলিকম।

বিষয়ে পেগাট্রনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) লিয়াও সিহ-জং বলেন, তারা আশা করছে আগামী বছরের দ্বিতীয়ার্ধ কিংবা ২০২২ সালের শুরুর দিকে পেগাট্রনের ভারতীয় কারখানায় উৎপাদন শুরু হবে। এছাড়াও তাদের আগামী দুই বছরে ভারতে আরো বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

তাইপে থেকে পরিচালিত গুরুত্বপূর্ণ আইফোন সংযোজনকারী পেগাট্রন গত জুলাইয়ে ভারতে কারখানা নির্মাণের নিবন্ধন পায়। কিন্তু নভেল করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট কভিড-১৯ মহামারীর কারণে বিষয়টি এতদিন স্থগিত ছিল। করোনাভাইরাসের উত্পত্তিস্থল চীন হলেও শুরুর দিকে তাইওয়ানেও বিপুলসংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন। গত জুলাইয়ের দিকে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। যে কারণে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা এবং ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে তাইওয়ান থেকে পেগাট্রনের কর্মকর্তাদের ভারত সফর করা অনেকটা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দেশীয় উৎপাদনে উৎসাহ দিতে প্রডাকশন লিংক ইনসেনটিভ (পিএলআই) উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে। পিএলআই সুবিধা নিয়ে ভারতে উৎপাদন কার্যক্রম জোরদারের ঘোষণা দিয়েছে পেগাট্রনসহ আরো দুই অ্যাপল সরবরাহকারী ফক্সকন উইস্ট্রন। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পিএলআই সুবিধা কার্যকর হয়েছে গত আগস্টের শুরু থেকে। এরপর থেকে বহুজাতিক কয়েক ডজন কোম্পানি দেশটিতে উৎপাদন কার্যক্রম জোরদারে কাজ করছে। একই সুবিধার আওতায় মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপল আগামী পাঁচ বছরে ভারতে হাজার কোটি ডলার মূল্যমানের আইফোন উৎপাদনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। এসব ডিভাইস স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির, যা ভারতের অর্থনীতিকে দৃঢ় করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

অ্যাপলের গুরুত্বপূর্ণ তিন চুক্তিভিত্তিক পণ্য সরবরাহকারী ফক্সকন উইস্ট্রনের ভারতে উৎপাদন কার্যক্রম আগে থেকে চালু থাকলেও একমাত্র পেগাট্রনের কোনো কার্যক্রম ছিল না। এবার পেগাট্রনও মোদি সরকারের পিএলআই সুবিধার আওতায় দেশটিতে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে।

সম্প্রতি দ্বিতীয় বৃহৎ আইফোন উৎপাদনকারী পেগাট্রনের সঙ্গে ব্যবসা কার্যক্রম স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে অ্যাপল। পেগাট্রন শিক্ষার্থীদের দ্বারা রাতের শিফটে কাজ করানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থী শ্রম আইন ভঙ্গ করায় ব্যবসা স্থগিত করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। শুধু শিক্ষার্থী শ্রম আইন লঙ্ঘনই নয়; আইফোন উৎপাদন কারখানায় শিক্ষার্থীদের রাতের শিফটে ওভারটাইম কাজ করিয়ে অ্যাপল পণ্য সরবরাহকারীদের জন্য প্র?যোজ্য নীতিমালাও অমান্য করার অভিযোগ করা হয়েছিল। যে কারণে ব্যবসা স্থগিত করার পাশাপাশি পেগাট্রনকে পর্যবেক্ষণে রেখেছে অ্যাপল।

গত সপ্তাহে অ্যাপল জানায়, শিক্ষার্থী কর্মীদের ভুলভাবে শ্রেণীভুক্ত করেছে পেগাট্রন এবং নীতিমালা অমান্য করার বিষয়টি আড়াল করতে মিথ্যা নথি তৈরি করেছে। কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মূল পাঠ্যবিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, এমন কাজও তাদের দিয়ে করানো হয়েছে। যে কারণে পেগাট্রনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ নীতিমালায় কার্যকর পরিবর্তন না আনা পর্যন্ত অ্যাপলের কাছ থেকে নতুন কোনো ব্যবসায় চুক্তিতে যেতে পারবে না পেগাট্রন। বাস্তবে অ্যাপলের সঙ্গে নতুন চুক্তিতে যেতে ব্যর্থ হলে ভারতে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করে খুব একটা ব্যবসায় ফায়দা নিতে পারবে না পেগাট্রন।

অ্যাপল পণ্য সরবরাহকারীদের সিংহভাগই তাইওয়ানভিত্তিক। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো চীনে স্থাপিত কারখানায় আইফোনসহ অন্যান্য অ্যাপল পণ্য সংযোজন উৎপাদনের কাজ করে আসছে। অ্যাপলের বৃহৎ চুক্তিভিত্তিক পণ্য সরবরাহকারী ফক্সকন। এর পরের অবস্থানেই রয়েছে পেগাট্রন করপোরেশন।

ওই সময় অ্যাপলের বিবৃতিতে বলা হয়, তারা কয়েক সপ্তাহ আগে জানতে পারে চীনে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পেগাট্রন শিক্ষার্থীদের কাজে অংশ নেয়ার প্রকল্পে অ্যাপলের কোড অব কনডাক্ট অমান্য করেছে। শিক্ষার্থীদের রাতের শিফটে কাজ করানো এবং ওভারটাইম করানোর মতো তথ্য-প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে। তবে পেগাট্রনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক কোনো কাজ করানো কিংবা অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের দ্বারা কাজ করানোর প্রমাণ মেলেনি।

শিক্ষার্থী শ্রম আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অ্যাপল ব্যবস্থা নেয়ার তথ্য প্রকাশের পর পেগাট্রন শিক্ষার্থী ওয়ার্কার প্রকল্পের প্রধানকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। এছাড়া পেগাট্রনে কর্মরত শিক্ষার্থীদের যথাযথ আর্থিক ক্ষতিপূরণসহ বাসায় পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে। বলা হচ্ছে, অ্যাপলের পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম ফাঁকি দিতে পেগাট্রন শিক্ষার্থী ওয়ার্কার প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে সরিয়ে দিয়েছে।

অ্যাপলের অভিযোগ এবং গৃহীত পদক্ষেপ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি পেগাট্রন। তবে প্রতিষ্ঠানটি কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। এছাড়া অ্যাপলের কোড অব কনডাক্ট লঙ্ঘন করে এমন প্রকল্পগুলো থেকে নিজেদের সরিয়ে নিতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। অ্যাপল পণ্য উৎপাদন লাইন থেকে পেগাট্রনকে সরিয়ে দেয়ার উদ্যোগ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কারখানার কর্মপরিবেশ নিয়ে এর আগেও অভিযোগ উঠেছে অ্যাপল এবং এর পণ্য সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে, যা অ্যাপলের পক্ষ থেকে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। কারখানার কর্মপরিবেশ ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে অ্যাপল।

গত বছর সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত চীনের মানবাধিকার সংস্থা চায়না লেবার ওয়াচ (সিএলডব্লিউ) এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপল এবং অ্যাপল পণ্য সরবরাহকারী ফক্সকন চীনের শ্রম আইন লঙ্ঘন করেছে। অনুমোদিত হারের চেয়ে অনেক বেশি অস্থায়ী কর্মী দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে চড়া দামের আইফোন। চীনের শ্রম আইন লঙ্ঘন করে শ্রমিক নিয়োগ এবং বৈষম্যের অভিযোগ স্বীকারও করেছে অ্যাপল ফক্সকন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন