মঙ্গলবার | জানুয়ারি ২৬, ২০২১ | ১৩ মাঘ ১৪২৭

টেলিকম ও প্রযুক্তি

উইচ্যাট-টিকটক নিষিদ্ধে ট্রাম্পের চেষ্টা সফল হবে?

বণিক বার্তা ডেস্ক

জাতীয় সুরক্ষার জন্য ঝুঁকি দাবি করে দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোণঠাসা করে রেখেছিলেন। একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রে তিনি চীনা সামাজিক যোগাযোগ প্লাটফর্ম উইচ্যাট টিকটক বন্ধে পৃথক দুটি নির্বাহী আদেশে সই করেন। ওই নির্বাহী আদেশবলে গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ অ্যাপলের অ্যাপ স্টোর এবং গুগলের প্লে স্টোর থেকে টিকটক ডাউনলোড সুবিধা বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছিল। এর পরই প্লাটফর্মগুলো মার্কিন আদালতের শরণাপন্ন হয়। ২৭ সেপ্টেম্বর আদালত টিকটক ডাউনলোড নিষেধাজ্ঞা সাময়িক স্থগিত করেন।

নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন না হলেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের উইচ্যাট টিকটক অ্যাপ নিষিদ্ধ করার যে চেষ্টা, তা শেষ পর্যন্ত সফল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন জাতীয় সুরক্ষা উপদেষ্টা রবার্ট ব্রায়ান। যদিও উইচ্যাট টিকটকের ব্যবহারকারীরা যুক্তি দেখিয়ে আসছেন, নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রকৃত সুরক্ষার উদ্বেগের পরিবর্তে নির্বাচনী বছরের রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত।

ব্রায়ান বলেন, আমরা এখন পর্যবেক্ষণ করছি। আদালতে মামলাগুলো চলমান রয়েছে। সুতরাং ফেডারেল সরকার অপেক্ষা করবে এবং আদালতের নির্দেশ মতে, নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে কী করতে পারি কিংবা পারি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে একটি অনুষ্ঠানে ব্রায়ান বলেন, আমি মনে করি অ্যাপগুলোর বিষয়ে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তই কার্যকর করা হবে। আর মার্কিন প্রশাসনের কোনো পরিবর্তন হলেও, সেই নিষেধাজ্ঞাগুলো শেষ পর্যন্ত কার্যকর হবে।

এদিকে আগামী ২০ জানুয়ারি নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন দায়িত্ব নেয়ার পর টিকটক অ্যাপ্লিকেশনটির সুরক্ষা ঝুঁকি পর্যালোচনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় হওয়া অন্যান্য চীনা সংস্থার অ্যাপগুলোর দিকেও নজর দেয়া হচ্ছে জানিয়ে ব্রায়ান বলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের থেকে প্রচুর ডাটা নিচ্ছে। আমরা সেই অ্যাপ্লিকেশনগুলোর দিকেও নজর রেখেছি। সেগুলোর বিষয়েও কিছু পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। প্রেসিডেন্ট এখন কী সিদ্ধান্ত নেবেন, তা আমাদের দেখতে হবে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্রে আগে থেকেই যারা টিকটক ব্যবহার করছেন, তাদের ক্ষেত্রে অ্যাপটি ব্যবহারে কোনো বাধা ছিল না। মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের নিষেধাজ্ঞায় নতুন করে ডাউনলোড কেউ একবার আন-ইনস্টল করলে পুনরায় ডাউনলোড বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছিল। মার্কিন আদালতের আদেশ অনুযায়ী এখন আপাতত কোনো বাধা নেই।

এর আগে মার্কিন নাগরিকদের তথ্য চুরির অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রে টিকটক নিষিদ্ধ বা মার্কিন কোনো কোম্পানির কাছে বাধ্যতামূলক বিক্রি করতে কঠোর অবস্থান নেয় ট্রাম্প প্রশাসন। এরপর টিকটকের মার্কিন কার্যক্রম বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু হয়। মার্কিন প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট, ওরাকল এটি কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করে। শেষ পর্যন্ত ওরাকল টিকটকের কার্যক্রম কিনতে চুক্তিবদ্ধ হয়। মালিকানা পরিবর্তন বা বিক্রি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে ট্রাম্পের বেঁধে দেয়া সময়সীমার প্রথম দফার মেয়াদ শেষ হয় ২০ সেপ্টেম্বর। ওই সময় চুক্তি চূড়ান্ত না হলেও অগ্রগতি বিবেচনায় এক সপ্তাহ সময় বাড়ানো হয়। দ্বিতীয় ধাপে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ওরাকলের সঙ্গে টিকটকের চুক্তির বিষয়টি সামনে আসে।

বক্তব্যের মধ্যে মার্কিন জাতীয় সুরক্ষা উপদেষ্টা বারবার চীনকে খোঁচা দেন। তিনি বলেন, চীনকে আন্তর্জাতিক নিয়মে খেলা শিখতে হবে। দক্ষিণ চীন সাগরের মালিকানার মতো আচরণ করা উচিত নয়। তারা এটাকে নিজের হ্রদের মতো মনে করে।

সম্পদ সমৃদ্ধ দক্ষিণ চীন সাগরের বিস্তৃত অঞ্চল চীনের মালিকানা দাবির বিষয়টি ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন মালয়েশিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় প্রতিবেশীদের সঙ্গে বৈষম্যের সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশক ধরে বিতর্কিত অঞ্চলের কাছে যুদ্ধজাহাজ বিমান পাঠিয়েছে। আন্তর্জাতিক আকাশসীমা পানির বিষয়টি বিবেচনা করে সেখানে চলাচলের স্বাধীনতায় জোর দেয়ার কথা বলে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন