বুধবার | নভেম্বর ২৫, ২০২০ | ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

সম্পাদকীয়

পরীক্ষা নির্ভর শিক্ষা পদ্ধতি ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা

মোতাহার হোসেন চৌধুরী

দেশের একাডেমিক শিক্ষা ব্যবস্থা ক্লাসকেন্দ্রিক পাঠদান থেকে দুরে সরে গেছে ক্রমান্বয়ে। প্রায় এক যুগ পূর্ব থেকে ৫ম শ্রেণী শেষে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ও ৮ম শ্রেণী শেষে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা চালু করে শিশুদের জন্যও পাবলিক পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষাক্রমকে রাষ্ট্রীয় শিক্ষানীতিমালায় আবশ্যকীয় করা হয়েছে। এ ব্যবস্থাই এখনও চালু রয়েছে। যদিও এবছর করোনার কারণে পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হয়নি।

৫ম শ্রেণী ও ৮ম শ্রেণী শেষে পাবলিক পরীক্ষা পদ্ধতির ব্যবস্থা এদেশে পূর্বে ছিল না। শিক্ষার্থী- অভিভাবক- শিক্ষাবিদ কারো পক্ষ থেকে এমন দাবি বা পরামর্শ এসেছিল বলেও শোনা যায়নি। তবু স্কুল শিক্ষা বোর্ড ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের আওতায় এ পরীক্ষা দুটো চালু করে বহাল রাখা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এগুলো শিক্ষাক্রম থেকে বাদ দেয়ার কোনো নির্দেশনা ও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তাছাড়া, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাতো আগের মতো অপরিহার্য হিসাবে থাকছেই।

৫ম ও ৮ম শ্রেণীর সমাপনীতে পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা, সুফল ও শিক্ষার্থীদের উপর এগুলোর প্রভাব ও ভবিষ্যত নিয়ে দেশের বিশিষ্টজন ও শিক্ষাবিদদের মতামত পরীক্ষাদু’টো চালু রাখার পক্ষে নয়।

দেশের এরুপ পরীক্ষা নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ‘গণস্বাক্ষরতা অভিযান’ এর নির্বাহী পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী বলেছেন,—“পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষা কিংবা জিপিএ-৫ সংস্কৃতি মূল্যবোধকে দৃঢ় করে না।..আমাদের শিক্ষাটা এখন জ্ঞানকেন্দ্রিক না হয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রিক হয়ে গেছে।”

তিনি আরো বলেছেন- “শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষায় যাওয়ার আগেই ৪টি পাবলিক পরীক্ষা দিতে হচ্ছে;৫ম, ৮ম, এসএসসি, এইচএসসি। পৃথিবীর কোনো দেশে এত পাবলিক পরীক্ষা নেই, বরং শ্রেণীকক্ষভিত্তিক ধারাবাহিক মূল্যায়নের উপর জোর দেয়া হয়”।

আসলেই পৃথিবীর কোনো দেশে এরূপ শিক্ষা ব্যবস্থাই নেই। ব্রিটিশ কারিকুলামের অনুকরণে কিছু দেশে দশম শ্রেণী শেষে এসএসসি/ ‘ও’লেভেল বা সমমানের পরীক্ষা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য মূল পরীক্ষাটিই হয় পৃথিবীর প্রায় সবদেশে দ্বাদশ শ্রেণী শেষে, আমাদের দেশে যেটি এইচএসসি বা সমমান। অধিকাংশ দেশেই শ্রেণীকক্ষে পাঠদানের ধারাবাহিক মূল্যায়নের ভিত্তিতেই পরবর্তী ক্লাসে শিক্ষার্থীরা উত্তীর্ণ হয়। বই পুস্তক, শিক্ষাসামগ্রী স্কুলের নির্দিষ্ট লকারেই রেখে আসে শিক্ষার্থীরা। হোমওয়ার্ক বলতে কিছু থাকে না। কোচিং, প্রাইভেট শিক্ষক, নোটবই, গাইডবই অবান্তর। তাছাড়া রাষ্ট্রগুলোতে শিক্ষাক্ষেত্রে অর্থবরাদ্দ, নীতিমালা প্রণয়ন-সংস্কার হয় চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে।

আমাদের দেশে শিক্ষাখাতে বাজেট বরাদ্দ ২ থেকে ৩ শতাংশ মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। অথচ এই উপমহাদেশেরই উন্নয়নশীল কয়েকটি দেশ যেমন মালয়েশিয়ায় ৬ দশমিক ২ শতাংশ, শ্রীলংকায় ৬ দশমিক ২ শতাংশ, মালদ্বীপে ৮ শতাংশ শিক্ষাখাতের জন্য বরাদ্দ থাকে তাদের জাতীয় বাজেটে। আরো বহুদেশেই শিক্ষাখাতের জন্য উচ্চ হারের বাজেট বরাদ্দ রয়েছে। যেসব দেশ শিক্ষায় অগ্রসর তাদের মূলমন্ত্র ‘শিক্ষাই সর্বোত্তম বিনিয়োগ’। যে কোন দেশেরই শিক্ষা বিভাগ সুসংগঠিত ও সফল হলে অন্যসব বিভাগ সহজেই সফলতার উদাহরণ সৃষ্টি করে। আমরা এরুপ মৌলিক ধারণা থেকে বেশ পিছিয়েই বলা চলে।

তবে আমাদের দেশে শিক্ষাক্ষেত্রে দু’টি ভালো কাজ হয়েছে- একটি পাবলিক পরীক্ষায় নকল বন্ধ হয়েছে, অন্যটি প্রতিবছরের শুরুর দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই তুলে দেওয়ার সরকারী ব্যবস্থাপনা সফলতার সাথে কার্যকর হয়েছে। কিন্তু এগুলোর সুফল শিক্ষার্থী, প্রজন্ম, সমাজ, রাষ্ট্র-জাতি পাচ্ছে না অন্যসব বিরাজমান ভুল ব্যবস্থাসমূহের কারনে।

দেশে সংখ্যাগত বা পরিমাণগত ভাবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাসনদধারী শিক্ষিত জনগোষ্ঠি বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) ও অন্যান্য সূত্র অনুযায়ী দেশে প্রাথমিকে ২ কোটির অধিক, মাধ্যমিকে ১ কোটির কাছাকাছি শিক্ষার্থী রয়েছে। উচ্চমাধ্যমিক, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা, ইংরেজী বা বিদেশী কারিকুলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা সহ দেশে বর্তমানে মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় চার কোটি।এরুপ সংখ্যার বিশালত্ব অবশ্যই ভালোদিক। কিন্তু সামগ্রিক শিক্ষার গুণগত ইতিবাচক প্রভাব সমাজে অনুপস্থিত। বরং বহুক্ষেত্রেই পূর্বের তুলনায় দৈন্যতাই প্রকট। শিক্ষাব্যবস্থায় সংকট রয়ে গেছে বলেই জ্ঞান ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন প্রকৃত শিক্ষা থেকে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে।এতসব পাবলিক পরীক্ষার ছড়াছড়িতে আর জিপিএ অর্জনের প্রতিযোগিতায় শিক্ষা অন্তসারশূন্য ও অপরিণামদর্শী এক অন্যায্য বাণিজ্যিক রূপ ধারণ করেছে। দেশে পাবলিক পরীক্ষার ব্যাপকতায় সারাবছর পরীক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের ব্যস্ততা কেবলই পরীক্ষামুখী। সমাজে এর বহুমুখী প্রভাব পড়েছে। একটি প্রশ্নবিদ্ধ মানদণ্ড ‘জিপিএ’ প্রাপ্তির প্রতিযোগিতায় ঠেলে দেয়া হয়েছে শিশুশিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের। ৫ম শ্রেণীর বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় তৃতীয় শ্রেণী বা তার পূর্ব থেকেই। কার্যত এই প্রস্তুতিতে কোচিং, নোট বই, গাইড বইয়ের অনৈতিক বাজারমূখী কথিত পড়ালেখার নামে সূর্যোদয় থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত শিশু ও অভিভাবকদেরকে নাভিশ্বাস দৌঁড়ে ফেলে দেয়া হয়েছে। এই দৌঁড় আর থামে না, কারণ ধারাবাহিকভাবে ৮ম, এসএসসি, এইচএসসি’র বোর্ড পরীক্ষার কারণে ও এগুলোতে জিপিএ প্রাপ্তির পারিবারিক-সামাজিক ‘মর্যাদা’র বিরতিহীন প্রতিযোগিতায় থাকতে হচ্ছে সকলকে। অভিভাবকরা বিশেষ করে মায়েরা শিশুদের পেছনে দিনরাত ছোটাছুটি ও নজরদারিতে ব্যস্ত। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটির সিংহভাগ শ্রম ও অর্থ যায় শিশুর এই প্রতিযোগিতার ব্যবস্থার যোগান দিতে। এতে করে শিশুটির পাশাপাশি অভিভাবকদের খেয়ে না খেয়ে ছুটতে হয় এসবের পেছনে। সকলের লক্ষ্য জিপিএ ৫ অর্জন। এই পরিস্থিতি নিয়ে দেশের বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীও বলেছেন- ‘আমাদের জিপিএ-৫ এর উন্মাদনা শিশুদের, শিক্ষার্থীদের পুরো শিক্ষা জীবনটাকে একেবারে নিরানন্দ করে ফেলেছে, বিষিয়ে দিচ্ছে। ..জিপিএ-৫ জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না।’ তিনি জোর দিয়েছেন, ‘শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে শিখছে কিনা,প্রতিভা বিকাশের সুযোগ বা ক্ষেত্র তৈরি করা যাচ্ছে কিনা’ এসবের উপর।

‘শ্রেণীকক্ষকেন্দ্রিক ধারাবাহিক মূল্যায়ন’ প্রথা বিলুপ্তির পথে। নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ গড়ার পথ ক্ষীণ হয়ে হয়ে গেছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষা ও শিক্ষকের গড়পড়তা ব্যবস্থাটা বাজারচলতি সস্তা পণ্য বেচাকেনার অনুরুপ হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষকরা এখন খুব ব্যস্ত। পাস করিয়ে দেয়ার চাপ, জিপিএ ৫ পাইয়ে দেয়ার চাপ, কোচিং সেন্টারে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের ‘নির্ভুল’ সাজেশন দেয়ার ‘আধ্মাত্বিক’ গুণাবলি ধরে রাখার কারিশমা এখন শিক্ষকদের রপ্ত করতে হয়! অভিযোগ আছে, ভালো রেজাল্ট করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং সেন্টার থেকে প্রাপ্ত প্রশ্নপত্র প্রায় হুবহু পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নের সঙ্গে মিলে যায়। ফলে সেসব শিক্ষকদের কোচিং এর বাজার বেশ রমরমা। শিক্ষকদের এখন আর ক্লাসরুমে পাঠ্যবই পড়ানো, নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষাদানের প্রয়োজনও হয় না, আগ্রহও নেই। কারণ জিপিএ-৫ গন্তব্যমুখী রেজাল্টটাই মূখ্য।

‘গণস্বাক্ষরতা অভিযান’ একটি দৈবচয়ন জরিপে দেখিয়েছে ৭০ ভাগ শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষকদেরকে মডেল মনে করে না। অপরদিকে ৫০ ভাগ শিক্ষকগণও নিজেদেরকেই তাদের শিক্ষার্থীদের জন্য মডেল ভাবেন না। শিক্ষার পদ্ধতিগত অবনমন ,শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্ককে ‘শিক্ষার্থী’ আর ‘পরীক্ষক’ শব্দযুগলে অভিহিত করেছেন শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী। তিনি আক্ষেপ করেছেন—‘ছাত্র- শিক্ষকের সম্পর্কের স্বর্ণযুগটা নেই। নেই পিতা মাতা তুল্য সেই শ্রদ্ধা-শাসন-স্নেহ-নৈতিকতার মিশ্র ও সুন্দর সম্পর্ক !’

জ্ঞানার্জন ও ন্যুনতম নৈতিক মূল্যবোধবিহীন শিক্ষাব্যবস্থাকে রাষ্ট্রীয় অনুমোদন দেয়া হয়েছে ও এটাকেই ‘সাফল্যের’ মানদণ্ড ধরে কথিত লোকপ্রিয়তার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এসব হয়েছে মনে হবে অলক্ষ্যে।কিন্তু তা নয়, হয়েছে সযতনে সকলকে কৌশলে যুক্ত করেই দেশের অপরাপর অন্যায্যতার মতোই। জ্ঞানার্জন ব্যতিরেকে শিক্ষার এরূপ পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরেটাস অধ্যাপক বরেণ্য শিক্ষাবিদ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছিলেন -‘এই মনোভাব এখন সর্বত্র বিরাজমান-জ্ঞানের দরকার নেই, ভালো ফল পেলেই হলো। জ্ঞানের চর্চা কমে গেছে, কারণ তার বাজার দর কমে গেছে।’

বাজার অর্থনীতির দানবীয় বিকাশে নৈতিক মূল্যবোধে উত্তীর্ণ মানুষ হওয়ার সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ পৃথিবীজুড়েই সংকুচিত হয়ে গেছে। শিক্ষা পণ্য হয়ে যাচ্ছে সর্বত্রই। কিন্তু আমাদের অবস্থা অন্যদের মতোও নয়। আমাদের ‘শিক্ষা পণ্যটির’ বাজারজাত করণের ব্যবস্থাটিও স্থুল ও ফাঁকিতে ভরা। ইচ্ছাকৃতভাবে ক্লাসে পড়ানো হয় না, কোচিং এ যেতে বাধ্য করা হয়। টেক্সট বুক, নোটবুক,গাইডবই, হোমওয়ার্ক, পাবলিক পরীক্ষা,জিপিএ এর মোহ সবমিলিয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মাধ্যমে সহজ স্বাভাবিক জ্ঞানার্জন প্রায় অসম্ভব হয়ে গেছে। শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য শুধুই ‘জিপিএ তে ভালো করতে হবে’। এই জিপিএ নিয়ে ড: জাফর ইকবাল এর মন্তব্য — ‘অনেক শিক্ষার্থীর ধারণা পড়াশোনা করে যদি গোল্ডেন জিপিএ-৫ না পাওয়া যায় তাহলে জীবন বৃথা’। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেছেন—‘লেখাপড়ার সাথে জিপিএ ৫ এর কোনো সম্পর্ক নেই‘।

শ্রেণীকক্ষে পাঠদানের সংস্কৃতি রহিত করে, ইতিবাচক সংস্কৃতির ও উন্নত নৈতিকতা-মূল্যবোধের শিক্ষা প্রায় বন্ধ করে শুধুই পরীক্ষানির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার কুফল জাতি এখনই পাচ্ছে।

অবক্ষয়ের বিস্তৃত চেহারা চারিদিকে প্রকটভাবে দৃশ্যমান। সমাজের নানাবিধ অন্যায়, অসংগতি, অনাচার বিস্তৃতরুপ ধারণ করেছে প্রকৃত শিক্ষার অভাবে।

বৈষম্য ও অন্যায্যতা কমাতে হলে প্রকৃতশিক্ষার উপর জোর দিতে হবে। শুধুই পরীক্ষা নির্ভর শিক্ষা পদ্ধতি থেকে জাতিকে মুক্তি দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের শ্রেণীকক্ষ ভিত্তিক পাঠদান ও নৈতিক শিক্ষার উপর গুরুত্ব দিতে হবে। নিজেদের সংস্কৃতি, সামাজিক মূল্যবোধের রুচিসম্মত শিক্ষা পরিবার ও শিক্ষালয় থেকে আহরণের ব্যবস্থা করতে হবে। বিদ্যমান স্থুল জিপিএ প্রাপ্তির দৌঁড় থেকে শিক্ষার্থীদের মুক্ত করার উপায় বের করতে হবে। শ্রেণীকক্ষেই পাঠদান, মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর মেধা বিকাশের চর্চা নিশ্চিত করতে হবে। শ্রেণীকক্ষে পাঠদান নিশ্চিত করা হলে পিইসি ও জেএসসি’র মতো চাপিয়ে দেয়া পাবলিক পরীক্ষার প্রয়োজন হবে না। নোটবই, গাইডবই, কোচিং এর মতো অন্যায় ব্যবস্থাগুলো বন্ধ করার কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে যথাসম্ভব দ্রুততার সঙ্গে। দেশের এই যে বিপুল সংখ্যার শিক্ষার্থী তাদেরকে সঠিক পথ দেখানোর মূল দায়ীত্ব রাষ্ট্রের। এই দায়ীত্ব পালনে কার্যকরী নীতিমালা প্রয়োজন। যাতে করে শিক্ষার্থীরা জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে, নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হয়ে, ভবিষ্যত বিনির্মাণে, জাতি গঠনে কাজে লাগতে পারে।

মোতাহার হোসেন চৌধুরী
[email protected]

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন