বুধবার | নভেম্বর ২৫, ২০২০ | ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

দেশের খবর

আরবের ত্বীন এখন চাষ হচ্ছে গাজীপুরে

এসএম মাহফুল হাসান হান্নান, গাজীপুর

আরব দেশগুলোয় জনপ্রিয় একটি ফল ত্বীন। মিষ্টি স্বাদের কারণে শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সের মানুষ ফলটি পছন্দ করে। পবিত্র কুরআনেও মরুভূমির মিষ্টি ফল ত্বীনের উল্লেখ আছে। ফলটি এখন আরবের সীমা ছাড়িয়ে চলে এসেছে বাংলাদেশে। ঢাকার অদূরে গাজীপুরে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে মরুর ফল ত্বীন। দেশের বাজারে দিন দিন ফলটির চাহিদা বাড়ছে। আপাতত দেশে বিক্রি হলেও গাজীপুরের বাগানে উৎপাদিত ত্বীন রফতানির চিন্তাভাবনা করছেন উদ্যোক্তারা। ফলে সম্ভাবনাময় রফতানি পণ্যের তালিকায় ত্বীন অচিরেই জায়গা করে নেবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার বারতোপা গ্রামে মডার্ন এগ্রো ফার্ম অ্যান্ড নিউট্রিশন নামে একটি ফার্ম ত্বীন ফলের চাষ করছে। এটি আয়তনের দিক থেকে দেশের সবচেয়ে বড় বাগান বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় ত্বীন ফল চারা বিক্রি হচ্ছে। দিন দিন চাহিদা বাড়ার কারণে ফার্ম কর্তৃপক্ষ ফার্মটির সম্প্রসারণ করে ফল গাছের চারা উৎপাদন বৃদ্ধিতে কাজ করছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা নারী উদ্যোক্তা রুমা আক্তার বলেন, ২০১৪-১৫ সালে তিনি থাইল্যান্ড থেকে গাছ এবং তুরস্ক থেকে ত্বীন গাছের কাটিং নিয়ে আসেন। পরে নিজস্ব প্রোপাগেশন সেন্টারে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা আর্দ্রতা বজায় রেখে বারতোপা এলাকায় ২০১৭ সালে বাণিজ্যিকভাবে চারা উৎপাদন আবাদ শুরু করা হয়। প্রতিটি গাছ থেকে প্রথম বছরে এক কেজি, দ্বিতীয় বছরে -১১ কেজি, তৃতীয় বছরে ২৫ কেজি পর্যন্ত ফল ধরে। এভাবে ক্রমবর্ধিত হারে একটানা ৩৪ বছর পর্যন্ত ফল দেয় গাছ। গাছটির আয়ু প্রায় ১০০ বছর। তিন মাসের মধ্যেই শতভাগ ফলন আসে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মাটি আবহাওয়ার সঙ্গে এখন মানিয়ে নিয়েছে ত্বীন। ত্বীন কোনো রাসায়নিক সার ছাড়াই, মাটিতে জৈব কম্পোজড সার মিশিয়ে রোদে মাঠে ছাদে টবে লাগিয়ে ফল উৎপাদনে সাফল্য পাওয়া গেছে। তাই ছাদ বাগানীদের মধ্যে বেশ আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। দেশে ছাড়াও বিদেশে ফলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এরই মধ্যে ভারত জাপান থেকে আমাদের কাছে ত্বীন ফলের চাহিদার কথা জানানো হয়েছে। ত্বীন শুষ্ক শীতপ্রধান দেশে চাষ হলেও আমরা প্রমাণ করেছি নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুতেও ৩৬৫ দিন ফল উৎপাদন সম্ভব। বিদেশে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম। ফল আমাদের দেশে সারা বছর পুষ্টি ফলের চাহিদা পূরণ করে বিদেশে রফতানি করা সম্ভব।

প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয় ব্যবস্থাপক মো. পারভেজ আলম বাবু বলেন, বারতোপা এলাকায় সাত বিঘা জমিতে ত্বীন ফলের চাষ করছেন। মাদার প্লান্ট (মূল গাছ) থেকে তৈরি করা কলমের তিন মাস বয়স থেকে ফল দেয়া শুরু করে। ফল ধরার এক সপ্তাহের মধ্যে খাওয়ার উপযোগী হয়। প্রতিটি গাছে ন্যূনতম ৭০-৮০টি ফল ধরে। সারা বছরই গাছ থেকে ফল পাওয়া যায়। প্রতিটি গাছ -৩০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। খোলা মাঠ ছাড়াও টবের মধ্যে ছাদ বাগানে ত্বীন চাষ করে ভালো ফলন পাওয়া গেছে। এখান থেকে কলম তৈরি করে চাষীদের মধ্যে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিদিন চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ঠাকুরগাঁও, বগুড়া যশোরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ফল বিক্রেতাসহ ভোজন রসিক মানুষ এখান থেকে ত্বীন কিনে নিয়ে যায়। প্রতিদিন ১৫-১৬ কেজি ত্বীন বিক্রি হচ্ছে। এর প্রতি কেজির মূল্য হাজার টাকা। ফলের পাশাপাশি শৌখিন চাষীরা চারা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর গাজীপুর কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মাহবুব আলম জানান, আয়তনের দিক থেকে দেশের সব থেকে বড় ত্বীন ফলের প্রজেক্টটি শ্রীপুরে। বাণিজ্যিকভাবে এত বড় পরিসরে ত্বীন চাষ দেশের কোথাও করা হয়নি। আমরা প্রকল্পটি পরিদর্শন করে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিচ্ছি। রোগবালাই নেই বললেই চলে। প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে ত্বীন ফলের চাষ কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারলে অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হবে।

তিনি বলেন, ব্রেস্ট ক্যান্সার রোধে ফল খুবই উপকারী। এছাড়া নানা রোগ নিরাময়ে বিশেষ করে উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ত্বীন। এটি চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য হাঁপানি রোগ নিরাময়েও সহায়তা করে। মানসিক ক্লান্তি দূর করে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন