রবিবার | নভেম্বর ২৯, ২০২০ | ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

শিল্প বাণিজ্য

ওয়েবিনারে ডিসিসিআই সভাপতি

বাংলাদেশের শিল্প খাতে দক্ষ লোকবলের প্রচুর অভাব

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত নতুন কর্মসংস্থান এবং দক্ষতা প্রেক্ষিত ভবিষ্যৎ ব্যবসা-বাণিজ্য শীর্ষক ওয়েবিনারে স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদ বলেন, জনসংখ্যার আধিক্য থাকলেও বাংলাদেশের শিল্প খাতে দক্ষ  লোকবলের প্রচুর অভাব রয়েছে।

গতকাল অনুষ্ঠিত এই ওয়েবিনারে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম প্রধান অতিথি ছিলেন। এছাড়া জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) দুলাল কৃষ্ণ সাহা, বাংলাদেশে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জি, ইউনিডোর আবাসিক প্রতিনিধি জাকি উজ জামান এবং বাংলাদেশস্থ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) আবাসিক প্রতিনিধি তুমো পুটিয়ানেন বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন। ঢাকা চেম্বারের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি এনকেএ মবিন এফসিএ  ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করেন।

স্বাগত বক্তব্যে শামস মাহমুদ বলেন, আমাদের তরুণ জনগোষ্ঠীর প্রায় ১২ দশমিক শতাংশ বেকার। বিশ্বব্যাংকের হিসাবমতে, প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাবে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় শিক্ষা কার্যক্রম শেষ করার পর প্রায় ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী বেকারত্ব সমস্যায় ভুগছে। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এবং প্রযুক্তির উদ্ভাবনের ফলে দক্ষতা বৈশ্বিক শ্রমবাজারের গতি-প্রকৃতি প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে।

অবস্থার আলোকে প্রথাগত দক্ষতার পাশাপাশি নতুন পরিস্থিতি বাজার ব্যবস্থাপনা চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বাংলাদেশকে এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং এর যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর ডিসিসিআই সভাপতি জোরারোপ করেন। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে আমাদের কর্মরত মোট জনগোষ্ঠীর ৫০ শতাংশকে পূর্ণদক্ষ করে তুলতে হবে।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি শিল্প খাতের প্রয়োজন অনুযায়ী দেশের শিক্ষা কারিকুলাম যুগোপযোগীকরণের প্রস্তাব করেন এবং লক্ষ্যে শিল্প শিক্ষা খাতের সমন্বয় আরো বাড়ানোর প্রস্তাব করেন।     

প্রধান অতিথি আসাদুল ইসলাম বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রথম থেকেই যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি সরকার স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেফলে আমাদের অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্থিতিশীলতার সঙ্গে অগ্রসরমাণ হচ্ছে।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের নীতি সহায়তা প্রদান নিয়ে নতুন আঙ্গিকে ভাবতে হবে বলে তিনি মতপ্রকাশ করেন। বৈশ্বিক প্রযুক্তি বিপ্লবকে মেনে নিয়ে এটির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতকরণে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণে সরকার বেসরকারি খাতকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে আসাদুল ইসলাম বলেন, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা না গেলে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে টেকসই করা সম্ভব নয়।

দুলাল কৃষ্ণ সাহা দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে বেসরকারি খাত এবং এনজিওগুলোকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

সুদীপ্ত মুখার্জি বলেন, বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা থাকলেও দক্ষ জনবল  তৈরিতে যুগোপযোগী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় বেশ পিছিয়ে রয়েছে, যা অত্যন্ত ভাবনার বিষয় এবং অবস্থা উত্তরণে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারকে একযোগ কাজ করতে হবে।

জাকি উজ জামান বলেন, বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের বহুমুখীকরণ করা সম্ভব হলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি রফতানির বাজার সম্প্রসারণের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে।

তুমো পুটিয়ানেন বলেন, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি, শ্রমবাজারে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং ভবিষ্যৎ প্রয়োজনের নিরিখে শ্রম খাতের আধুনিকায়ন অত্যন্ত জরুরি।

ওয়েবিনারের মূল বক্তব্যে পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান . এম মাশরুর রিয়াজ বলেন, বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রতি বছর দশমিক মিলিয়ন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হয়, যা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং একটি বিষয়।

গ্রামীণফোন লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান, অ্যাঙ্করলেস বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সহযোগী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাহাত আহামদ এবং জেনারেশন আনলিমিটেড, ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ম্যারিয়ান ওহলার্স অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া ডিসিসিআই সহসভাপতি মোহাম্মদ বাশিরউদ্দিন এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরাও অংশ নেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন