রবিবার | নভেম্বর ২৯, ২০২০ | ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

টেলিকম ও প্রযুক্তি

গুগল, ফেসবুক-টুইটারের পাকিস্তান ছাড়ার হুমকি

বণিক বার্তা ডেস্ক

গুগল, ফেসবুক টুইটারসহ একগুচ্ছ বৈশ্বিক ইন্টারনেট কোম্পানি পাকিস্তান ছাড়ার হুমকি দিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে ডিজিটাল কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সীমাহীন ক্ষমতা প্রদান এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পরিচালনাসংক্রান্ত নতুন নিয়ম জারির পরদিন ইন্টারনেটভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর পাকিস্তান ছাড়ার হুমকির তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, পাকিস্তানের সেন্সরশিপ আইনের আওতায় তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হলে দেশটিতে কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হবে। খবর টেকক্রাঞ্চ।

গত সপ্তাহের শেষদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান পাকিস্তান টেলিকমিউনিকেশন্স অথরিটিকে (পিটিএ) ক্ষতিকর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অস্থিরতা সৃষ্টিকারক ডিজিটাল কনটেন্ট বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে সরিয়ে ফেলা এবং ব্লক করার ক্ষমতা প্রদান করে। পাশাপাশি সরকারবিরোধী মন্তব্য, পাকিস্তানের অখণ্ডতা, সুরক্ষা প্রতিরক্ষার জন্য হুমকিস্বরূপ ডিজিটাল কনটেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা দেয়া হয় পিটিএর হাতে।

বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এশিয়া ইন্টারনেট কোয়ালিশন (এআইসি) নামের একটি গ্রুপের মাধ্যমে জানায়, তারা পাকিস্তানের নতুন সেন্সরশিপ আইন সম্পর্কে সতর্ক রয়েছে। আইন বৃহৎ ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে টার্গেট করে কার্যকর করা হয়েছে, যা মুক্ত ইন্টারনেট ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সমূহ সুযোগ রয়েছে। পাকিস্তানের ওই নতুন সেন্সরশিপ আইনটির নাম হলো রিমুভাল অ্যান্ড ব্লকিং অব আনলফুল অনলাইন কনটেন্ট রুলস ২০২০, যা পাকিস্তানের প্রিভেনশন অব ইলেকট্রনিক ক্রাইমস অ্যাক্টের ২০১৬ (পেকা) অধীনে গঠন করা হয়েছে। এআইসির পক্ষ থেকে ইন্টারনেট কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্য করে নতুন আইন তৈরি কার্যকর করার বিষয়ে সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুর দিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বোর্ডভিত্তিক পরামর্শ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অনলাইনে ক্ষতিকর কনটেন্ট বিষয়ে সিটিজেন প্রোটেকশন রুল ২০২০ জারির সময় বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে সমালোচনার মুখে তিনি ওই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার সে প্রতিশ্রুতি রাখেনি বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এআইসি।

পাকিস্তানের নতুন সেন্সরশিপ আইন অনুযায়ী, ইন্টারনেটভিত্তিক সেবাদাতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থাকে তথ্য দিতে হবে এবং সে তথ্য পাঠযোগ্য বোধগম্য হতে হবে। এর মধ্যে সাবস্ক্রাইবারদের তথ্য, পাঠক বা দর্শনার্থীর তথ্য, কনটেন্ট তথ্য বা অন্য যেকোনো তথ্য থাকতে পারে।

পাকিস্তান সরকারের নতুন নিয়ম জারির প্রতিক্রিয়ায় এআইসি জানায়, পাকিস্তান যদি আকর্ষণীয় প্রযুক্তি বিনিয়োগ পেতে চায় এবং ডিজিটাল রূপান্তরের লক্ষ্য অর্জন করতে চায়, তবে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের সঙ্গে বাস্তবে কাজের পাশাপাশি ইন্টারনেট দুনিয়ায় সুবিধাবঞ্চিত করার নিয়ম দূর করতে হবে।

গুগল, ফেসবুক টুইটারের পাশাপাশি যে একগুচ্ছ ইন্টারনেটভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান পাকিস্তান ছাড়ার হুমকি দিয়েছে, সে তালিকায় রয়েছে আইফোন নির্মাতা অ্যাপল, বৈশ্বিক -কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন, লিংকডইন, এসএপি, এক্সপেডিয়া গ্রুপ, ইয়াহু, এয়ারবিএনবি, গ্র্যাব, রাকুতেন, বুকিং ডটকম, লাইন ক্লাউডফ্লেয়ার।

ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধি হিসেবে এআইসি জানায়, পাকিস্তানের নতুন সেন্সরশিপ আইন ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পাকিস্তানিদের মধ্যে সেবা সরবরাহ এবং দেশটিতে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন করে তুলবে। বাস্তবে এমন হলে তা পাকিস্তানের তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকার কারণ হবে।

পাকিস্তানের নতুন সেন্সরশিপ আইন অনুযায়ী, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নোটিস পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের প্লাটফর্ম থেকে বেআইনি কনটেন্ট সরিয়ে ফেলা এবং ব্লক করতে ব্যর্থ হলে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে ৩১ লাখ ৪০ হাজার ডলার জরিমানা করতে পারবে। পাকিস্তানেই রকম আইন প্রথম নয়। এর আগে ভারত সরকার এমন আইন কার্যকর করেছিল।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্যে, অখণ্ড ইন্টারনেট ব্যবস্থার সুযোগ-সুবিধা বিশ্বের সব দেশই দেখতে পারছে। ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানগুলো জোটবদ্ধ হয়ে নেতিবাচক আইনের কারণে কোনো দেশ থেকে কার্যক্রম গুটিয়ে নিলে তা সেদেশের জন্য ইতিবাচক হবে না। অখণ্ড ইন্টারনেট ব্যবস্থা বিভক্ত হয়ে গেলে সুযোগ-সুবিধাও বিভক্ত হওয়ার পাশাপাশি সীমাবদ্ধতার মধ্যে চলে আসবে। বৈশ্বিক অর্থনীতি বিষয়ে আগ্রহী অনেক দেশ এখনো অখণ্ড ইন্টারনেট ব্যবস্থার মধ্যে থাকলেও তারা বসে নেই। অনেক দেশ এখন জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ইন্টারনেট ব্যবস্থার ওপর কঠোর নজরদারি প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন