রবিবার | নভেম্বর ২৯, ২০২০ | ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম

উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর প্রয়োজন ৮ হাজার কোটি ডলার

বণিক বার্তা ডেস্ক

নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে বৈশ্বিক উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো যে ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে আরো হাজার কোটি ডলার লাগবে। আন্তর্জাতিক আকাশ পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) শীর্ষ কর্মকর্তার বরাতে তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। খবর এএফপি।

আইএটিএর প্রধান আলেক্সান্দ্রে দো জুনিয়াক শুক্রবার লা ট্রিবিউনকে দেয়া সাক্ষাত্কারে বলেন, আগামী মাসগুলোয় শিল্পে আরো হাজার থেকে হাজার ডলার বা হাজার ৯০০ কোটি ইউরো থেকে হাজার ৭০০ কোটি ইউরো অতিরিক্ত তহবিল সরবরাহ করতে হবে। দ্বিতীয় দফায় নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ দেখা দেয়ায় বিভিন্ন দেশ যেখানে তাদের বিধিনিষেধ কঠিন করছে, সেখানে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো কীভাবে টিকে থাকবে!

লা ট্রিবিউনকে জুনিয়াক বলেন, অতিরিক্ত সহযোগিতা হিসেবে আগামী মাসগুলোয় উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর আনুমানিক হাজার থেকে হাজার কোটি ডলার ( হাজার ৯০০ থেকে হাজার ৭০০ কোটি ইউরো) লাগবে। অন্যথায় এগুলো টিকে থাকতে পারবে না।

নভেল করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে নেয়া লকডাউন সীমান্ত বন্ধে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিশ্বের সব উড়োজাহাজ সংস্থা। তবে একই সঙ্গে তারা বিভিন্ন দেশের সরকারগুলো থেকে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার কোটি ডলার সহায়তা পেয়েছে।

ফরাসি দৈনিকটিকে আইএটিএর প্রধান জানান, সংকট যত দীর্ঘায়িত হবে, বিভিন্ন উড়োজাহাজ সংস্থার দেউলিয়াত্বের ঝুঁকি বাড়বে। প্রায় ৪০টি উড়োজাহাজ সংস্থা খুবই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে এবং বিভিন্ন সরকারের দেউলিয়াত্ব সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় রয়েছে।

প্রথম দফায় কভিড-১৯ সংকটের সময় ভ্রমণে কঠোর বিধিনিষেধের কারণে অনেক উড়োজাহাজ সংস্থা তাদের প্রায় পুরো বিমানবহরই গ্রাউন্ডেড রেখেছিল। ঋণ, নগদ অর্থ সরবরাহ সাময়িক ছাঁটাইকৃত কর্মীদের সহায়তার মাধ্যমে অনেক সরকার এগিয়ে এসেছিল।

কয়েক মাসের লকডাউন শেষে বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার পর আকাশ পরিবহনে কিছুটা গতি এসেছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপের দেশগুলোসহ অনেক দেশে নতুন করে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধিতে ফের সেখানে শ্লথগতি দেখা দিয়েছে।

আইএটিএর পূর্বাভাস, ২০২০ সালে বৈশ্বিক আকাশ পরিবহন ৬৬ শতাংশ কমবে। আকাশপথে ভ্রমণ ২০১৯ সালের মাত্রায় পৌঁছতে অন্তত ২০২৪ সাল লেগে যাবে বলে মনে করছে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর বৈশ্বিক তদারকি প্রতিষ্ঠান। ২০২১ সালের মাঝামাঝিতে সবার জন্য টিকা সরবরাহ নিশ্চিত হবে রকম আশাবাদের পরিপ্রেক্ষিতে এই পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল।

চলতি বছরে আকাশসেবা খাতের আয় ৪১ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে দাঁড়াতে পারে, যা ২০১৯ সালের অর্ধেকের সমান।

নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপে চলতি বছর উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো ১০ হাজার কোটি ডলার লোকসান গুনবে বলে আশঙ্কা দো জুনিয়াকের। এর আগে যেখানে লোকসানের পূর্বাভাস ছিল হাজার ৭০০ কোটি ডলার।

বিশ্বব্যাপী ২৯০টি উড়োজাহাজ সংস্থার প্রতিনিধির সঙ্গে বার্ষিক বৈঠকের আগে দেয়া সাক্ষাত্কারে মন্তব্য করেন জুনিয়াক।

সংকটের ফলে আকাশসেবা খাত কি বৃহত্তর সমন্বয়ের দিকে যাবে প্রশ্নের জবাবে দো জুনিয়াক বলেন, এমনটা হতে গেলে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোকে একে অন্যকে কিনে নিতে হবে। কিন্তু বিদ্যমান সংকটে সব উড়োজাহাজ সংস্থাই অস্তিত্বের লড়াইয়ে আছে। মুহূর্তে অধিগ্রহণ একীভবনের জন্য অর্থ ব্যয় করবে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা হাতেগোনা। এর মধ্যে বিভিন্ন উড়োজাহাজ সংস্থা অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। বৃহৎ বৈশ্বিক উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর চেয়ে স্থানীয় ছোট উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো বরং এখন তুলনামূলক ভালো ব্যবসা করছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন