বুধবার | নভেম্বর ২৫, ২০২০ | ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

কর ফাঁকি

বছরে ৪৩ হাজার কোটি ডলার খোয়াচ্ছে বিশ্ব

বণিক বার্তা ডেস্ক

বিভিন্ন করস্বর্গে পাঠানোর ফলে বিশ্ব প্রতি বছর ৪২ হাজার ৭০০ কোটি ডলার খোয়াচ্ছে বিশ্ব। ট্যাক্স জাস্টিস নেটওয়ার্ক (টিজেএন) কর্তৃক শুক্রবার প্রকাশিত উপাত্তে তথ্য উঠে এসেছে। খবর এএফপি।

বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন উপাত্ত সংগ্রহ করে প্রথমবারের মতো গবেষণার বরাতে টিজেএন এক বিবৃতিতে জানায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যেখানে কভিড-১৯ মহামারীর সঙ্গে লড়াই করছে, সেখানে অনেকে কানাগলি দিয়ে করস্বর্গে শতকোটি ডলার চলে যাচ্ছে।

বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার ছাতা সংগঠন হিসেবে কাজ করছে নেটওয়ার্কটি। তারা প্যারিসভিত্তিক অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কোঅপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি) থেকে উপাত্ত সংগ্রহ করেছে। একই সঙ্গে তারা ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল সেটলমেন্টস থেকে ২০১৮ সালের সংগৃহীত উপাত্ত মূল্যায়ন করেছে তারা।

টিজেএন তাদের গবেষণার উপসংহারে বলেন, আন্তর্জাতিক করপোরেট কর এবং ব্যক্তিগত কর ফাঁকির কারণে বিভিন্ন দেশ প্রতি বছর ৪২ হাজার ৭০০ কোটি ডলার খোয়াচ্ছে। তারা বলছে, যে পরিমাণ অর্থ পাচার হচ্ছে, তা বিশ্বের কোটি ৪০ লাখ নার্সের বেতনের সমপরিমাণ।

টিজেএনের হিসাবে, বিভিন্ন কোম্পানি যে পরিমাণ কর ফাঁকি দিচ্ছে, তার পরিমাণ হচ্ছে ২৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। অন্যদিকে বিভিন্ন ব্যক্তি যে কর ফাঁকি দিয়েছে, তার পরিমাণ ১৮ হাজার ২০০ কোটি ডলার।

গবেষণার মাধ্যমে দেখা গেছে, বহুজাতিক করপোরেশনগুলো করস্বর্গের মাধ্যমে দশমিক ৩৮ ট্রিলিয়ন ডলার মুনাফা পাচার করছে। বিভিন্ন করস্বর্গে ব্যক্তিগত পর্যায়ের ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদ রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি কর ফাঁকির শিকার হচ্ছে ইউরোপ উত্তর আমেরিকার সমৃদ্ধ দেশগুলো। কর ফাঁকির সবচেয়ে বেশি অর্থ জমা হয়েছে যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণাধীন দ্বীপ কাইম্যান দ্বীপপুঞ্জে। অন্যান্য ব্রিটিশ ওভারসিস দ্বীপপুঞ্জের পাশাপাশি শীর্ষ করস্বর্গের মধ্যে রয়েছে নেদারল্যান্ডস, লুক্সেমবার্গ। এছাড়া নিম্ন করের মার্কিন রাজ্য ডেলাওয়ারের পাশাপাশি হংকংয়েও সেগুলো জমা হচ্ছে।

টিজেএনের শীর্ষ নির্বাহী অ্যালেক্স কোবহাম বলেন, করপোরেট জায়ান্ট নেদারল্যান্ডস যুক্তরাজ্য নিয়ন্ত্রণাধীন করস্বর্গগুলোর চাপের কারণে আমাদের সরকারগুলো বৈশ্বিক কর ব্যবস্থায় ধনী করপোরেশন বিত্তশালী ব্যক্তিদের আকাঙ্ক্ষাকে আমাদের চেয়ে বেশি মূল্যায়ন করে।

তিনি আরো বলেন, মহামারীর সময়ে এটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে নৈরাজ্যজনক করনীতির কারণে আমরা কেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। কর ফাঁকিবাজদের সুবিধা দেয়ার যে নীতি সরকারগুলো অনুসরণ করে আসছে, তাতে সাধারণ মানুষ ভুগছে।

টিজেএনের গবেষণা প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়, মুহূর্তে বৈশ্বিক কর ব্যবস্থা আমাদের ঢেলে সাজাতে হবে। সেক্ষেত্রে আমাদের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য জীবিকার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। অল্প কিছু বৃহৎ করপোরেশন ব্যক্তির সুবিধা প্রদানের নীতি থেকে সরকার নীতিনির্ধারকদের সরে আসা উচিত। নভেল করোনাভাইরাস মহামারী আমাদের এটা দেখিয়ে দিচ্ছে, যে বিশাল পরিমাণ কর গায়েব হচ্ছে, তা দিয়ে অনেক সাধারণ মানুষের উপকার করা যেত।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন